ডেস্ক: পুরুলিয়ায় রাজনৈতিক হিংসার জেরে পরপর খুন হয়েছেন দুই বিজেপি কর্মী ত্রিলোচন মাহাতো ও দুলাল কুমার। রাজনীতির উর্দ্ধে উঠে এই ঘটনায় প্রতিবাদ মুখর হয়েছেন রাজ্য তথা গোটা দেশ। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ওই দুই জনের মৃতদেহের ছবি। বেলাগাম পরিস্থিতি আয়ত্বে আনতে এবার মাঠে নামল নবান্ন। পুরুলিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হল পুলিশ সুপার জয় বিশ্বাসকে। তাঁর বদলে সেখানে ক্ষমতায় আসছেন আকাশ মাগারিয়া।

উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহে পুরুলিয়াতে খুন হন মাত্র ১৯ বছর বয়সী বিজেপি কর্মী ত্রিলোচন মাহাতো। খুন করে তাঁকে গাছে ঝুলিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনার পর শনিবার ফের পুরুলিয়ার বলরামপুরে উদ্ধার হয় দুলাল কুমার (৩২) নামে আরও এক বিজেপি কর্মীর মৃতদেহ। একইরকমভাবে খুনের পর হাইটেনশন লাইনের পোলে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। ঘটনার জেরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ওই এলাকায়। ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে সিআইডিকে। এদিকে ওই এলাকার পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে বিজেপি নেতা মুকুল রায়কে ওই এলাকায় পাঠিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। এই খুনের প্রতিবাদে আগামীকাল ১২ ঘন্টার বনধের ডাক দিয়েছেন পুরুলিয়াবাসী।

এদিকে পরপর দুই বিজেপি কর্মীর মৃত্যুর পর এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। নদিয়ার কল্যাণীতে শনিবার দুপুরে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের এক সাংগঠনিক বৈঠক শেষে পার্থবাবু সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ‘পুরুলিয়া- বাঁকুড়া প্রভৃতি জেলায় বিজেপি ঝাড়খন্ড থেকে বজরংদল এবং মাওবাদীদের নিয়ে এসে একত্রিত করে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করতে চাইছে। কেন খুন হচ্ছে তার উত্তর ওদেরই দিতে হবে। বিজেপি নেতারা যে ভাষা ব্যবহার করছেন তা কোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয় দেয় না।’ একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পঞ্চায়েত নির্বাচনে পরাজিত হয়ে হতাশায় ভুগছেন বিজেপি নেতারা। পুরুলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনাতেও তাঁরা সিবিআই তদন্ত চেয়েছেন। মানুষ দুর্ঘটনায় মারা গেলেও এবার সিবিআই তদন্ত চাইবেন।’