kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, ভাঙড়: লকডাউন পরিস্থিতির মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের জন্য বরাদ্দ চাল, ডাল ও আলু কম দেওয়া হচ্ছে। এমন অভিযোগ উঠল ভাঙড়ের কোচপুকুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তা নিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকরা। বিক্ষোভ সামাল দিতে এসে ক্ষুব্ধ জনতার বিক্ষোভের মুখে পড়ে কাশীপুর থানার পুলিশ। পুলিশের গাড়ি ভাঙ্গচুর করা হয় বলে খবর। বুধবার ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের কোচপুকুর গ্রামে কোচপুকুর প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে মিড ডে মিলের চাল, ডাল কম দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে সরব হন অভিভাবকরা।

অভিভাবকরা জানিয়েছেন, আগে এখানে পড়ুয়া পিছু মাসে ২ কেজি চাল, ২ কেজি আলু এবং ২৫০ গ্রাম করে ডাল দেওয়া হতো। তাদের অভিযোগ, এখন তার বদলে স্কুল থেকে ১ কেজি ৬০০ গ্রাম চাল, ১ কেজি ৫০০ গ্রাম আলু ও ১৭০ গ্রাম থেকে ২০০ গ্রাম করে ডাল দেওয়া হয়েছে। অভিভাবকদের দাবি, বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা নাকি অভিভাবকদের জানিয়ে দেন যে, ওই পরিমাণ জিনিসই বরাদ্দ করা হয়েছে পড়ুয়াদের জন্য। গ্রামের বাসিন্দা সরিফুল মোল্লা বলেন, আমি যখন কম পরিমাণের কথা জানাই তখন প্রধান শিক্ষক বলেন যে, ওই পরিমাণ জিনিসই বরাদ্দ করা হয়েছে। তখন আমরা চার্ট দেখতে চাই যে কতটা বরাদ্দ করা আছে। তালিকা খুলে দেখি সেখানে ২ কেজি চাল, ২ কেজি আলু এবং ২৫০ গ্রাম করে মসুর ডাল দেওয়ার কথা বলা আছে। আমি ভেবেছিলাম আমারটাতেই গণ্ডগোল আছে। কিন্তু মেপে দেখি সকলেরই কম রয়েছে। এর আগে আরও দুই বার অভিযোগ ঘিরে থানা-পুলিশ হয়েছিল। তখন উনি ক্ষমা চেয়েছিলেন। তারপরে আরও দু’বার অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু এখন লোকের হাতে টাকা নেই। তাই তাঁরা এবারে আর এসব মেনে নিতে পারছেন না।

অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। বিক্ষোভ মুহূর্তে হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। স্কুলের গেট ভাঙ্গচুর করা থেকে প্রধান শিক্ষকের বাইক ভাঙ্গচুর করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকী ঘটনাস্থলে কাশীপুর থানার পুলিশ উপস্থিত হতেই পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে জনতা। পুলিশ প্রধান শিক্ষককে স্কুলের ভিতর থেকে বার করে নিয়ে আসার চেষ্টা করলে পুলিশের গাড়ির কাচ ভেঙে দেয় ক্ষুব্ধ জনতা। প্রধান শিক্ষকের পাশাপাশি স্থানীয় পঞ্চায়েত মেম্বারের বাড়িতেও চড়াও হন বিক্ষোভকারীরা। তবে এসব অভিযোগ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here