kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্যারাকপুর: তাল ঠুকছে দুই পক্ষই। দুই তরফেই দাবি মানুষ আছেন তাদের পাশেই। তাই শেষ হাসি তারাই হাসবেন। হাসিমুখে প্রচারে বেড়িয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেই তারা জানিয়ে দিচ্ছেন, ‘মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততাই বলে দিচ্ছে মানুষ তাদের সঙ্গেই আছেন। তাই তারাই জয়ী হবেন।’ তবে সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রতিপক্ষের থেকে নিজেকে তুলে ধরতে দলছুট বিধায়ক কাম প্রার্থী যে বেশ কিছুটা এগিয়ে গিয়েছেন সে নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। কথা হচ্ছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুর লোকসভা আসনের দুই শিবিরের দুই প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদী আর অর্জুন সিংকে নিয়ে। কয়েকমাস আগেই দুজনে একই শিবিরে থাকলেও এখন দুজনই একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। প্রথমজন আগেই সাংসদ হয়েছেন। হয়েছেন কেন্দ্রে রেলমন্ত্রীও। তৃতীয়বারের জন্য এবার সাংসদ হতে ফের তিনি অবতীর্ন ভোটের ময়দানে। অন্যজন বিধায়ক হয়েছেন প্রায় দেড় দশক আগেই। এবার লড়াই করতে নেমেছেন সাংসদ হওয়ার অভিলাষ নিয়ে। আর সেই অভিলাষ পূরণের জন্যই করেছেন শিবির বদল। সবুজ জার্সি ছেড়ে গলা ছেড়েছেন, ‘রং দে হু মোহে গেরুয়া।’

শনিবার সকালে সেই অর্জুনকেই দেখা গেল ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে থাকা গারুলিয়া পুরসভা এলাকায় প্রচার করতে। সঙ্গে দলীয় সমর্থকদের পাশাপাশি নিজের অনুগামীরাও। এদিন দলীয় সমর্থকদের নিয়ে গারুলিয়া পুরসভার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে পদ্মফুল হাতে পদযাত্রা করেন অর্জুনবাবু। পথে অসংখ্য মানুষের সঙ্গে মিলিত হন তিনি এবং অনেকের হাতেই পদ্মফুল তুলে দেন। তার এই জনসংযোগ পদ্ধতি দেখে অনেকেই মনে করছেন দীনেশ ত্রিবেদীর পিছনে শাসক দলের যত কেষ্টুবিষ্টুরা থাকুন না কেন, দীনেশ কখনই এই ভাবে মানুষের সঙ্গে মিশতে পারেন না। আমজনতার সঙ্গে অর্জুনের যে নৈকট্য রয়েছে তা দীনেশের নেই। আর এখানেই দীনেশের থেকে এগিয়ে গিয়েছেন অর্জুন। যদিও শাসক শিবির এত সব যুক্তিদাবি মানতে নারাজ। তাদের সাফ জবাব, ‘ওস্তাদের মার শেষ রাতেই হয়। প্রচারে কে কত ঝড় তুললো সেটা বড় কথা নয়, ভোটের দিন কে কত মানুষের সমর্থন পেল সেটাই মূল বিষয়।’

 

এদিন পদযাত্রার সময় সাংবাদিকেরা অর্জুনকে জিজ্ঞাসা করে একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের করা সমীক্ষা নিয়ে। সেখানে দেখানো হয়েছে ব্যারাকপুর লোকসভা আসনটি এবার বিজেপির দখলে যেতে চলেছে। এর প্রত্যুত্তরে অর্জুন জানান, ‘বিজেপি শুধু জিতবে না, আমার জয়ের মার্জিনন অনেক বাড়বে। সমীক্ষার রিপোর্ট যা বলছে, তার থেকেও প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সঙ্গে ভোটে আমার জয়ের ব্যবধান বাড়বে। আমি বিজেপির প্রতিনিধি হিসেবে এই ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে ৮০ শতাংশ ভোট যাতে পাই, সেই ভাবেই প্রচার করছি। ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রটিতে তৃণমূল কংগ্রেস তিন নম্বর জায়গা পাবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here