kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, আলিপুরদুয়ার: বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রে ভোট পড়ল ৮১.০৫ শতাংশ। যা অনেকের কাছেই স্বাভাবিক বলে মনে হয়েছে। তবে এই ভোট পড়ার পরিমান কিছুটা বাড়তে বাড়ে বলে জানা গিয়েছে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে। জেলার চা বাগান থেকে বিস্তীর্ণ কৃষি নির্ভর এলাকা, বক্সা পাহাড় থেকে সাজানো গোছানো রেলশহর কিংবা নাগরিক শিক্ষায় শিক্ষিত পুরসভা অঞ্চলে এদিন প্রায় ১৫ লক্ষ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এদিন এই লোকসভা কেন্দ্রের মোট ১৮৩৪ টি বুথের মধ্যে ৫৪৪টি বুথে মোতায়েন কতা হয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। বাকী বুথগুলি ছিল রাজ্য পুলিশের দায়িত্বে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাই নিরাপত্তা বলয় বজ্র আটুনি ফসকা গেরো প্রতিপন্ন হলেও, মোটের ওপর শান্তই ছিল। বিকেল অবধি এই লোকসভা কেন্দ্রে ভোট হয় আপাত শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই।

ভোট শুরুর সময় খান তিরিশেক ইভিএম বিগড়ালেও, তড়িৎ গতিতে তা পাল্টে দেওয়া হয়। তারই মধ্যে খোদ তৃণমূল প্রার্থী দশরথ তিরকের বুথের ইভিএম খারাপ হয়ে যাওয়ায় তাকে প্রায় ঘন্টা খানেক অপেক্ষা করতে হয় ভোটদানের জন্য। দু একটি বুথে ছাপ্পা ভোট বা বুথ জ্যামের পারস্পরিক চাপানউতোরের অভিযোগ উঠলেও তা জেলা প্রশাসনের তরফে বিক্ষিপ্ত ঘটনা বলেই জানানো হয়েছে। বিকেল পাঁচটার মধ্যে প্রায় বিরাশি শতাংশ মানুষ নির্বিঘ্নেই আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রে ভোটদান করেন। নিরূপদ্রবের এই ভোটদান পর্বের কারনে সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে ‘আলিপুরদুয়ারে আমরাই বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করব’ এ হেন মতামত রাখতে ভোলেননি তৃণমূল থেকে বিজেপি কিংবা বামফ্রন্ট থেকে কংগ্রেসের জেলা নেতৃত্বরা।

এদিন সকাল থেকেই ভোটদান পর্ব শুরু হয় ডুয়ার্সের চা বাগান এলাকাগুলিতে। দুপুর বারোটার মধ্যেই চা বলয়ের বেশির ভাগ বুথে অধিকাংশ ভোট পড়ে যায়। কুমারগ্রামের খোয়ারদাঙ্গায় একটি বুথ জ্যাম করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলে বিজেপি। অন্যদিকে, ভোট শুরুর পরেই প্রায় তিরিশটি ভোট মেশিন বিকল হয়ে শুরুতেই বিঘ্নিত হয় ভোট প্রক্রিয়া। কোচবিহারের তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে একসুরে আলিপুরদুয়ারেও ইভিএম পুরোনো-রদ্দি মার্কা বলে অভিযোগ তোলে জেলা তৃণমূল। কুমারগ্রামের এক বুথে ছাপ্পা ভোট চলেছে জানিয়ে রিপোলের দাবী ওঠায় তৃণমূল। অন্যদিকে, ভোটার লাইনের ভোটার দের বিজেপিতে ভোট দেওয়ার উস্কানি দেওয়া হচ্ছিল বলে এক কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে তৃণমূল। তপসীখাতায় রাজ্যের শাসক দলের কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছে বলে অভিযোগ আনে তৃণমূল। অপরদিকে, তৃণমূলের বিরুদ্ধেও বুথ জ্যাম, রিগিং এর অভিযোগ তুলেছে বিজেপি।

নাগরাকাটার সুলকা পাড়ায় এদিন এক বুথের ইভিএমে বিজেপি প্রার্থীর নাম ঢেকে দেওয়া হয়েছে বলে তৃণমূলের দিকে আঙুল তুলেছেন বিজেপির জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা। পাশাপাশি, এদিন সকালেই কুমারগ্রামে বাড়ীর পাশের মন্দিরে স্নান সেরে ভোট দিতে লাইনে দাঁড়ান তৃণমূলের দশরথ তিরকে। বেশ কিছুক্ষণ লাইনে দাঁড়ানোর পর ভোট দেওয়ার পালা এলে বিকল বের হয় ইভিএম। শেষ অবধি আরও ঘন্টা খানেক লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ভোট দেন দশরথ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here