ডেস্ক: গতকালই জোড়া বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল অমৃতসর। এই বিস্ফোরণের মূলচক্রী কারা সেই নিয়েও বিভিন্ন মহল থেকে জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে আইএসআই এর তরফেও সেই বিস্ফোরণের দায় সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেছে। এহেন পরিস্থিতিতে আপ বিধায়ক এইচ এস ফুলকা রবিবারের এই হামলার জন্য দায়ী করেছেন খোদ সেনা প্রধান বিপিন রাওয়াতকে। আপ বিধায়কের এই মন্তব্যের পর বিতর্ক আবার নতুন করে দানা বেঁধেছে। তাঁর বক্তব্য, সেনা প্রধান বিপিন রাওয়াতই অমৃতসরে জোড়া বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। কারণ পঞ্জাবে জঙ্গি হামলা নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন বিপিন রাওয়াত। তার পরেই ঘটে এই হামলা। আপ বিধায়ক ফুলকা বলেন, সেনাপ্রধান যেহেতু নিজেই এই হামলার জন্য সতর্ক করেছিলেন, তাই তাঁর কথার সত্যতা প্রমাণ করতেই এই গ্রেনেড হামলা চালিয়েছেন।

তবে এইচ এস ফুলকার কথার সত্যতা এখনও প্রমাণ হয়নি। কাজেই এই বিষয়ের গভীরে গিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। পঞ্জাবের পরিস্থিতি যে ভালো নয় তা বলাই বাহুল্য। কারণ পঞ্জাবের সীমান্ত রেখা থেকে প্রতিদিনই কোনও না কোন অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। যার জেরে পঞ্জাব সীমান্ত উত্তপ্ত হয়ে আছে। পাশাপাশি পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর আশঙ্কা এই হামলার পিছনে খালিস্তানি জঙ্গিদের হাত রয়েছে। তারাই একজোট হয়ে এই হামলা ঘটাচ্ছে। কারণ গত সপ্তাহেই কয়েকজন জঈশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি শাখার একটি দল বড়সড় নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে পঞ্জাবে ঢুকেছে। এই জঙ্গি সংগঠন ছাড়াও আল কায়েদা কম্যান্ডার জঙ্গি জাকির মুসাও পঞ্জাবে লুকিয়ে রয়েছে বলে খবর ছিল। তারাই এই হামলা ঘটিয়েছে কিনা সেই বিষয়েও এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এই নিয়ে এখন তদন্ত নেমেছেন সেনাবাহিনী।

উল্লেখ্য, গতকাল অমৃতসরের আদিলওয়াল গ্রামে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলাকালীন হঠাতই কয়েকজন দুষ্কৃতী এসে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা মানুষের ওপর গুলি চালাতে শুরু করে দেয়। এই ঘটনার পরেই গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই হামলায় এখনও অবধি ৩ জনের মৃত্যু হয়েছেন এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অনুষ্ঠান সভায় হঠাৎ করেই দু’জন মুখোশধারী দুষ্কৃতী জনতাকে উদ্দেশ্য করে গ্রেনেড ছোঁড়ে এবং গুলি চালায়। এই ঘটনার পরেই ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন ৩ জন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here