Home Featured ‘মা তুমি কখন আসবে?’: কান্না চেপে প্রশ্ন এক শিশুর

‘মা তুমি কখন আসবে?’: কান্না চেপে প্রশ্ন এক শিশুর

0
‘মা তুমি কখন আসবে?’: কান্না চেপে প্রশ্ন এক শিশুর
Parul

মহানগর ডেস্ক: দেশের পূর্ব উপকূলের ছিমছাম এক বাড়ি। বাইরে অক্ষত রঙের প্রলেপ। বাড়ির ভিতরে একাধিক খুদে। বড়জনের বয়স ১৪। দেওয়াল ভেদ করে মাঝে মাঝে ভেসে আসে ছোটো গলার আওয়াজ। তবু যেন কী নেই। বেশ কয়েক দিন হল শুনতে পাওয়া যায় না বাচ্চাদের মায়ের গলার আওয়াজ।

অতিমারি কেড়ে নিয়েছে ভারতের হাজার হাজার খুদের অভিভাবকদের প্রাণ। তারা এখন অনাথ। আগামী দিনে ছোটো-ছোটো ছেলে-মেয়েগুলোর কী হবে, তারা কী-বা করবে সে ব্যাপারে নেই কোনও সদুত্তর৷ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে রেড্ডি পরিবারের কথা। চোদ্দো বছরের সোনালী রেড্ডিকে এখন রান্না করতে হয় হাত পুড়িয়ে। দুই বোনের মুখের দিকে চেয়ে তার বয়স যেন এক লাফে বেড়ে গিয়েছে অনেকটা। মায়ের স্মৃতি আঁকড়ে সোনালীর দিনযাপন। চেয়ে থাকে দরজার দিকে, ‘মা তুমি কখন আসবে?’

সাংবাদিকের সামনে কান্না চেপে সে জিজ্ঞাসা করেছে ‘মা তুমি কখন আসবে?’ এর উত্তর হয়তো সে জানে। কিন্তু বিশ্বাস করবে কীভাবে? ওর বয়স যে এসব ভাবার নয়। খোলা মাঠ, খোলা আকাশের দিক থেকে চোখ সরিয়ে তাকে সময় দিতে হচ্ছে রান্না ঘরে। সে-ই এখন বাড়ির কর্ত্রী। সে-ই এখন অভিভাবক। ‘আমার সব সময় মনে হয় মা খুব কাছেই আছে। মা-ই আমাকে শক্তি যোগাচ্ছে।’

ব্যবসায় মন্দ চলছিল। হাল ছেড়ে দিয়ে চিরতরে ছুটে নিয়ে চলে গিয়েছেন বাবা। অভিভাবক বলতে মা-কেই চিনেছে রেড্ডি বাড়ির খুদেরা। সেই সবিতা রেড্ডিও চলে গিয়েছেন না ফেরার দেশে। অক্সিজেন ছিল। তবু বাঁচানো যায়নি তাঁকে। করোনা ভাইরাস বসিয়েছিল মরণ কামড়। ‘ছাতা যেমন মাথার ওপর ছায়া দেয়। মা-ও ওইরকমভাবে আমাদের রক্ষা করতো ঝড়ঝাপটা থেকে’। বয়সের তুলনায় সোনালীর এই কথাগুলো বড্ড ভারী-ভারী শোনায়৷ আসলে তার মনটাও যে ভারী এ ক’দিন। ঠোঁটে ঠোঁট চেপে কান্না লুকিয়েছিল কোনও রকমে। সে ভেঙে পড়লে ভাই-বোনেদের দেখবে?

সরকারের পক্ষ থেকে কিছু অর্থ সাহায্য করা হচ্ছে অতিমারিতে অনাথ হওয়া ছেলে-মেয়েদের। আগামী দিনেও পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু তাতে কি আর নরম হয় কঠিন বাস্তব? আন্তর্জাতিক সমীক্ষা পত্রে ইতিপূর্বে উঠে এসেছে কিছু ভয়ঙ্কর তথ্য। অতিমারি আবহে রোজগারের জন্য পথে নেমেছে অগুনতি শিশু। যাদের বয়স পেরোয়নি ১৭ বছর।  বেপথে চালিত করার লোকের অভাব নেই সমাজে। শিশু পাচার এখনও দেশের এক অন্ধকার দিক। পঠন-পাঠন, সামাজিক মূল্যবোধ ইত্যাদি বোধ গড়ে ওঠা অনেক দূরের কথা। এই ছেলে-মেয়েগুলোর নিরাপত্তাটুকু কি যথেষ্ট? কম বয়সে বিয়ে দেওয়ার ঘটনা এখনও বিলোপ পায়নি ভারতে। ‘আমার বোনেরা আমাকে বলছে- আমাদের মায়ের কাছে নিয়ে চল্’, জগবালিয়া (৮), ভাবনা (৫)’র দিকে তাকিয়ে বলল সোনালী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here