FotoJet-3-4

ডেস্ক: নরেন্দ্র মোদী হন, অমিত শাহ হন, বা যোগী আদিত্যনাথই হন। বালাকোটে ভারতীয় সেনার এয়ার স্ট্রাইকই যেন এবারের ভোটে প্রধান অস্ত্র হয়েছে তাদের। অন্যদিকে উন্নয়ন, বিকাশ, শিক্ষা, বেকারত্ব সবই গিয়েছে পেছনের সারিতে। সব দেখে শুনে আর চুপ থাকতে পারলেন না অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিকরা। সেনার পরাক্রম বা বীরত্ব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বন্ধ করার আর্জি জানিয়ে খোদ রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে চিঠি দিলেন দেশের দেড়শো অবসরপ্রাপ্ত সেনা।

বেনজির এই চিঠিতে প্রাক্তন সেনা আধিকারিকদের অভিযোগ, ক্ষমতাশালী দল সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের মতো অপারেশনকে ঢাল করছে ভোট ময়দানে। একই সঙ্গে সেনা বাহিনীকে ‘মোদী সেনা’-র মতো তকমাও দেওয়া হচ্ছে। এই চিঠির মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত সেনারা রাষ্ট্রপতির কাছে আপিল করেছেন যাতে এভাবে জওয়ানদের নিয়ে রাজনীতিকরণ না করা হয়। মনে করিয়ে দেই, দু’দিন আগেই মহারাষ্ট্রের লাতুরে একটি জনসভাতেও মোদীকে সেনার আশ্রয় নিয়ে ভোট চাইতে শোনা গিয়েছিল। যেখানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথমবারের ভোটাররা যেন তাদের ভোট সেনার জওয়ানদের সমর্পিত করেন। মোদীর এই বয়ানের জন্য রিপোর্ট চেয়েছে নির্বাচন কমিশনও।

ফ্রম আ গ্রুপ অফ ভেটরেন্স টু আওয়ার সুপ্রিম কম্যান্ডর’ শীর্ষক ওই চিঠিতে যোগী আদিত্যনাথের বক্তব্যেরও কঠোর বিরোধিতা করা হয়েছে। যেখানে সেনা বাহিনীকে ‘মোদীজি কি সেনা’ বলতে শোনা যায়। চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ আপনিই। তাই বিষয়টি আপনার দৃষ্টিতে আনতে চাইছি। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা দেশের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষে দুর্ভাগ্যজনক৷ সেনার নানা অপারেশন, যেমন সীমান্ত পেরিয়ে হামলার মতো সাফল্যকে রাজনীতির প্রচারে কাজে লাগাচ্ছেন একাধিক রাজনৈতিক নেতা৷ যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক৷’

এখানেই শেষ নয়। রাজনৈতিক প্রচারে ভারতীয় উনিং কমান্ডর অভিনন্দন বর্তমানের ছবি ব্যবহার করা নিয়েও আপত্তি তুলেছেন অবসরপ্রাপ্ত জওয়ানরা। তাই রাষ্ট্রপতি যাতে বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে অবিলম্বে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন সেই দাবি তুলেছেন সেনা প্রাক্তন জওয়ানরা।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here