নিজস্ব প্রতিবেদক, রায়গঞ্জ: মিঞা বিবি রাজি তো ক্যায়া করেগা কাজি!

অল্প বয়স থেকেই পরস্পর পরস্পরকে ভালোবাসে। সারাজীবন দুজনে একসঙ্গে পথ হাঁটার স্বপ্নও দেখে। কিন্তু স্বপ্ন দেখা আর তার বাস্তবায়ন করা তো সহজ কথা নয়। আট বছর ধরে প্রেম চলার পরেও রীতা ও বিপ্লবের সম্পর্ক পরিণতি পাচ্ছিল না। তাদের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বিপ্লবের পরিবার। শত অনুরোধ, অনুযোগ করেও রীতাকে বিয়ে করার ব্যাপারে পরিবারকে রাজি করাতে পারেনি বিপ্লব। কিন্তু পিছু হটার পাত্রী নয় রীতা। তাই লোকলজ্জা ভুলে বর্তমান ‘ট্রেন্ড’ ধর্নার পথই বেছে নেয় রীতা। একেবারে হবু শ্বশুরবাড়ির সামনে অনশন-ধর্নায় বসে পড়ে। তার সেই চেষ্টা বিফলে যায়নি। ভালোবাসাকে নিজের করে পাওয়ার জন্য রীতার জেদ দেখে অবশেষে ছেলের সঙ্গে তার বিয়ে দিতে রাজি হয় বিপ্লবের পরিবার। তারপর দুই পরিবারের উপস্থিতিতে রাখি পূর্ণিমা তিথি ও স্বাধীনতা দিবসের রাতেই কালীমন্দিরে রীতা ও বিপ্লবের চারহাত এক হয়।

জানা গিয়েছে, উত্তর দিনাজপুর জেলার করনদীঘি থানার বিহিনগরের বাসিন্দা রীতা সিংহ। আর বিহিনগরের পাশ্ববর্তী পৈতকুড়া গ্রামের ছেলে বিপ্লব পাল। অল্প বয়স থেকেই দুজনে-দুজনকে ভালোবাসে। দীর্ঘ আটবছর ধরে এদের প্রেমের সম্পর্ক। সম্প্রতি দু’জনে বিয়ে করতে চাইলেও বিপ্লবের পরিবার মেনে নেয়নি। রীতার পরিবার অবশ্য মেয়ের পাশেই ছিল। বাধ্য হয়ে গত সোমবার পৈতকুড়া গ্রামে বিপ্লবের বাড়ির সামনেই অনশন-ধর্নায় বসে পড়ে রীতা। টানা দু’দিন ধরে অনশন-ধর্না করে অসুস্থ হয়ে পড়ে রীতা। তবু সে ধর্নাস্থল ছাড়েনি। তখন মেয়েকে ভালোবাসা ফিরিয়ে দিতে আসরে নামে রীতার পরিবার। তারা করনদীঘি পুলিশেরও সাহায্য নেয়। বিপ্লবের প্রতিবেশীরাও রীতাকে সমর্থন করে। তারা এবং করনদীঘি থানার পুলিশ বিপ্লবের বাড়িতে গিয়ে তার বাবা-মাকেও বোঝায়। অবশেষে বৃহস্পতিবার রীতাকে পুত্রবধূ করার ব্যাপারে সম্মতি দেয় বিপ্লবের পরিবার।

বিপ্লবের পরিবার এই বিয়েতে রাজি হওয়ার পর আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করেনি রীতা ও তার পরিবার। বৃহস্পতিবার রাতেই পৈতকুড়া গ্রামের কালী মন্দিরে রীতা ও বিপ্লবের বিয়ের আয়োজন করা হয়। তারপর দুই পরিবার, এলাকাবাসী ও পুলিশের উপস্থিতিতে সাতপাকে আবদ্ধ হয় রীতা ও বিপ্লব। কালী মাতাকে সাক্ষী রেখে রীতার সিঁথিতে সিঁদুরও পড়িয়ে দেয় বিপ্লব। স্বীকৃতি পায় আট বছরের ভালোবাসা। উপেক্ষা, কষ্ট সহ্য করেও ভালোবাসার জয় হওয়ায় খুশি পৈতকুড়া গ্রামের বাসিন্দারাও। বিয়ের রীতি-রেওয়াজ শেষে দুই পরিবারের সকলের আশীর্বাদ নিয়ে নতুন জীবন শুরু করে নব দম্পতি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here