ডেস্ক: ‘‘হয় এবার নয় নেভার…৷’’– বিশ্বকাপের আসরে আর্জেন্তিনার সঙ্গে এই আপ্তবাক্যটি আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে রয়েছে৷ সেই ১৯৮৬ সালে মারাদোনার কাঁধে ভর করে শেষবারের জন্য বিশ্বজয়ের স্বাদ পেয়েছিল লাতিন আমেরিকার শৈল্পিক ফুটবলের অন্যতম আঁতুর ঘর আর্জেন্তিনা৷ তারপর থেকে বিশ্বফুটবলের মহারণের আসরে নীল-সাদা জার্সিধারীদের জন্য শুধুই হতাশা৷ অথচ, প্রতিটি বিশ্বকাপেই এই দলটি বিশ্বের সেরা এগারো ফুটবলারকে নিয়ে মাঠে নামে৷ কিন্তু ক্লাব ফুটবলে এই সেরাদের পারফরম্যান্সের ধারকাছ দিয়েও যায় না, যখন ওই জাতীয় দলের জার্সিটা গায়ে চাপানো থাকে৷ ভেরন-ওর্তেগাদের জমানা থেকে শুরু করে মেসি-মাসচেরানোদের যুগেও বিশ্বকাপে হাল ফেরেনি আর্জেন্তিনার৷ ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে ট্রফির খুব কাছাকাছি গিয়েও তা ছুঁয়ে দেখার সৌভাগ্য হয়নি মেসিদের৷ এবারও সেরা দল নিয়ে রাশিয়া গিয়েছে আর্জেন্তিনা৷ কিন্তু প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেতে হয়েছে৷ আর সেখান থেকেই আশঙ্কার কালোমেঘ ঘনীভূত হয়েছে নীল-সাদা আকাশে৷

আইসল্যান্ডের কাছে জেতা ম্যাচ হাতছাড়া করে কার্যত খাদের কিনরায়া দাঁড়িয়ে আছে আর্জেন্তিনা৷ তিনি আধুনিক ফুটবলের ‘বরপুত্র’৷ তাঁর বাঁ-পায়ের শিল্প অগুনিত ভক্তদের চোখকে তৃপ্তি দেয়৷ ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনাকে একক কৃতিত্বে একের পর এক ট্রফি উপহার দিয়েছেন৷ অথচ, দেশের জার্সিতে গুরুত্বর্পূণ ম্যাচে মেসির পেনাল্টি মিসের জন্য খেসারত দিতে হচ্ছে আর্জেন্তিনা৷ পেনাল্টি মিসের দায় নিলেও, তাঁর জন্যই যে ‘ডি’-গ্রুপে আজ খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে গোটা দল। বৃহস্পতিবার ভারতীয় সময় রাত ১১টা ৩০মিনিটে গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে মেসিরা মুখোমুখি হবেন ক্রোয়েশিয়ার৷ আর ক্রোটদের বিরুদ্ধে একটি ভুলেই রাশিয়ার মাটিতে অপমৃত্যু ঘটে যেতে পারে ফুটবল ঈশ্বর ও তাঁর দেশের৷ যার জন্য আক্ষেপ করতে করতে হবে আগামী চারবছর৷ তাই অতি সতর্ক আর্জেন্তিনা।

আইসল্যান্ড ম্যাচের অভিশপ্ত রাত ভুলে এটাই হতে পারে ফিরে আসার পথ৷ আর সেই পথকে মসৃণ করতে পারেন যিনি, তিনি অবশ্যই লিওনেল মেসি৷ সম্ভবত রাশিয়া বিশ্বকাপই শেষ বিশ্বকাপ হতে চলেছে ফুটবল বরপুত্রের জন্য৷ মেসির বর্ণময় ফুটবল কেরিয়ার বিবর্ণ হয়ে থাকবে, যদি তচাঁর সাফ্যলের ঝুলিতে বিশ্বকাপ না থাকে৷ তাই শুধু টিম আর্জেন্তিনা নয়, বিশ্বকাপের আসরে মেসির জন্যও ‘‘হয় এবার নয় নেভার…৷’’শব্দটি খুব প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে৷

ঠিক এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে কাছের মানুষটি আপনার পাশে দাঁড়াতে পারে৷ আপনাকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাতে পারে৷ মেসির ক্ষেত্রেও তা ব্যতিক্রম নয়, ‘ডু-অর-ডাই’ম্যাচের আগে মেসির পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন মেসি-পত্নী আন্তোনেলা রকুজো। ইনস্টাগ্রামে মেসি-সহ তিন সন্তানের ছবি পোস্ট করে আন্তোনেলা লিখেছেন, ‘যেকোনও পরিস্থিতিতে আমরা সবময় একসঙ্গে থেকেছি এবং আগামদিনেও থাকব।’

এদিন ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের আগে ফুটবল দুনিয়ায় সমস্ত আবেগ ঘুরপাক খাচ্ছে মেসি নামক ‘অতি মানব’-এর কক্ষপথে৷ ৩২ প্যানেলে উঁকি মারছে একটাই প্রশ্ন, ‘জিনিয়াস কাকে বলে?’ আসলে ‘জিনিয়াস’ শব্দের অর্থ ব্যাপক৷ এককথায় যার সংজ্ঞা দেওয়া সম্ভব নয়! বিভিন্ন অভিধানে এই শব্দের অর্থ ভিন্ন৷ গোটা বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অগুনিত মেসি ভক্তদের আজ আকুল আর্তি,‘জিনিয়াস’শব্দটির নতুন অর্থ রচিত হোক জিনিয়াসের বাঁ-পায়ের স্পর্শেই৷ অগত্যা, রুশদেশের উপকথা থেকে চিরতরে বঞ্চিত হয়ে রোজারিও-এর বিমান ধরতে হবে ফুটবল দেবতার বরপুত্রকে৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here