kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি: এনআরসির আতঙ্কে মৃত্যু লেগেই আছে। রাজ্য থেকে দেশের রাজনীতি উত্তাল এখন এনআরসি টপিকে। বারবার মৃত্যুতে বিজেপিকে দুষছে বিজেপি বিরোধী দল। আর বিজেপি এনআরসি মৃত্যুর তত্ব দিচ্ছে ‘দেনা’। মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গে এনআরসি আতঙ্কে একই দিনে আত্মহত্যা করল ৩ জন। ঘটনা কোচবিহার ও জলপাইগুড়ির।

কোচবিহার ১ নম্বর ব্লকের ঘুঘুমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের হাওয়া গাড়ি এলাকার আরজিনা খাতুন এনআরসি আতঙ্কে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি তাঁর পরিবারের। অভিযোগ, ওই মহিলা ও তার স্বামীর আধার কার্ডের মধ্যে কিছু সমস্যা রয়েছে। বেশ কয়েকদিন ধরে তাঁরা সেটা নিয়ে অফিসে সমাধানের জন্য গেলেও হয়নি সমাধান। আর রোজ খবরে ও আশেপাশে এনআরসি নিয়ে আলোচনা কানে আসত। তা থেকেই এসেছিল আতঙ্ক। মঙ্গলবার সকালে নিজের গলায় ফাঁস দেন ওই মহিলা। দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে তাঁকে কোচবিহার হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। পরিবারের লোকজনের দাবি এনআরসির আতঙ্কেই মহিলা আত্মহত্যা করেছে।বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ‘এনআরসি’ আতঙ্ককেই দায়ী কড়েছেন। যদিও এই বিষয়ে কোচবিহারের সাংসদ নিশির প্রামাণিক বলেন, যদি এনআরসির আতঙ্কে আত্মহত্যা করে থাকে তাহলে এর জন্য দায়ী তৃণমূল কংগ্রেস। কারণ পশ্চিমবঙ্গে এখন এনআরসি নিয়ে কোনরকম কথা হয়নি। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা যেভাবে এনআরসি নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে সেই কারণেই এই আত্মহত্যার দায় তৃণমূল কংগ্রেসকে নিতে হবে।

অন্যদিকে, এদিন জলপাইগুড়ির ২ জন আত্মহত্যা করেছে। দুজনের পরিবারের পক্ষ থেকেই দাবি করা হয়েছে এনআরসি আতঙ্কেই মৃত্যু হয়েছে তাঁদের। ধুপগুড়ির শ্যামল রায় পেশায় দিন মজুর ছিলেন। মাঝে মাঝে ভাড়া নিয়ে টোটো চালাতেন। বেশ কয়েকদিন ছিলেন অসুস্থ। পরিবারে স্ত্রী ও ১ ছেলে, ১ মেয়ে রয়েছে। সকালে শ্যামলকে বাড়ির কাছে এক রেলিঙে গলায় গামছা দিয়ে ঝুলতে দেখা যায়। স্ত্রী মারান্তী দাবি করেন, ভোটার আর রেশন কার্ডে অমিল আর এনআরসির জন্য তা নথি হিসেবে প্রয়োজন। সব নথি জোগাড় হচ্ছিলনা। চেপে বসেছিল দেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার ভয়। তাই মানসিক চাপেই আত্মহত্যা। এদিনেই জলপাইগুড়ির বাহাদুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সর্দার পাড়ার সাবের আলি বাড়ির সামনে কুয়োতে ঝাঁপিয়ে আত্মহত্যা করেন। বিশেষ ভাবে সক্ষম সাবের পেশায় দিন মজুর ছিলেন। তাঁর জেঠু নিয়াকত আলি বলেন, এনআরসি আতঙ্কে বেশ কয়েকদিন ধরে ভুগছিলেন ভাইপো। পুরনো নথি মিলছিল না। তাই ভয় পেয়েই আত্মহত্যা।

রাজ্যে এনআরসি আতঙ্কে পরপর আত্মহত্যার পর অভিষেক- মমতা থেকে সুজন- সেলিম বারবার সরব হয়েছেন। সোমবার বিজেপির বিরুদ্ধে এনআরসি নিয়ে সরব হয়েছিল লাল- সবুজ শিবির। তার ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই ফের উত্তরবঙ্গে ৩ জনের মৃত্যু। এনআরসি আতঙ্কে আর কত মৃত্যু হবে আর তা ঠেকাতে কবে সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচারে নামবে প্রশাসন উঠছে প্রশ্ন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here