ডেস্ক: বেশ কিছুদিন ধরে কৌতুহল জাগিয়ে রেখে অবশেষে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের জন্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। কিন্তু বেশি সময় নিয়ে তালিকা ঘোষণার পরেই বিতর্ক রয়েছে দলের অন্দরেই। শুধু বাংলায় নয়, জাতীয় ক্ষেত্রেও বিজেপির প্রার্থী তালিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আর জাতীয় নিরিখে এই মুহূর্তে বিজেপির সবচেয়ে বড় ‘অস্বস্তি’র কারণ লালকৃষ্ণ আডবাণী। গুজরাতের গাঁধীনগর আসন থেকেই লড়ে আসছেন বিজেপির এই ‘লৌহপুরুষ’। কিন্তু তাৎপর্যের বিষয়, এবার লোকসভায় ওই আসনে প্রার্থী করা হয়েছে বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহকে। প্রসঙ্গত, ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে এই আসনেই ৪ লক্ষের বেশি ভোটে জিতেছিলেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা আডবাণী। তবে গেরুয়া শিবিরের প্রথম দফার প্রার্থী তালিকায় নেই তাঁর নাম।

২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের পর সাংসদ পদ ছাড়া রাজনীতিতে কোনও সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়নি লালকৃষ্ণ আডবানিকে। গত লোকসভা নির্বাচনের পর লোকসভার অধ্যক্ষ হওয়ার কথা ছিল বিজেপির ‘লৌহপুরুষ’-এর, কিন্তু ওই পদ চলে যায় সুমিত্রা মহাজনের কাছে। শেষমেষ, আডবানির ঠাঁই হয় বিজেপির মার্গদর্শক মণ্ডলীতে, উপদেষ্টা হিসেবে। তবে এই মণ্ডলীর রাজনৈতিক কী ভূমিকা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয়ই রয়েছে। পরোক্ষভাবে রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসা আডবাণীকে যেন প্রত্যক্ষভাবেই রাজনৈতিক দুনিয়ে থেকে সরিয়ে দিল তাঁর জায়গায় অমিত শাহরা লড়ার সিদ্ধান্ত। এই প্রসঙ্গেই একটি ধারণা দেশের রাজনৈতিক মহলে চাউর হয়েছে যে, আডবাণী যুগের পতনই ঘটল।

 

বিজেপির এই বরিষ্ঠ রাজনীতিবিদকে প্রার্থী না করায় কটাক্ষ ভেসে এসেছে বিরোধী দল কংগ্রেস থেকেও। দলের মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা ট্যুইট করে বলেন, প্রথমে জোর করে লালকৃষ্ণ আডবাণীকে মার্গদর্শক মণ্ডলীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এ বার তাঁর আসনও কেড়ে নেওয়া হল। মোদী যখন দলের প্রবীণ নেতাদেরই সম্মান করতে পারেন না, দেশের জনতাকে কী করে করবেন? বিজেপি ভাগাও, দেশ বাঁচাও।

প্রসঙ্গত, নির্বাচনী নির্ঘন্ট প্রকাশের বহু আগেই আডবাণী, মুরলী মনোহর যোশীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, ৭৫ বছরের বেশি বয়সি নেতাদের জয়ের সম্ভাবনা না থাকলে এমনিতেই প্রার্থী করা হবে না। তাঁরা যদি লড়তে চান তবে লড়তে পারেন। বিজেপি তরফে এই বার্তার পরেই আংশিক স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে লোকসভায় হয়তো আর দেখাই যাবে না আডবাণীকে। আর ঠিক হলও তাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here