ডেস্ক: বাকি ৫টা রাজ্যের মতো কর্ণাটক বিধানসভাও সাধারণ আরেকটি নির্বাচনই ছিল। কিন্তু এই একটি বিধানসভা নির্বাচনই যে আগামীতে দেশের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণ করতে চলেছে সেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। বাস্তব ক্ষেত্রেও দেখা গেল, বিজেপি বহুমত পেয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেলেও, ভোট পরবর্তী জোট গড়ে মোদী-শাহ জুটিকে মাত করে দিল রাহুল গান্ধির দল। শপথ গ্রহণ মঞ্চে তৈরি হল বিরোধী ঐক্যের নতুন সমীকরণ।

চলতি বছরই আরও দুই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থান। এই দুই রাজ্যেই আপাতত শাসকের ভুমিকায় রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। কিন্তু এবিপির ভোটপূর্ব সমীক্ষায় যে পরিসংখ্যান উঠে এসেছে তা গেরুয়া শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর করে তুলতে পারে।

কী হয়েছিল? কী হতে পারে?

মধ্যপ্রদেশ: প্রথমেই আসা যাক গোবলয় মধ্যপ্রদেশ প্রসঙ্গে। গত ১৫ বছর ধরে এই রাজ্যে উড়ছে গেরুয়া ঝাণ্ডা। দাপটের সঙ্গে রাজ্য চালাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। কিন্তু এবিপির সমীক্ষা অনুসারে চলতি বছরেই ঘটি উল্টে যেতে পারে মধ্যপ্রদেশে। ১০ বছর আগে অর্থাৎ ২০০৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২৩০টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছিল ১৪৩টি আসন। কংগ্রেসের ঝুলিতে ছিল ৭১টি। ২০১৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আরও করুণ অবস্থা হয় কংগ্রেসের। জয়ের ব্যবধান বাড়িয়ে ১৬৫টি আসন দখল করে বিজেপি। সেখানে পায় মাত্র ৫৮টি আসন। ভোটের শতকরা হিসাবে যা বিজেপির জন্য রেখেছিল ৪৫ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে, কংগ্রেসের কাছে ছিল ৩৬ শতাংশ।

কিন্ত এবিপির সমীক্ষার কথা তুলে ধরলে এ বছরই সামগ্রিক ছবিটাই উল্টে যেতে পারে। এবিপি জানাচ্ছে, চলতি বছর নির্বাচনে কংগ্রেস কমপক্ষে ৪৯ শতাংশ ভোট পাবে। অন্যদিকে, বিজেপি পেতে পারে মাত্র ৩৪ শতাংশ ভোট।

রাজস্থান: রাজস্থানে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া যে ভাবে বইতে শুরু করেছে, তাতে গেরুয়া শিবিরের অনেকেই মরু রাজ্যকে হাতের বাইরে ধরেই নিয়েছেন। তা অবশ্য কখনই শেষ কথা হতে পারে না। রাজস্থানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিতে চলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সচিন পাইলট। এই যুব নেতার নেতৃত্বে এই রাজ্যে ভাল ফল করার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী কংগ্রেস। অন্যদিকে, বসুন্ধরা রাজে এখন অনেকটাই কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে। ফলে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও রাজস্থানে বিজেপি ব্যাকফুটেই রয়েছে।

এই রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ২০১৩ সালে বিপুল ভোটে জিতে ক্ষমতায় এসেছিল বিজেপি। ২০০টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৬৩টি ছিল অমিত শাহের দলের পকেটে। কংগ্রেস পেয়েছিল মাত্র ২১টি আসন। গত বার বিজেপির শতকরা ভোট ছিল ৪৫ শতাংশ ও কংগ্রেসের ৩৩ শতাংশ।

কিন্তু এই রাজ্যের ছবিটাও বদলে যেতে পারে বলেই জানানো হয়েছে এবিপির ভোটপূর্ব সমীক্ষায়। তাদের মতে চলতি বছরের নির্বাচনে বিজেপির কপালে জুটবে মাত্র ৩৯ শতাংশ। অন্যদিকে, কংগ্রেসের ভোট একলাফে ৪৪ শতাংশ হয়ে যেতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে এবিপির এই সমীক্ষায়।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here