ডেস্ক: নির্যাতন, নিপিড়ন, যুদ্ধবিদ্ধস্ত মানুষের মুক্তির জন্য লড়াই করেছেন এক দশক ধরে। মায়ানমারের মানুষের কাছে তিনি হয়ে উঠেছিলেন মুক্তির দূত। আর তার পুরস্কারও পেয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ বঞ্চনা ভুলে মায়ানমার পেয়েছিল এক প্রধানমন্ত্রীকে যার উপর তারা ভরসা করতে পারেন। কিন্তু সমস্যা শুরু হল তারপর থেকে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বজুড়ে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠল মায়ানমারের প্রধানমন্ত্রী সু কির বিরুদ্ধে। এবার তারই ফল হাতেনাতে পেলেন মায়ানমারের প্রধানমন্ত্রী, সু কির কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হল সর্বোচ্চ মানবাধিকারের পুরস্কার ‘অ্যাম্বাসাডর অব কনসিয়েন্স’।

লন্ডনের অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তরফ থেকে সোমবার ঘোষণা করা হয়েছে এই খবর। সঙ্গে এক বিবৃতি দিয়ে এই সংগঠনের প্রধান কুমি নাইডু জানিয়েছেন, ‘মানবাধিকার রক্ষার জন্য যে লড়াই আপনি করেছিলেন তার জন্য আপনাকে অন্যতম এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত আপনাকে অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, যে লড়াইয়ের প্রতীক আপনি ছিলেন। তা আজ আর নেই তাই আপনার থেকে এই পুরস্কার আমরা তুলে নিচ্ছি।’ ওই সংগঠনের তরফে আরও জনানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও মায়ানমারে সেনাবাহিনীর উপর কোনও নিয়ন্ত্রন নেই তাঁর। তাছাড়া রাখাইনে যে ঘটনা ঘটেছে, যেমন আন্তর্জাতিক তদন্তকারীদের সেখানে যেতে না দেওয়া। সাংবাদিকদের আটক করার মতো একাধিক কাজে প্রত্যক্ষ মদত ছিল সুকির। তাই এক প্রকার বাধ্য হয়েই এই সম্মান তাঁর থেকে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বৌদ্ধ ধর্মপ্রধান মায়ানমারে বরাবরই অত্যাচারিত রোহিঙ্গারা। সরকারের বদল ঘটলেও অবস্থার পরিবর্তন ঘটেনি। বরং ২০১৫ সালে সুকির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমক্রেসি ক্ষমতায় আসার পর অত্যাচার বেড়েছে বহুগুণ। পরিস্থিতি এমন জায়গায় যে মায়ানমার ছেড়ে দলে দলে রোহিঙ্গারা ভিড় জমিয়েছে বাংলাদেশে। ধর্ষণ ও খুনের স্বীকার হয়েছেন রোহিঙ্গার মহিলারা। সবদিক বিবেচনা করেই সুকির থেকে এই পুরস্কার কেড়ে নিল অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here