জালে আটকেছেন চিদম্বরম, বিরোধীদের দীর্ঘ তালিকায় নেক্সট টার্গেট কে! বাড়ছে জল্পনা

0

মহানগর ওয়েবডেস্ক: ২০১৪ সালের মোদী সরকার ঠিক যেমনটা ছিল, ২০১৯ টাও যে তেমনই হবে তার কোনও মানে নেই। বরং বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসা মোদী২ আরও বেশি আক্রমণাত্মক আরও বেশি আগ্রাসী। দেশের বিরোধী শক্তিকে টক্কর দিয়ে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিতে সদা তৎপর। লোকসভা নির্বাচনের সময়ে শত চেষ্টা সত্ত্বেও মোদীর গায়ে একটিও আচড় কাটতে পারেনি বিরোধীরা। বিরোধীদের অভিযোগ সরকারের কোনও সিদ্ধান্তের সমালোচনা যখনই হয়েছে সমালোচনাকারীর টুটি চেপে ধরতে কার্পণ্য করেনি এই সরকার। দেশের অর্থনীতি ও ৩৭০ ধারা বিলোপ নিয়ে মুখ খোলার জন্যই আজ চিদম্বরমের হাত পা বেঁধে দিতে উঠে পড়ে লেগেছে সরকার। ব্যবহার করা হচ্ছে সিবিআই ইডিকে। আর যদি তাই হয়, তবে এই সরকারের পরবর্তি টার্গেট কে হবে তা নিয়ে রীতিমতো শঙ্কায় বিরোধী শিবির।

কারণ, বিরোধী শিবিরে একাধিক মামলায় অভিযুক্ত নেতা নেত্রীর সংখ্যাটা নেহাত কম নয়। বলতে গেলে কংগ্রেস থেকে শুরু করে সপা, বসপা, ডিএমকের মতো দল গুলির শীর্ষ নেতৃত্বের মাথায় যারা রয়েছেন তাঁদের বিরুদ্ধে রয়েছে ঝুড়ি ঝুড়ি অভিযোগ। যেমন সোনিয়া ও রাহুলের কথাই ধরা যাক। ন্যাশনাল হেরাল্ড দৈনিক পত্রিকার মালিকানা হস্তান্তর নিয়ে রয়েছে ব্যাপক দুর্নীতি। আর সেই মামলায় আদালতের খাঁড়া ঝুলছে গান্ধী পরিবারের এই দুই শীর্ষ স্থানীয়র ঘাড়ে। পাশাপাশি নিজের স্ত্রী সুনন্দা পুষ্করের রহস্যময় মৃত্যুতে অভিযোগের তির উঠেছিল সাংসদ শশী থারুরের বিরুদ্ধে। সেই মামলার জের আজও টেনে যেতে হচ্ছে তাঁকে। এছাড়া উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন দুই মুখ্যমন্ত্রী সপা প্রধান অখিলেশ যাদব ও বসপা নেত্রী মায়াবতীর বিরুদ্ধে তো অভিযোগ রয়েছে ঝুড়ি জুড়ি। একইদিনে ১৩টি খনির লাইসেন্স প্রদানের অভিযোগ রয়েছে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের মন্ত্রকের বিরুদ্ধে। নিয়ম বিরুদ্ধ এই কাণ্ড নিয়ে চলছে মামলা। আর মায়াবতীর বিরুদ্ধে তাজ করিডর, হাতির মূর্তি, ও আয়ের চেয়ে সঙ্গতিবিহীন অর্থ রাখার অভিযোগ রয়েছে। তালিকায় লালু জেলে থাকলেও তাঁর পুত্র কন্যা স্ত্রীর বিরুদ্ধে চলছে দুর্নীতি মামলা। বাদ নেই অন্ধ্রপ্রদেশের জগন মোহন রেড্ডি ডিএমকের কানিমোঝির মতো নেতারাও। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেও রয়েছে সিবিআই বা ইডির দায়ের করা মামলা। ফলে কার কপালে কখন শনি নেচে উঠবে সেই আশঙ্কাতেই দিন কাটছে বিরোধীদের।

এদিকে বিরোধীদের দাবি, বিরোধীদের চাপে রাখার সহজ পথ বেছে নিয়েছে মোদী ২ সরকার। কথা বললেই জুজু দেখানো হচ্ছে কেন্দ্রীয় এজেন্সির। তবে অন্যান্য বিরোধীরা চাপে থাকলেও এই দিক থেকে কিছুটা হলেও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দলের একাধিক নেতা নেত্রীর বিরুদ্ধে সারদা নারদার মামলা ঝুললেও এসব থেকে শত যোজন দূরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু মামলার নিরিখে কিছুটা কম হলেও তালিকায় একেবারে বাদ নেই বিজেপির নেতারাও। তালিকায় কর্ণাটকের ইয়েদুরাপ্পা, অসমের হেমন্ত বিশ্বশর্মা, বেল্লারির রেড্ডি ভাইয়েরা থাকলেও চাপ কিন্তু বেড়েছে শুধুই বিরোধীদের। আর তাই হয়ত বাড়ছে দল ত্যাগের হিড়িক। এমনটাই দাবি বিশেষজ্ঞদের। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন কেন্দ্রীয় এজেন্সিরে হাতে যে তালিকা রয়েছে তা উল্টে পাল্টে মোদী শাহ যেভাবে দেখছেন তাতে বিরোধীদের চাপ যে ক্রমশ বাড়ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here