ডেস্ক: নভেম্বরের নোটবন্দির কালোদিনে গোটা দেশ যখন টাকা জমা দেওয়ার মতো সমস্যায় জর্জরিত, ঠিক সেই সময় দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকা জমা পড়েছিল মোদী রাজ্য গুজরাতের আমেদাবাদে জেলা সমবায় ব্যাঙ্কে। নোটবন্দির প্রথম পাঁচদিনে এই ব্যাঙ্কে জমা করা টাকার পরিমান ছিল প্রায় ৭৪৫.৫৯ কোটি টাকা। তাৎপর্যপূর্ণভাবে ঠিক পাঁচদিনের মাথাতেই সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয়, সমবায় ব্যাঙ্কগুলিতে জমা করা যাবে না বাতিল ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট। টাকা জমা দেওয়া যাবে শুধুমাত্র ব্যাঙ্ক ও ডাকঘরে। সমবায় ব্যাঙ্কগুলিতে কালো টাকা সাদা করার সম্ভাবনা থাকতে পারে। কিন্তু বিষয়টি খবরের শিরোনামে আসার অন্যতম কারন, যেখানে আমেদাবাদে জেলা সমবায় ব্যাঙ্কে এই পাঁচদিনে যে বিপুল পরিমান টাকা জমা দেওয়া হয়েছিল সেই ব্যাঙ্কের ডিরেক্টর ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত সাহ। প্রশ্নটা উঠে আসছে এখানেই, সমবায় ব্যাঙ্কে যেখানে কালো টাকা সাদা হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিল কেন্দ্র, সেখানে অমিত সাহ পরিচালিত এই ব্যাঙ্কে জমা করা টাকার কতটা কালো ছিল আর কতটা সাদা?

সম্প্রতি, মুম্বইয়ের মনোরঞ্জন এস রায় নামে এক ব্যক্তির আরটিআইয়ের জবাবে গুজরাতের ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক ফর এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড চিপ জেনারেল ম্যানেজার যে তথ্য দিয়েছেন তা চোখ কপালে তুলে দেওয়ার মতই। জানা গিয়েছে, আমেদাবাদে জেলা সমবায় ব্যাঙ্ক যার ডিরেক্টর অমিত সাহ, এই ব্যাঙ্কে নোটবন্দির পর জমা করা টাকার পরিমান ৭৪৫.৫৯ কোটি টাকা। যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০০০ সালে এই ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান ছিলেন অমিত সাহ। এরপর ঠিক দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছে গুজরাতের আর একটি জেলা সমবায় ব্যাঙ্ক। যার নাম রাজকোট জেলা সমবায় ব্যাঙ্ক এই ব্যাঙ্কে জমা করা বাতিল নোটের পরিমান ৬৯৩.১৯ কোটি টাকা। এই ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যানও কম প্রভাবশালী নয়। বর্তমানে গুজারাতের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানির মন্ত্রীসভার অন্যতম মন্ত্রী জয়েশভাই রাদাদিয়া। আরও জানা গিয়েছে, গত বছর মার্চ মাস পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী আমেদাবাদে জেলা সমবায় ব্যাঙ্কের মোট টাকার পরিমান ছিল ৫.০৫০ কোটি টাকা কিন্তু ২০২৬ থেকে ১৭ এই সময়ের মধ্যে এই ব্যাঙ্কের লাভের পরিমান গিয়ে দাঁড়ায় ১৪.৩১ কোটি টাকা। যা চোখে পড়ার মতো। গুজরাতে রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপের মধ্যে থাকা ব্যাঙ্কগুলিতে যখন এই বিপুল পরিমান টাকা জমা হচ্ছে তখন সমবায় ব্যাঙ্কগুলির শীর্ষ ব্যাঙ্কে জমা টাকার পরিমান ছিল মাত্র ১.১১ কোটি টাকা।

আরটিআই থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাত্র এই কয়েকদিনে গুজরাতের ৭ টি রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাঙ্ক, ৩২ টি রাজ্য সমবায় ব্যাঙ্ক এবং ৩৭০ টি জেলা সমবায় ব্যাঙ্ক এবং ৩৯ টি পোস্ট অফিস মিলে জমা করা মোট বালিত নোটের পরিমান ছিল ৭,৯১,০০০ কোটি টাকা। যার মধ্য থেকে ৭ টি রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাঙ্ক থেকে জমা হওয়া টাকার পরিমান ছিল ৭লক্ষ ৫৭হাজার কোটি টাকা। রাজ্য সমবায় ব্যাঙ্কের জমা করা টাকার পরিমান ছিল ৬ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা। সেই জায়গায় জেলা সমবায় ব্যাঙ্কের জমা করা টাকার পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। প্রশ্ন উঠছে এখানেই। মাত্র ৫ দিনের জন্য সমবায় ব্যাঙ্কগুলিতে টাকা দিতে পেরেছিল জনগণ মানুষ। তারপর কালো সাদা হতে এই আশঙ্কা করে বন্ধ হয়ে সমবায়ে টাকা জমা। তবে বিজেপি নেতাদের অঙ্গুলিহেলনে চলা এই ব্যাঙ্কগুলিতে যে বিপুল সংখ্যক টাকা জমা পড়ে তার কতটা সাদা, আর কতটা কালো তা নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here