জীবনের শেষ স্টেশনে নেমে গেলেন প্রাক্তন, আর তো হবে না দেখা! শূন্য হৃদয় অমর্ত্যর

0
kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘকাল মারণরোগ ক্যানসারে ভুগে বৃহস্পতিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন বাংলা সাহিত্যের দিকপাল লেখিকা নবনীতা দেবসেন। কেবল মনের জোরকে সঙ্গী করেই একটা একটা দিন কাটাচ্ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যু বাংলা সাহিত্য জগতে তৈরি করেছে এক অদ্ভুত শূন্যতা, দিয়েছে এক অপূরণীয় ক্ষতি। সেই সঙ্গে বিমর্ষ হয়ে পড়েছেন নবনীতার প্রাক্তন স্বামী তথা নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের।

বিবাহ-বন্ধন বিচ্ছিন্ন হলেও নবনীতার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল অমর্ত্যর। গতকাল সংবাদ মাধ্যমকে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। হাভার্স বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়ার সময়ই এই সংবাদ এসে পৌঁছয় তাঁর কাছে। খবরটা পাওয়া পরেই একটা দীর্ঘশ্বাস, বহু ধুলো পড়ে যাওয়া স্মৃতি এক ঝলকে ভেসে এল অমর্ত্যর চোখের সামনে। সংবাদ সূত্রে খবর, নিজের ঘনিষ্ঠমহলে তিনি বলেছেন, ‘আর কলকাতায় ফিরে কী হবে। যার সঙ্গে দেখা করতে যেতাম সেই তো আর নেই ৷ চলে গিয়েছেন আমাদের ছেড়ে।’ সংবাদ মাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, ‘প্রায় রোজই কথা হত নবনীতার সঙ্গে। আমাদের দুই মেয়ের সৌজন্যেই শেষপর্যন্ত যোগাযোগ ছিল ওঁর সঙ্গে। সবার মতো আমিও মর্মাহত। সেটা কেন হচ্ছে, তা তো বোঝা কঠিন নয়। আমি নিজে যেহেতু ওর কাছাকাছি বহুদিন ছিলাম, তাই আমার পক্ষে বড় কঠিন জিনিস…এ বিষয়ে আর বেশি কিছু আলোচনা করতে চাই না।’

স্মৃতিতে ডুব দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘নরম স্বভাবের মানুষ ছিলেন নবনীতা। ওর অভাব অনুভুত হবে। ওর সঙ্গে দেখা করতে পারলে ভাল হত।’

১৯৬০ সালে অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক নবনীতা দেবসেন। তবে ১৬ বছরের দাম্পত্য জীবনে দাঁড়ি পরে ১৯৭৬ সালে। মৃত্যুকালে ৮১ বছর বয়স হয়েছিল নবনীতা দেবসেনের। ক্যানসার রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন তিনি। ১৯৯৯ সালে সাহিত্য অ্যাকাদেমি, ২০০০ সালে পদ্মশ্রী পান নবনীতা দেবসেন। গতকাল ভারতীয় সময় সন্ধে ৭.৩৫-এ সকলকে ছেড়ে পরলোক পাড়ি দেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here