নিজস্ব প্রতিবেদক, ভাঙড়: ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী এবং সওকাত মোল্লার দ্বন্দ্বে আবারও উত্তপ্ত ভাঙড়। দুই গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বে ভাঙড়ের পদ্মপুকুরে কারখানায় আগুন এবং পাল্টা বাড়ি ঘরে নির্বিচারে তান্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে। আক্রান্ত দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন। ঘটনায় ভাঙড় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আক্রান্ত্ররা। এলাকায় পুলিশ পিকেট বসিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ভাঙড় থানা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার রাত দশটা নাগাদ বাসন্তী রাজ্য সড়কের পাশে অবস্থিত পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকীর অনুগামী মিঠু মোল্লার চামড়ার গোডাউনে আগুন লাগে। স্থানীয়দের দাবি মিঠু মূলত তৃণমূল নেতা কাইজার আহমেদের অনুগামী। ইদানিং কাইজার এলাকা ছাড়া থাকায় আব্বাসের দল করছিলেন। মিঠুর দাবি, শওকত ঘনিষ্ঠ যুব তৃণমূল কর্মীরা লাঠি সোটা নিয়ে এসে আমাদের উপরে অত‍্যাচার করে এবং এই আগুন লাগিয়েছে। এ বিষয়ে আব্দুল লতিফ মোল্লা বলেন, আমরা আব্বাস ভাইজানের সঙ্গে আছি তাই শওকাতের গুন্ডা মস্তান বাহিনী আমাদের গ্রামে ঢুকে অত‍্যাচার করছে, কারখানায় আগুন লাগিয়ে দিয়েছে, শ্রমিকরা সব পথে বসেছে। যদিও সেই আগুন নেভার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই পদ্মপুকুর গ্রামের কয়েকটি বাড়িতে তান্ডব চালানোর অভিযোগ ওঠে আব্বাস অনুগামীদের বিরুদ্ধে।

আতঙ্কিত এলাকার বাসিন্দা সেলিম মোল্লা বলেন, ‘রাত এগারোটা নাগাদ দা, কুড়ুল, শাবল নিয়ে জনা পঞ্চাশ লোক বিদ্যুতের লাইন অফ করে দিয়ে হামলা চালায়। আমরা যুব তৃণমূল করি সেই রাগে কাইজারের লোকজন আব্বাসের দলে ভিড়ে এই তান্ডব চালিয়েছে। ‘ভাঙড় ১ ব্লকের যুব তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ মোল্লার বক্তব্য, ‘কাইজার জামিন পাননি। এলাকায় মাটি পেতে এই ভাবে বর্বোরোচিত আক্রমন করেছন। আমরা ওঁর বিরুদ্ধে দলের উর্ধতন কতৃপক্ষকে জানিয়েছি। ‘অভিযোগ অস্বীকার করে কাইজার আহমেদ বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নেই। ওখানে কি হচ্ছে, কারা কি করছে তা আমার জানা নেই। আমার কোনও অনুগামী এই ঘটনায় যুক্ত নন। আব্বাস সিদ্দিকির লোকজন এসব করে থাকতে পারে।‘

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here