ডেস্ক: বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্তকে নিয়ে দড়ি টানাটানি অব্যাহত। লোকসভা ভোটের আগে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে তাঁর দলবদলের জল্পনা। বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের পর এবার তৃণমূল নেতার বাড়িতে হাজির হলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। যার দরুন ফের একবার তৃণমূল বিক্ষুব্ধ এই নেতার বিজেপিতে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। যদিও সব্যসাচী নিজে ও দিলীপ কেউই সংবাদ মাধ্যমের সামনে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ। কিন্তু তৃণমূলের তরফে জবাবদিহি চাওয়ার পরও কীভাবে দিলীপবাবুর সঙ্গে সব্যসাচী দেখা করতে পারেন এই নিয়ে রীতিমতো চাপানউতোর শুরু হয়েছে বাংলার রাজনৈতিক মহলে।

শেষ কয়েকদিন যাবত সব্যসাচীকে নিয়ে মাথাব্যাথা বেড়েছে শাসকদলের। গত বৃহস্পতিবার দোলযাত্রার সময় তিনি এমন কিছু মন্তব্য করেন যার ফলে অস্বস্তিতে পড়ে তৃণমূল। খাদ্যমন্ত্রী জানান, জবাবদিহি চাওয়া হবে সব্যসাচীর কাছে। এসব করেও যেন জল্পনা কিছুতেই কম হতে চাইছে না। সূত্রের খবর, শনিবারই নাকি সব্যসাচীর বাড়িতে গিয়ে চা-জলপান করেন দিলীপবাবু। সেই সম্পর্কে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হলে অবশ্য বিশেষ কিছুই বলেননি বিজেপি রাজ্য সভাপতি। কেবল দেখা হয়েছে ও একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করেছি বলেই দায় দিলীপ।

কিন্তু তাতেও জল্পনা কমছে কই? দিলীপ ঘোষের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টিকে অবশ্য গুরুত্বই দিতে চাননি সব্যসাচী। তবে এর পিছনে যে কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করছে তা চোখ বন্ধ করে মেনে বলে দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এই মুহূর্তে দলের রেডারে রয়েছেন সব্যসাচী। তাঁর প্রত্যেক গতিবিধির উপর লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। এই অবস্থায় খোদ বিজেপি রাজ্য সভাপতির সঙ্গে দেখা করে নিজের পরিবর্তী গন্তব্যের ইঙ্গিত তিনি দিয়েই ফেলেছেন বলে মনে করা যায়।

যদিও দিনকয়েক আগে দোলের অনুষ্ঠানে গিয়ে ব্যসাচীকে বলতে শোনা যায়, গতকাল হোলিকা দহন করে সব পাপ পুড়িয়েছি। আজ থেকে আমার নতুন শুরু হচ্ছে। এখানেই থেমে না থেকে সব্যসাচীর আরও বক্তব্য ছিল, মেয়র থাকি বা না থাকি আপনাদের মনে থাকতে চাই। মেয়র হয়ে জন্মাইনি, মেয়র হয়ে থাকবো না। মানুষের পাশে মানুষের সাথে থাকতে চাই। একই সঙ্গে একাধিকবার একটি শ্লোগান দিতে দেখা যায় সব্যসাচী বাবুকে। তা হল- ‘ভারত মাতা কি জয়’। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ভারতবাসী হিসেবে ভারত মাতা কি জয় ধ্বনি তাঁর কাছে গর্বের মত। বলাই বাহুল্য যা অতীতে তাঁকে কখনো বলতে শোনা যায়নি। এহেন মন্তব্যের সরাসরি কোনও মতলব বের করা যায় না ঠিকই। কিন্তু কথায় বলে, ‘সমঝদার কো ইশারা কাফি হোতা হ্যা।’ ফলে তাঁর মুখে এই স্লোগান একপ্রকার জার্সি বদলের ইশারা ধরে নিলেও ক্ষতি নেই।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here