মহানগর ওয়েবডেস্ক: প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে বিশ্ব যতই তথাকথিত উন্নতির শিখরে চড়ছে, পাল্লা দিয়ে মানুষের মধ্যে ততই বাড়ছে অবসাদ ও একাকিত্ব। আর তা থেকেই আসছে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার প্রবণতা। সমীক্ষা বলছে বিশ্বজুড়ে প্রতি বছরই বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা। লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে এই প্রবণতায় মদতদাতাও কম নেই। সাম্প্রতিক সময়ে ব্লু হোয়েল, মোমোর মতো একাধিক অনলাইন গেম রীতিমতো ঘুম ছুটিয়েছিল গোটা বিশ্বের। এবার ভয়ঙ্কর সেই রক্তের দাগ কিছুটা লাগল বিশ্বের ১ নম্বর জনপ্রিয় রিটেল সংস্থা অ্যামাজনের গায়ে। জীবনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে আত্মহত্যার পথে যারা হাঁটতে আগ্রহী তাঁদের পথ দেখাচ্ছে অ্যামাজন। বৃহস্পতিবার এমনটাই দাবি করল আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম রয়টর্স।

প্রযুক্তির জমানায় আত্মহত্যার জন্যও সেই প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করছে অবসাদগ্রস্তরা। আত্মহত্যার জন্য দড়ির ফাঁস থেকে শুরু করে বেশি ডোজের ঘুমের, মারন বিষ এমনকি আত্মহত্যার জন্য বই ‘How To Commit Suicide’ সবই অবাধে মিলছে এই ওয়েবসাইটে। এমনকি বাজারে যে সমস্ত ওষুধ বা বিষ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে সরকারী ভাবে তাও অবাধে মিলে যাচ্ছে এই ওয়েবসাইট থেকে। অ্যামাজনের ওয়েবসাইটে গিয়ে Suicide সার্চ করলে দেখা যাচ্ছে এই সমস্ত জিনিসগুলি। গোটা ঘটনার জেরে একাধিক সংস্থা সরব হয়েছে এই ওয়েব সাইটের বিরুদ্ধে। দায়ের হয়েছে মামলাও। পরিস্থিতির জেরে কিছুটা হলেও পিছু হটেছে অ্যামাজন। আর এর জেরেই অন্যান্য সংস্থাগুলির মতো সুইসাইড সার্চ করা গ্রাহকদের জন্য হেল্পলাইন নম্বর আনতে চলেছে তারা।

গত বছরই অ্যামাজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল প্রায় ৪ হাজার নিষিদ্ধ বস্তু নিজেদের ওয়েবসাইটে বিক্রি করার। যা নজরে পড়ার পরই এই সংস্থার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে একাধিক সংস্থা। সঙ্গে মামলা দায়ের হওয়ার জেরে কিছুটা কোনঠাসা হয়ে পড়ে বিশ্বের এক নম্বর এই রিটেল সংস্থা। যেখানে গুগল, ফেসবুক, টুইটারের মতো ইন্টারনেট প্লার্টফর্মে আত্মহত্যা রোখার জন্য হেল্পলাইন রয়েছে সেখানে অ্যামাজন বাদ কেন? এর প্রশ্ন ওঠার পরই পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নামে ওই সংস্থা। দাবি করা হয় আগামী সপ্তাহেই আত্মহত্যায় আগ্রহী গ্রাহকদের জন্য হেল্পলাইন নম্বর আনা হবে। এবং সেই নম্বরে ফোন করলে তাঁদের যথাযত কাউন্সেলিং করবে অ্যামাজন। তনে আগামী সপ্তাহে বিষয়টি চালু হওয়ার কথা হলেও আজও অ্যামাজনে অবাধে মিলছে ঘুমের ওষুধ থেকে আত্মহত্যার বই সহ নানান জিনিস। ফলে আত্মহত্যায় লাগাম টানতে এই সংস্থা কতটা আগ্রহী তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here