মহানগর ডেস্ক: আবারও বিতর্কের শিরোনামে করোনা ভ্যাকসিন। করোনা ভ্যাকসিন আদতে কতটা নিরাপদ ও কার্যকর, তা নিয়ে দেশ জুড়ে শুরু হয় প্রবল বিতর্ক। বিভিন্ন রাজ্যে করোনা ভ্যাকসিন নেওয়ার পর থেকেই ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঘটনা সামনে এসেছে একাধিকবার। এবার করোনা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ঘন্টাখানেকের মধ্যেই মৃত্যু হল মহারাষ্ট্রের ৪০বছর বয়সী এক ব্যক্তির। ঘটনার জেরে করোনা ভ্যাকসিনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আতঙ্ক।

সূত্রের খবর, প্রথম পর্যায়ের করোনা টিকাকরণ চালু হতেই গত ২৮শে জানুয়ারি টিকার প্রথম ডোজটি নেন ওই ব্যক্তি। এরপর মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজটি নেন তিনি। দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে ওয়েটিং রুমে বসিয়ে রাখা হয়। দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ১৫মিনিটের পরেই অচৈতন্য হয়ে পড়েন ওই ব্যক্তি। এরপর তাঁকে নিকটস্থ ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত ওই ব্যক্তির নাম সুখদেব কিরদত।

তবে করোনা প্রতিষেধকের প্রথম ডোজ নেওয়ার পর ওই ব্যক্তি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল বলে জানিয়েছে তার পরিবার। পরিবারের দাবি, ‘ভ্যাকসিন নেওয়ার আগে সুখদেবের সম্পূর্ণ চেক-আপ করেন চিকিৎসকরা। বহু বছর ধরে সুখদেবের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলেও অন্য কোনও রোগ তার শরীরে ছিলোনা।’ এমনকি দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার আগে পর্যন্তও ওই ব্যক্তি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। তবে ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজের কারণেই মৃত্যু হয়েছে কিনা, তা ময়নাতদন্তের পরেই জানা যাবে।

অন্যদিকে দ্বিতীয় পর্যায়ের করোনা টিকাকরণ চালু হতেও টিকা নেওয়ার তালিকায় নাম লেখাচ্ছেন একের পর হেভিওয়েট নেতা মন্ত্রী। দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রথম দিন টিকা নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারপর টিকা নেওয়ার তালিকায় নাম লেখান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, অমিত শাহ, রাজনাথ সিং, সহ একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা মন্ত্রী। প্রত্যেকেই জানান করোনার টিকা নিরাপদ এবং কার্যকরী। তাদের আহ্বানে টিকা নেওয়ার ঢল দেখা গিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। কিন্তু টিকা নেওয়ার পর সুখদেব কিরদতের মৃত্যু ফের নতুন করে ভাবাচ্ছে দেশবাসীকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here