ডেস্ক: যত ভণ্ডামি ভারতে৷
এদেশে স্বঘোষিত ধর্মগুরু কমতি নেই৷ তাদের কীর্তিও কম নয়৷ ধীরে ধীরে সব প্রকাশ্যে আসছে৷ গ্রেফতার হচ্ছে একের পর এক ‘গডম্যান’৷

বেশিরভাগ গডম্যান যৌন কেলেঙ্কারিতে ‘অভিযুক্ত’৷ কেউ কেউ আবার দোষী প্রমাণিত হয়ে জেলের ঘানি টানছেন৷ এইসব ধর্গুরুদের লাখো লাখা শিষ্য-ভক্ত-অনুগামী৷ তাদের আখড়া বা আশ্রমগুলো অট্টালিকা কিংবা প্রাসাদের চেয়ে কেনাও অংশে কম নয়৷ এরা ধর্মের সুরসুরি দিয়ে মানুষকে বোকা বানানোর ব্যাবসা চালিয়ে আসছে দিনের পর দিন৷ দক্ষিণার নামে কোটি কোটি টাকা জমা হয় এদের ঝুলিতে৷ আশ্রমের আড়ালে চলে উদ্দাম যৌনতা৷ ভণ্ড বাবাদের লালসা থেকে বাদ যায় না আখড়ার শিষ্য-শিষ্যরা৷ বছরের পর বছর চলে শারীরিক নির্যাতন৷ আর যখন সব কু-কীর্তি সামনে চলে আসে তখন মুখাশগুলো খুলে পড়ে মাটিতে৷ তবে এদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস থাকে না আক্রান্তদের৷ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যা, এই ভণ্ড বাবাদের সঙ্গে প্রভাশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ওঠাবসা থাকে৷ এদের হাত এতটাই বড় যে, তারা অন্যায় করেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে৷

আমাদের দেশে এরকম গডম্যানেক অভাব নেই৷ গুরমিত রাম রহিম, আশারাম বাপু, স্বামী নিত্যানন্দ, চন্দ্রস্বামী, জয়ন্ত সরস্বতী, সত্য সাই বাবা, রাধে মা, ইচ্ছাধারী সন্ত আরও কত নাম রয়েছ তালিকায়৷ প্রত্যেকেই যৌন কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত৷ অনেকে আবার শ্রীঘরে দিন কাটাচ্ছেন৷ এবার সেই তালিকায় নয়া সংযোজন রাজস্থানের ঝালওয়ার জেলার ‘লিপস্টিক’ বাবা৷ ওরফে কুলদীপ সিং ঝালা। যাঁর কীর্তি, থুড়ি কু-কীর্তি আপনাকে চমকে দেবে৷ ‘লিপস্টিক’ বাবা নিজেকে দেবীশক্তি ও মা জগদম্বার রূপ বলে জাহির করে৷ এবার লিপস্টিক বাবার বিরুদ্ধে একাধিক যৌন হেনস্থা ও এক কিশোরকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মতো মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে৷ কিশোরের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে লিপস্টিক বাবা ওরফে কুলদীপকে৷

গত ১৯ ফেব্রুয়ারিতে বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়ার রাজ্যের বছর কুড়ির এক যুবক আত্মহত্যা করে৷ নাম যুবরাজ সিং৷ এই ঘটনায় কুলদীপ জগদম্বা বাবার হাত ছিল বলে মারাত্মক অভিযোগ ওঠে৷ অভিযোগ, দীক্ষা দেওয়ার নাম করে কিশোর-যুবকদের সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত হতে চাইত কুলদীপ৷ আর বাধা আসলে ভয় দেখানো হত৷ বছরের পর বছর একাধিক তরুণের উপর জোর করে যৌনচার চালিয়েছে এই লিপস্টিক বাবা৷ যুবরাজ লিপস্টিক বাবার যৌন লালসার শিকার হয়েছিল৷ যা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় যুবরাজ৷ এরপর ১ মার্চ পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হয়৷ সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে ভণ্ড গডম্যান কুলদীপকে৷ পুলিশের তদন্তের পর কুলদীপ ঝালার উপর ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৬ ও ৩৫৪ ধারা প্রয়োগ করে তদন্ত করছে৷

মৃত যুবরাজের বাবা যৌন হেনস্থা অভিযোগ করতে গিয়ে জানান, তাঁদের গোটা পরিবারই লিপস্টির বাবার ভক্ত ছিলেন। উজ্জয়িনীতে এক কিশোরীর সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্ক ছিল যুবরাজের। যেটা মেনে নিতে পারেননি লিপস্টিক বাবা৷ ওই মেয়েটির সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ আসতে থাকে কুলদীপ বাবার পক্ষ থেকে৷ হুমকি এবং সেইসঙ্গে যৌন নির্যাতন আরও বেড়ে যায় যুবরাজের উপর৷ অবশেষে আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় তরতাজা যুবক যুবরাজ৷

পুলিশ তদন্তে নেমে লিপস্টিক বাবার মোবাইল থেকে অশ্লীল কথোপকথনের রেকর্ডও হাতে পেয়েছে৷ ঘটনা চাউর হওয়ার পর আরও অনেকে লিপস্টিক বাবার নামে যৌনচারের অভিযোগ এনেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ৷ তবে কোনও মহিলা এই কুলদীপের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেনি৷ অভিযোগকারীরা প্রত্যেকেই পুরুষ৷ এখানে থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না, পুরুষের প্রতি অত্যধিক আকর্ষণ ও যৌন আগ্রহ ছিল লিপস্টিক বাবার৷ এই ঘটনায় কোনও মহিলার যৌন হয়রানির খবর এখনও সামনে আসেনি। নিজে পুরুষ হলেও কুলদীপ মেয়েদের সাজে নিজেকে সাজিয়ে রাখতে পছন্দ করে৷ ঠোঁটে মোটা করে লিপস্টিক পরে সে ভক্তদের মাঝে আসত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here