kolkata news

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্ষতিপূরণ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমফানের ত্রাণ বিলি বন্টনের ওপর কেন্দ্রীয় ভাবে নজরদারি করার জন্য নবান্ন থেকে পাঠানো হয়েছে বিশেষ টিম। গত পাঁচ দিন ধরে বিভিন্ন জেলায় ঘুরে এই দুই বিশেষ টিম সমীক্ষার কাজ করছে। ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত পাঁচ জেলায় ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করার পর তারা নবান্নে রিপোর্ট জমা করবে।

জানা গেছে, ত্রাণ নিয়ে জেলা স্তরে তৈরি টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে এই বিশেষ টিমের কোনও সম্পর্ক নেই। মুখ্যসচিব রাজীব সিনহার দেওয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির জেলাশাসক, মহকুমা শাসক, বিডিওদের নিয়ে তৈরি টাস্ক ফোর্সকে আজ ২ জুলাই রিপোর্ট জমা দিতে হবে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কাছে। সেখানে ক্ষতিগ্রস্তদের সংশোধিত তালিকা থাকবে। পাশাপাশি বিপর্যয় মোকাবিলা ও অসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে অফিসার নিয়ে মিলিত ভাবে দু’টি টিম তৈরি করা হয়েছে। এই দুই টিম নিজেদের মতো সমীক্ষা করবে। কথা বলবে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে।

ইতিমধ্যে চারদিন সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি জেলা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, হুগলি এবং কলকাতায় ঘুরেছে এই টিম। দ্রুত রিপোর্ট তৈরি করে জমা দেবেন। পরে ক্ষতিগ্রস্ত আরও ১১টি জেলাতেও যাবেন। মূল উদ্দেশ্য, ঠিক লোকের কাছে সরকারি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া। এই টিমে রয়েছেন দুই দপ্তরের দু’জন যুগ্মসচিব, দুই উপসচিব এবং ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অফিসার। জেলাশাসকদের পাঠানো তালিকা থেকে বেছে কয়েকটি অঞ্চলে তাঁরা গিয়েছেন। এইভাবে তালিকা যাচাই করা হচ্ছে।

২৫ জুন মুখ্যসচিব আমফানের ত্রাণ নিয়ে যাবতীয় অসঙ্গতি দূর করতে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদের একটি নির্দেশিকা পাঠিয়েছিলেন। তাতে বলা হয়েছিল, আমফানের ত্রাণ নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে। অনেকখানি এলাকা জুড়ে বড় বিপর্যয় ঘটলে লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। এই অবস্থায় প্রাথমিক পর্বে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কাজে কিছু অসঙ্গতি থাকতেই পারে। কিন্তু পরে প্রশাসনকে দ্রুত সেই অসঙ্গতি চিহ্নিত করে দূর করতে হয়। প্রতিটি ব্লকে সরেজমিনে দেখতে হবে। ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্যদের নাম দিয়ে নতুন করে তালিকা করতে হবে। বিডিও অফিসের নোটিশ বোর্ডে সেই তালিকা টাঙিয়ে দিতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ দেখতে পান। এর পরেও যদি ক্ষতিগ্রস্তদের কারও নাম বাদ পড়লে তিনি নিজে সাদা কাগজে আবেদন করতে পারবেন। কোনও ছাপানো ফর্ম গ্রাহ্য হবে না। পুরো প্রক্রিয়া ২ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করে জমা দিতে হবে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের প্রধান সচিবের কাছে। এর পরেও ত্রাণ নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার সমান্তরাল সমীক্ষায় নেমেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here