anubrata-1 bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, বীরভূম: উন্নয়নের জন্য একটি গ্রাম পঞ্চায়েতে বরাদ্দ ছিল পাচকোটি টাকা। খরচ হয়েছে মাত্র ২০ লক্ষ। ৩১ মার্চের মধ্যে কাজ শেষ না করতে পারলে পুরো টাকাই ফেরত যাবে। বীরভূমের একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতে এমনই বেহাল চিত্র। অভিযোগ আধিকারিক থেকে দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে। উন্নয়নের হাল ধরতে উদ্যোগী হলেন দাপুটে নেতা অনুব্রত। সাফ জানিয়ে দেওয়া হল, উন্নয়নমূলক কাজে কোনও রকম ঢিলেমি চলবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলেই দূরে বদলি বা শোকজ নোটিশ ধরিয়ে দেওয়া হবে। নেওয়া হল কড়া পদক্ষেপও। বিডিও ও গ্রাম পঞ্চায়েত নির্মাণ সহায়কদের এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল। এদিন বিডিও-র কাজ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ, নির্মাণ সহায়ককে শোকজ, দলীয় অঞ্চল সভাপতিকে বরখাস্ত, নির্মাণ সহায়কদের দূরে বদলি সহ একাধিক কড়া পদক্ষেপ নিলেন জেলাশাসক ও বীরভূমের দাপুটে নেতা।

সোমবার বীরভূমের সিউড়িতে জেলার উন্নয়ন বৈঠকে বিডিও থেকে গ্রাম পঞ্চায়েত নির্মাণ সহায়কদের সাবধান করলেন জেলাশাসক এবং ডব্লিউবিএস আর ডিএ চেয়ারম্যান অনুব্রত মণ্ডল। উন্নয়নমূলক কাজে যারা সহায়তা করছে না এমন দলীয় নেতৃত্বকেও তিরস্কার করেন জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত। দল থেকে অপসারণের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

চতুর্দশ অর্থ কমিশন, ১০০ দিনের কাজ, বাংলা ও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা রূপায়ণে জেলার বর্তমান অবস্থা জানতে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় সিউড়ির রবীন্দ্রসদনে। এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল, জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা, সরকারি সভাধিপতি নন্দেশ্বর মণ্ডল, বিধায়ক অভিজিৎ রায়, জেলা পরিষদের মেন্টর অভিজিৎ সিংহ প্রমুখ। বৈঠক হয় ১৯ টি ব্লকের বিডিও এবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, ১৬৭ টি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান, নির্মাণ সহায়ক এবং এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টদের নিয়ে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেখা যায়, মহম্মদ বাজার ব্লক চতুর্দশ অর্থ কমিশন এবং ১০০ দিনের কাজ দুটি ক্ষেত্রেই কাজের নিরিখে এবং টাকা-পয়সা খরচের হিসাবে পিছিয়ে আছে অন্যান্য ব্লকের থেকে। ১৬৭ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ টি গ্রাম পঞ্চায়েত পিছিয়ে রয়েছে উন্নয়নের নিরিখে। চতুর্দশ অর্থ কমিশনের টাকা খরচের নিরিখে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা সেকেড্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের। এখনো পর্যন্ত মাত্র ২০ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে এবং প্রায় পাঁচ কোটি টাকা এই গ্রাম পঞ্চায়েতের তহবিলে জমা রয়েছে। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে সেই টাকা খরচ করতে না পারলে সমস্ত টাকা ফেরত চলে যাবে।

ভারকাটা গ্রাম পঞ্চায়েত নির্মাণ সহায়ককে কাজ না হওয়ার কারণ জানতে চান জেলাশাসক। সঠিক উত্তর দিতে না পারায় তাঁকে শোকজের নির্দেশ দেওয়া হয়। পুজোর আগে বন্যার সময় তালোয়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের সঙ্গে রামপুরহাট মহকুমা শাসক শ্বেতা আগারওয়ালকে ঘেরাও করা হয়। দাবি জানানো হয়, রাস্তা সংস্কারের। মহাকুমা শাসক সেই কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিলে তবে ঘেরাও মুক্ত হন। এদিন প্রধানের কাছ থেকে সেই কাজের বর্তমান পরিস্থিতি জানতে চাওয়া হয়। কেমন পর্যায়ে কাজ চলছে, তা দেখার জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিকে রামপুরহাট মহকুমা ১-এর বর্তমান বিডিওর কাজ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলাশাসক।

অন্যদিকে ১০০ দিনের কাজের নিরিখে মহম্মদ ব্লকের ডেউচা গ্রাম পঞ্চায়েতের স্থান একেবারে নিচের দিকে। সেই গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ও নির্মাণ সহায়কের কাছ থেকে ১০০ দিনের কাজ সঠিকভাবে না হওয়ার কারণ জানতে চান অনুব্রত মণ্ডল। নির্মাণ সহায়ক অভিযোগের আঙুল তোলেন স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি সাক্ষী পালের বিরুদ্ধে। সঙ্গে সঙ্গে জেলা সভাপতি তাঁকে পদ থেকে বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিকে যে সমস্ত নির্মাণ সহায়করা ঠিক মত কাজ করছেন না তাদেরকে দূরে বদলির নির্দেশ দেন এসআরডিএ চেয়ারম্যান অনুব্রত মণ্ডল। জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বলেন, ‘একটি গ্রাম পঞ্চায়েত ছাড়া বেশিরভাগ গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজ খুব ভালো হয়েছে। সঠিকভাবে স্কিম না দেওয়া টেন্ডার প্রক্রিয়া না করা সহ বিভিন্ন কারণে কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজকর্ম একদম পিছিয়ে আছে। কাজের সঠিক মান বজায় রেখে সেই সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েতকে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ বলেন, কোনও সরকারি আধিকারিকের কাজের ঢিলেমি থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনুব্রত মণ্ডল বলেন, ‘প্রশাসনিক আধিকারিকরা যেভাবে উদ্যোগ নিয়েছে আশা করছি আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে পড়ে থাকা বকেয়া কাজগুলি শেষ হয়ে যাবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here