kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, বর্ধমান: মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমান জেলার জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তবের কাছে মনোনয়ন পত্র জমা দেন বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা নির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী রণজিত মুখার্জ্জী এবং বিজেপির প্রার্থী সুরিন্দরজিত সিং আলুওয়ালিয়া। ওইদিনই মনোনয়নপত্র পেশের পর রণজিত মুখোপাধ্যায় জানান, ‘বিজেপির প্রার্থী দার্জিলিং-এর সাংসদ ছিলেন। কিন্তু দার্জিলিং সমস্যার সময় তিনি দার্জিলিং যাননি। সেখানকার মানুষ তাকে বারবার ডেকেও পাননি। স্বাভাবিকভাবেই বর্ধমান দুর্গাপুরের বিজেপি প্রার্থীও এখানকার ভোটারদের সঙ্গেও একই কাজ করবেন। কিন্তু ৩০দিন আমিই থাকবো ভোটারদের পাশে।’ বুধবার কংগ্রেস প্রার্থীর ওই কটাক্ষের জবাব দিলেন বর্ধমান–দুর্গাপুর লোকসভা আসনের বিজেপি প্রার্থী সুরিন্দরজিত সিং আলুওয়ালিয়া। জানালেন, ‘দার্জিলিং থেকে আমি পালিয়ে যায়নি। সুনির্দিষ্ট কয়েকটি কারণের জন্যই আমি দার্জিলিং যাইনি।’

বুধবার মনোনয়নপত্র স্ক্রুটিনির পর সুরিন্দরজিত সিং আলুওয়ালিয়া তার পুরনো বন্ধু উকিলদের সঙ্গে দেখা করতে বর্ধমান বার এ্যাসোসিয়েশনে হাজির হন। তাকে সমর্থনের জন্য আইনজীবীদের কাছে আবেদনও রাখেন। আদালত চত্বরে আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করা এবং সংক্ষিপ্তভাবে তাদের কয়েকজন যারা তার ছাত্রজীবনের বন্ধু ছিলেন তাদের সঙ্গে খোসমেজাজে আড্ডাও দেন। বর্ধমান বার এ্যাসোসিয়েশনে আইনজীবীদের উপচে পড়া ভিড়েই তাকে অভ্যর্থনা জানান, বারের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি। তাদের সঙ্গে আলোচনার সময় আলুওয়ালিয়া জানান, তিনিও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র হিসাবে ভর্তি হন। কিন্তু সেই সময় প্রদীপ ভট্টাচার্য এবং প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সীর দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে ছাত্রদের মধ্যে অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তার জন্য তিনি কলকাতায় চলে যান। পরবর্তীকালে তিনি যখন আইন ব্যবসা নিয়ে মনোনিবেশ করতে গেলেন, সেই সময় তিনি সাংসদ হিসাবে দিল্লী চলে যান। আইন ব্যবসায় আর নামা হয়নি।

বুধবার নির্বাচনী প্রচারে বেড়িয়ে কংগ্রেস প্রার্থীর আনা অভিযোগের জবাব দেন আলওয়ালিয়া। তিনি বলেন, ‘দার্জিলিং থেকে আমি পালিয়ে যায়নি। সুনির্দিষ্ট কয়েকটি কারণের জন্যই আমি দার্জিলিং যাইনি। যার মধ্যে একটি কারণ ছিল গোর্খাল্যাণ্ডদের আন্দোলনের ইস্যু। যদি আমি সেই সময় দার্জিলিং যেতাম এবং যেহেতু গোর্খাদের সঙ্গে একটি নির্বাচনী চুক্তি ছিল তাহলেও বিরোধীরা আমাকে ছাড়ত না। এমনকি সেই সময় অন্য কোনে অঘটন ঘটে গেলে আমাকেই দায়ী করা হত। তাই আমি দলীয় নেতৃত্বকে জানিয়েই দার্জিলিং যাইনি।’

এদিন বর্ধমান বার এ্যাসোসিয়েশনের আড্ডায় বর্ধমান বার এ্যাসোসিয়েশনের ১৯৯ বছরের ইতিহাস শুনে কৌশলী এবং অতি সাবধানী এস এস আলুওয়ালিয়া জানান, তিনি চান তার জন্মভূমি বর্ধমান নিয়ে কিছু করতে। এখানেই আলাপচারিতায় তিনি বলেন, তার দুই মেয়ে (চিকিত্সক) এবং ৩ ছেলে (আইটি ইঞ্জিনিয়ার) কাউকেই তিনি রাজনীতিতে নিয়ে আসেননি। কারণ তার সাদা পাঞ্জাবিতে এখনও কালো দাগ পড়েনি। কিন্তু রাজনীতি অত্যন্ত শক্ত বিষয়। অনেক আত্মত্যাগ করতে হয়। তিনি এদিন জানান, নির্বাচনে ফলাফল কি হবে তা জনগণের ওপরই নির্ভর করছে। তারাই বিচার করবেন বিদায়ী সাংসদ তাদের জন্য কি করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here