kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, বর্ধমান ও দুর্গাপুর: নস্ট্যালজিক হয়ে পড়লেন বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা আসনের বিজেপি প্রার্থী সুরিন্দরজিত সিংহ আলুওয়ালিয়া। শুক্রবার সকালে বর্ধমান শহরের পায়রাখানা গলিতে খক্কর সাহেবের মাজারে চাদর চড়িয়ে জেতার জন্য প্রার্থনাও জানালেন। তার সঙ্গে ছিল বিজেপির জেলা সংগঠনের নেতা ও কর্মীরাও। খক্কর সাহেবের মাজারে চাদর চড়িয়ে তিনি ওই এলাকায় প্রচারও সারেন। আর তখনই তার সঙ্গে দেখা হয়ে যায় ১৯৬৯-১৯৭০ সালের পুরনো সঙ্গী পুষ্পার সঙ্গে। রীতিমত নস্ট্যালজিক হয়ে পড়লেন সুরিন্দর। বান্ধবীর সঙ্গে সেই সময়কার সংক্ষিপ্ত স্মৃতি রোমন্থনও করলেন তিনি। উপস্থিত ফটোগ্রাফারদের ডেকে তোলালেন ছবিও। তবুও তাকে তাড়া করে ফিরছে দার্জিলিং ইস্যু। এদিন ফের সেই প্রসঙ্গে উঠলে তিনি জানালেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১৭ সালের মার্চ মাসে যে আগুন জ্বালিয়েছিলেন তাতে মমতাদিদি চেয়েছিলেন আমাকে জড়াতে। আমি সেই কারনেই ওই সময়ে দার্জিলিং যাইনি। আমি ওখানে গেলে মমতাদিদির খুব সুবিধা হত। কিন্তু আমি দার্জিলিং এর মানুষের সঙ্গে ছিলাম, আছিও।’

গত কাল লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দিনের ভোটে বাংলার পুলিশ লুঠ চালিয়েছে বলেও এদিন মন্তব্য করলেন আলুওয়ালিয়া। তিনি বলেন, ‘মমতার সরকার ইভিএমকে বিশ্বাস কর‍তে চাইছে না। কমিশন ফেয়ার ইলেকশন করাতে চায়। রাজ্য সরকার যেভাবে নিজের পুলিস বাহিনী নিয়ে লুঠ আরম্ভ করেছে কোনওভাবেই তা বরদাস্ত করা যাবে না। কোনও দলই বরদাস্ত করবে না। এই সরকার ইভিএম মেশিনকে বিশ্বাস করে না। তারা ভোটের পরম্পরাকে মানে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ভয় পেয়ে গিয়েছে। যদি মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায় তাহলে তৃণমূল সরকার বাঁচবে না। আর সেই কারণেই রাজ্যের শাসকদলের এহেন আচরণ। গতকাল রাজ্য পুলিস ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর মধ্যে হাতাহাতি বেঁধে যায়। এখন যা অবস্থা তাতে রাজ্য পুলিসের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর যুদ্ধ না লেগে যায়!’

উল্লেখ্য গতকাল সকালে আলুওয়ালিয়া পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর মহকুমার পানাগড় বাজারে গুরুদ্বারে পুজো দিতে গিয়েছিলেন। পরে কাঁকসা এলাকার ২ নম্বর কলোনিতে একটি দলীয়সভাও করেন। পানাগড়ের শিখ সম্প্রদায় মানুষদের সঙ্গে আলাপ আলোচনাও করেন। সেই সময় উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের তিনি জানান, ওই এলাকঅর মানুষের সঙ্গে তার বহু দিনের পরিচয় আছে। কারণ বর্ধমান জেলা তার জন্মস্থান আর এই জেলাতেই বড় হয়েছেন তিনি। একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তাকে দার্জিলিং এ প্রার্থী করে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এবার তার কোন সমস্যা হবে না। কারণ এই জায়গা তার খুবই পরিচিত। তিনি আরও জানান যে, সব থেকে বড় কথা এই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দেখেই ভোট দেবেন মানুষ। পঞ্চায়েত নির্বাচন যেভাবে ভোট হয়েছিল এই নির্বাচন সেই ভাবে হবে না। নির্বাচন কমিশনার সুষ্ঠুভাবে ভোট করাবেন এবং মানুষ সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারবেন বলে জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here