ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার পর কি তবে মরচে পড়ে গেল বঙ্গ রাজনীতিতে ‘চাণক্য’ তকমাধারী মুকুল রায়ের মগজে? গতকাল আলিপুরদুয়ার আদালতের রায়ের পর ফিসফাস এই ধরণের প্রশ্ন অনেকেই তুলতে শুরু করেছেন। ‘বিশ্ব বাংলা’ ও তাতে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের মালিকানা নিয়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি যা যা মন্তব্য করেছিলেন, অধিকাংশই ‘অবিবেচিত’ বলে শনিবার জানিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে অভিষেকের আইনজীবীর দাবি, ৩০ দিনের মধ্যে মুকুলকে লিখিতভাবে ক্ষমাও চাইতে বলা হয়েছে অভিষেকের কাছে।

মুকুলের বিরুদ্ধে আইনি পথে হাঁটার পর থেকেই এডভ্যান্টেজ নিয়ে এগিয়ে ছিলেন অভিষেক। মামলা চলার সময় গত ২১ নভেম্বর আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ ছিল, অভিষেককে নিয়ে এই প্রসঙ্গে প্রকাশ্যে মুকুল কোনও মন্তব্য করতে পারবেন না। তখনই আইনি লড়াইয়ে এগিয়ে যান অভিষেক। মুকুল রায়ের আইনজীবী অবশ্য জানিয়েছিলেন, পর্যাপ্ত নথি সঙ্গে নিয়েই অভিযোগগুলি তুলেছেন তাঁর মক্কেল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আদালতের ধোপে টিকলো না তৃণমূল ত্যাগী এই নেতার একপ্রস্থ অভিযোগ।

শনিবার আদালত মুকুলকে লিখিত ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশের পর তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে আদালতের কোনও নির্দেশের ব্যাপারে আমি জানি না। আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে দেখবো।’

ফলে অভিষেকের করা মানহানির মামলায় আপাতত আলিপুরদুয়ার আদালতে যে মুকুলের মুখে চুনকালি পড়ল তা বলাই যায়। মুকুল রায়ের আইনজীবী সম্ভবত এর পর উচ্চতর আদালতের দ্বারস্থ হবেন। কিন্তু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে মুকুলের প্রভাব এখনও পর্যন্ত বঙ্গ বিজেপি ব্রিগেডে সেভাবে চোখে না পড়ায় আপাতত কেন্দ্রের স্ক্যানারে রয়েছেন তিনি। আদালতের রায়ও বিরুদ্ধে যাওয়ায় চাপ যে তাঁর উপর অনেকটাই বাড়বে তা আর আলাদা করে বলার প্রয়োজন পড়ে না।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here