ডেস্ক: অধীরগড়ে বেশ বড়সড় থাবা বসালও রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। জেলার অন্যতম কংগ্রেস নেতা তথা কান্দি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক অপূর্ব সরকারকে এদিন নিজেদের দিকে টেনেই নিল তৃণমূল। কান্দিতে এদিন জোড়াফুলের এক দলীয় সমাবেশে অপূর্ববাবুর হাতে দলের পতাকা তুলে দেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু আধিকারি। কংগ্রেসের কয়েকজন বিধায়ক যে দিন দুয়েকের মধ্যে দলবদল করতে চলেছেন সেটা গতকালই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিরোধী বেঞ্চের উদ্দেশ্যে কিছুটা কটাক্ষ হেনে জানিয়েছিলেন শুভেন্দুবাবু। ইঙ্গিত দিয়েছিলেন কান্দিতে গিয়েই সেই দলবদলের আগুনে ঘি দেবেন তিনি। সেই কথার সুত্র ধরেই বোঝা গিয়েছিল শাসক দলের নেক নজরে পড়ে গিয়েছেন ওই বিধায়ক। এদিন সেই অনুমানে কার্যত সিলমোহর পড়ে গেল।

অপূর্ববাবুকে ঘিরে এই টানাপোড়েন অবশ্য নতুন নয়। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা অধীর চৌধুরী ঘনিষ্ঠ নেতা হিসাবেই পরিচিত ছিলেন অপূর্ববাবু। এক সময় এমন একটা সময় গেছে যখন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গে জোট গড়ার জন্য কান্দি বিধানসভা আসনটাই তাদের ছেড়ে দিয়েছিল কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। সেই সময় অধীরবাবু কার্যত দিল্লির নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কান্দি থেকে অপূর্ববাবুকে নির্দল বিধায়ক হিসাবে জিতিয়ে এনেছিলেন। তারপর ভাগীরথী দিয়ে অনেক জলই গড়িয়েছে। নানা বিষয়ে অধীরবাবু ও অপূর্ববাবুর মতভেদ সামনে এসেছে। ২০১৬ সালে কংগ্রেসের টিকিটে জিতে বিধায়ক হয়েও ক্রমশ তৃণমূল ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ছিলেন অপূর্ববাবু। জেলা কংগ্রেস তো বটেই প্রদেশ কংগ্রেস স্তরেও তার সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছিল দলের। অপূর্ববাবু নিজেই গতকাল এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন দল থেকে এখন তাকে আর কোন সভা বা বৈঠকে ডাকাও হয় না।

অপূর্ববাবুর সঙ্গে কংগ্রেসের এই দূরত্বকেই লুফে নিয়েছিল রাজ্যের শাসক দল। অধীরভূমে অধীরকে দুর্বল করতে মুর্শিদাবাদ জেলায় কংগ্রেসকে ভাঙ্গানোর পথেই হাঁটা দেয় জোড়াফুল শিবির। গোপনে দুই তরফের যোগাযোগের কথা যখনই মিডিয়ার কানে গেছে তখনই দুই তরফে তা প্রবল ভাবে অস্বীকার করেছে। কিন্তু বোঝা যাচ্ছিল টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে দুই তরফেই। এদিন সেই টানাপোড়েনের অবসান ঘটল। তবে তারই মধ্যে নতুন করে জল্পনা ছাড়িয়েছে রাজ্যসভার আসন্ন নির্বাচন ঘিরে। তৃণমূল সুত্রে জানা গেছে অপূর্ববাবু রাজি থাকলে জোড়াফুল থেকে তাকে রাজ্যসভার পঞ্চম আসনটির জন্য প্রার্থী হিসাবে তুলে ধরা হবে। কারন দলবদলের জেরে অপূর্ববাবুর বিধায়ক পদ বাতিলের জন্য উঠে পড়ে লাগবে প্রদেশ কংগ্রেস শিবির। সেই বিড়াম্বনা থেকে তাকে রেহাই দিতে তৃণমূল তাকে প্রার্থী করতে পারে। সেক্ষেত্রে অপূর্ববাবুকে কংগ্রেসের বাকি বিধায়কদের কয়েকজনের সমর্থন আদায় করে নিতে হবে। জোড়াফুল শিবিরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে সে ব্যবস্থাও নাকি পাকা। পাশাপাশি অপূর্ববাবু দলবদল করায় মুর্শিদাবাদের কান্দি মহকুমাতেও লাভের ফসল তোলার হিসাব শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here