নিজস্ব প্রতিবেদক, কৃষ্ণনগর: বীরভূম জুড়ে বিচরণের পাশাপাশি দিদিমণির বরাভয়ে তার বড় আদরের ভাই কেষ্ট সগর্বে এখন বিচরণ করে বেড়াচ্ছেন নদিয়া জেলাতেও। তিনি এখন এই জেলায় দলের পর্যবেক্ষক বটে। তাই মিটিং-মিছিলে তিনি এখন প্রায় হাজির থাকছেন। আর সেই সব সভায় ছুটছে তার কথার ফুলঝুরিও। তার সেই বাক্যবাণ থেকে রেহাই পাচ্ছে না কেউ। না কেন্দ্রীয় বাহিনী না নির্বাচণ কমিশন। পাশাপাশি তার মন্তব্য ঘিরে তৈরি হচ্ছে বিতর্কও। মঙ্গলবার যেমন তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে বসলেন তার থেকেও বড় আপত্তিজনক কথা বলে ফেললেন খোদ নির্বাচন কমিশনকে জড়িয়ে।

সরস্বতী পূজোর সময় নদিয়া জেলার কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস প্রকাশ্য দিবালোকে খুন হয়েছিলেন দুষ্কৃতীদের গুলিতে। তার অকাল মৃত্যুতে কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভা আসনে উপনির্বাচণ যেমন হচ্ছে তেমনি তার স্ত্রী রূপালী বিশ্বাস রানাঘাট লোকসভা আসনে তৃণমূলের প্রার্থীও হয়েছেন। মঙ্গলবার রূপালীর প্রচারের পাশাপাশি কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী প্রমথ রঞ্জন বসুর সমর্থনে দলীয় সভা ছিল মাঝদিয়া রেলবাজার হাইস্কুল মাঠে। সেখানে হাজির ছিলেন বীরভূম জেলার তৃণমূল সভাপতি তথা নদিয়া জেলায় দলের পর্যবেক্ষক অনুব্রত মণ্ডল। সেখানেই তিনি বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ‘ভয় দেখবেন না। ভয় আমরা পাই না। জীবনে কোনদিন ভয় পাইনি, এখনও পাব না। দলের কর্মীদের বলছি আপনাদের লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর। দেখলেই স্যালুট ঠুকবেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও কাজ করতে হবে। আপনারা খালি লক্ষ্য রাখবেন কেন্দ্রীয় বাহিনী যেন মোদির চামচাগিরি না করে, দালালি না করে। মানুষের দালালি করুক, মানুষের চামচা গিরি করুক, আপত্তি নেই।’

এর পাশাপাশি অনুব্রত মণ্ডল নির্বাচণ কমিশনকে লক্ষ্য করেও আপত্তিকর বাক্যবাণ হানেন। তিনি বলেন, ‘জেলার প্রত্যেক বুথে নকুলদানা রাখতে হবে। নকুলদানার ভয়ঙ্কর গুণ। ইলেকশন কমিশনারও নকুলদানা খায়।
কেউ কিছু চিন্তা করবেন না, কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে পঞ্চাশ হাজার ভোটে জিতবে তৃণমূল।’ জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গিয়েছে নির্বাচণ কমিশনকে ঘিরে আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে ওই সভার ভিডিও ফুটেজ চেয়ে পাঠানো হয়েছে। ফুটেজ দেখেই কমিশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here