kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, কোলাঘাট: বড় দাদা ও বউদি করোনা আক্রান্ত ভর্তি পাঁশকুড়া করোনা হাসপাতালে। বাড়ির সকলের লালারস পরীক্ষা হয়েছে। রিপোর্ট এখনও হাতে আসেনি। কিন্তু মায়ের কয়েকদিন ধরে শ্বাসকষ্ট ও জ্বর রয়েছে। সেই মতো গ্রামীণ আশাকর্মীর সাহায্য চেয়েছিলেন কোলাঘাটের ছাতিনদা গ্রামের এক যুবক। স্বাস্থ্যকর্মীরা ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসার কথা জানান। সেই কথা শুনে মাকে নিয়ে ছোট ছেলে কোলাঘাট উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যান চিকিৎসার জন্য। কিন্তু ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জানিয়ে দেয়, করোনা উপসর্গ রয়েছে। পাঁশকুড়া সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেয়  কোলাঘাট ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসকরা।

কিন্তু, করোনা উপসর্গ থাকায় কোনও গাড়ি নিয়ে যেতে রাজি হয়নি। মেলেনি সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স। বাধ্য হয়ে কোলাঘাটের বিডিও-র দ্বারস্থ হয় ওই পরিবার। ওই পরিবারের অভিযোগ, বিডিও সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করে দিতে পারেননি। ক্রমশ অসুস্থ হয়ে পড়েন বৃদ্ধা মহিলা। বাধ্য হয়ে ছোট ছেলে ঝুঁকি নিয়ে মোটরবাইকে মাকে বসিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে পাঁশকুড়ার উদ্দেশে রওনা দেন। সরকারি গাফিলতির চরম নিদর্শন দেখল কোলাঘাটের মানুষ।

যদিও কোলাঘাটের বিডিও মদনমোহন মণ্ডল জানান, ব্লকের হাতে যে অ্যাম্বুল্যান্স ছিল সেটা দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তার ড্রাইভার মারা গিয়েছেন। আর যে গাড়িটি ছিল সেটি রোগী বহন করছে। কিছুক্ষণ আমি অপেক্ষা করতে বলি। কিন্তু ওরা অপেক্ষা না করে নিজেরাই নিয়ে চলে যান। তবে এ ধরনের ঘটনা আর হবে না। আমরা দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করছি। যাতে রোগীরা দ্রুত পরিষেবা পান।

এখানে প্রশ্ন, তা হলে কি ব্লক প্রশাসন আগে থেকে সচেতন নয়? কেন এত বড় ব্লকে একটি অ্যাম্বুল্যান্সের ওপর নির্ভরশীল থাকবে? প্রতিদিন করোনা দাপট দেখাচ্ছে কোলাঘাট ব্লক এলাকায়। ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র কেন তার মা-কে পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল কেন মোটরবাইকে করে নিয়ে যাওয়ার জন্য পারমিশন দেবে। কেন আটকালো না সেই মুহূর্তে। প্রশ্ন তুলেছেন আক্রান্তের বাড়ির আত্মীয়-পরিজন। এই মুহূর্তে মা ও ছেলে দু’জনেই পাঁশকুড়া সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here