নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্যারাকপুর: উত্তপ্ত রাজনৈতিক বাতাবরণ আগেই ছিল। এবার সেখানেই উত্তেজনা ছড়ালো এক মহিলা বিজেপি কর্মীর শ্লীলতাহানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে। আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাস্তায় নেমে রীতিমত আন্দোলন শুরু করে দিলেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুর মহকুমার ভাটপাড়া পুরসভার পুরপ্রধান তথা বিধায়ক এবং ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং। দলের মহিলা কর্মীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় পুলিশি নিষ্ক্রীয়তার অভিযোগ তুলে রবিবার রাত থেকেই বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু করে দেন অর্জুন। রীতিমত রাস্তায় শুয়ে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি রাতেই তার নেতৃত্বে বিজেপি কর্মীরা জগদ্দল থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। সোমবার সকাল থেকে শুরু হয় রেল অবরোধ। এই সব ঘটনা ঘিরে অবশ্য ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা প্রাক্তন রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদী বিশেষ মাথা ঘামাতে চাননি। তিনি খালি জানিয়েছেন, অর্জুন সংক্রান্ত কোন প্রশ্নের উত্তর আমি দেব না। গুন্ডারাজ খতম করার সময় এসেছে। মানুষ এবার সেটাই করবেন।

জানা গিয়েছে, ঘটনার সুত্রপাত রবিবার সন্ধ্যাবেলায় ভাটপাড়া পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানে কয়েকজন বিজেপি কর্মী দলীয় পতাকা লাগানোর কাজ করছিলেন। তাদের মধ্যে নিগ্রহের শিকার হওয়া ওই মহিলাও ছিলেন। ওই সময় স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলার মনোজ গুহ ও তার খুড়তুতো ভাইয়ের বাড়িতে বিজেপি কর্মীরা পতাকা লাগাতে গেলে তাদের বাধা দেন মনোজের ভাই মৃত্যুঞ্জয় গুহ। তা নিয়েই বচসা বাধে দুই পক্ষের। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, বচসা চলার সময়েই মৃত্যুঞ্জয়ের লোকজন বিজেপি কর্মীদের মারধর করে ও ওই মহিলা বিজেপি কর্মীর শ্লীলতাহানি করা হয়। অন্যদিকে মনোজ গুহ বলেন, ‘অর্জুন সিং জানেন এবার উনি পরাজিত হবেন। ওর দলের কর্মীরা আমাদের বাড়িতে পতাকা লাগানোর চেষ্টা করছিল। সেখানে তাদের বলা হয়, আমরা তৃনমূল কর্মী। এই বাড়ি ছেড়ে পতাকা লাগান আপনারা। ওই বিজেপি সমর্থকরা তা না শুনে পায়ে পা লাগিয়ে অশান্তি করেছে। আমার খুড়তুত ভাই সক্রিয় দলীয় কর্মী মৃত্যুঞ্জয়কে মেরেছে। সে হাসপাতালে ভর্তি।’

 

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রবিবার রাত থেকেই উত্তপ্ত হতে শুরু করে ভাটপাড়া। বিজেপি মহিলাকর্মীর শ্লীলতাহানির প্রতিবাদে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে অর্জুন সিংয়ের নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়। নির্যাতিতা বিজেপি কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে জগদ্দল থানার সামনে ধর্নায় বসেন অর্জুন সিং। সেখানেই রাস্তায় শুয়ে পড়ে আন্দোলন শুরু করেন অর্জুনবাবু। তার নেতৃত্বেই বিজেপি কর্মীদের জগদ্দল থানা ঘেরাও চলে গভীর রাত পর্যন্ত। এই ঘটনায় অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বিষয়টি ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন অর্জুন সিং। জগদ্দল থানার পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্তেও নেমেছে।

তবে ঘটনার রেশ থেকে যায় সোমবার সকালেও। এদিন সকালেই বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কাঁকিনাড়া স্টেশন সংলগ্ন উনত্রিশ(২৯) নম্বর রেলগেট অবরোধ শুরু করেন অর্জুন সিং। সেখানেই বিক্ষোভ চলাকালীন সময়ে অর্জুনবাবু সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়েছে। তারা এদিনই কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে যাবেন ও জগদ্দল থানার পুলিশ আধিকারিককে বদলি করার আবেদন জানাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here