মহানগর ওয়েবডেস্ক: লকডাউনের জেরে বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশে গিয়ে আটকে পড়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বহু নাগরিক। তারপর মাসের পর মাস কেটে গেলেও ঘরে ফেরা হচ্ছে না তাঁদের। অসহনীয় পরিস্থিততে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়ে দিন গুজরান হচ্ছে তাঁদের। এর কারণ হিসেবে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে নবান্ন। অভিযোগ, বাংলাদেশ সরকার এবং কেন্দ্রের তৎপরতা সত্ত্বেও ওই ভারতীয় নাগরিকদের ফেরানোর ব্যপারে কোনও উদ্যোগ নেই রাজ্য সরকারের। অন্য দিকে বিমান চলাচল বন্ধ রেখে বন্দে ভারত মিশনের আওতায় তাদের নিয়ে আসার পথও বন্ধ করে রাখা হয়েছে। কাজেই কেন্দ্রীয় সরকার যে উদ্যোগী হয়ে ওই আটকে থাকা ভারতীয়দের ঘরে ফেরাবে তারও উপায় নেই। এমত আটকে পড়া ওই সব মানুষকে ঘরে ফেরাতে ফের একবার রাজ্য সরকারকে অনুরোধ করে চিঠি দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। বাংলাদেশে আটকে থাকা ওই সব মানুষের দূরবস্থার কথা উল্লেখ করে তাদের দ্রুত ফেরানোর আবেদন জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে। আটকে পড়া বারতীয় নাগরিকদের সিংহভাগই এরাজ্যের বাসিন্দা।

মহামারীর আবহে বিশ্বজোড়া লকডাউনের জেরে ভিন দেশে আটকে পড়া সব মানুষই বাধ্য হয়েছিলেন যে যেখানে আটকে রয়েছেন সেখানেই থেকে যেতে। পরে আস্তে আস্তে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতেই বিশ্বের প্রায় সব দেশই ভিন্ন ভিন্ন দেশে আটকে পড়া নাগরিকদের নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করে দিয়েছে। ভারতেও শুরু হয়েছে সেই কাজ। বন্দে ভারত মিশন নাম দিয়ে কেন্দ্র সরকার বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া ভারতীয়দের বিমানযোগে এ দেশে ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করে দিয়েছে। সম্প্রতি কোঝিকোড়ে যে বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে সেটিও এই বন্দে ভারত মিশন প্রকল্পেরই অঙ্গ ছিল। কিন্তু এত কিছুর মাঝে বাংলাদেশে আটকে পড়া প্রায় ২৭০০ জন ভারতীয়কে উদ্ধারের জন্য কোনও উদ্যোগই নেওয়া যাচ্ছে না। যার জন্য রাজ্যের ভূমিকাকেই দায়ী করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।

জানা গিয়েছে, লকডাউনের আগে বাংলাদেশে গিয়ে সেখানে আটকে রয়েছেন প্রায় ২৭০০ জন ভারতীয়। এদের মধ্যে সিংহভাগই আবার পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। এরা সবাই এখন কার্যত কপর্দকহীন অবস্থায় বাঙ্গালাদেশের নানা ত্রাণ শিবিরে শরণার্থীদের মতো বাংলাদেশ সরকারের দয়া দাক্ষিণ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এমতাবস্থায় হাসিনা সরকার কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনুরোধ জানায় যত দ্রুত সম্ভব এদের যেন ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে। কিন্তু যেহেতু রাজ্যের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়েই এদের ফেরাতে হবে তাই রাজ্যসরকারের অনুমোদন এক্ষেত্রে প্রয়োজন বলে বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর। তাই কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানায়। কিন্তু তারপেরও নবান্নের তরফে কোন রকম তৎপরতা দেখানো হয়নি বলে অভিযোগ। উল্টে বন্দে ভারত মিশনের বিমান চলাচলও বন্ধ করে দেওয়ায় বিমানযোগে তাদের ফেরানোর পথও বন্ধ করে দিয়েছে রাজ্য।

এরপর গত ৭ আগস্ট বিদেশমন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব বিক্রম দুরাইস্বামী মুখ্যসচিব রাজীব সিনহাকে আবারও চিঠি পাঠিয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে, ‘প্রায় ২৭০০ ভারতীয় নাগরিক আটকে আছেন বাংলাদেশে। এঁদের সিংহভাগ পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। দ্রুত ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিন। অত্যন্ত দুর্ভোগের মধ্যে ত্রাণ শিবিরে দিন কাটাচ্ছেন এরা। এই সব নাগরিকরা পেট্রাপোল আর চাংড়াবন্ধা সীমান্তের ওপারে অপেক্ষারত । এর মধ্যে ২৩৯১ জন বেনাপোল পেট্রাপোল হয়ে ফিরতে চাইছেন।’ নবান্নের যুক্তি, পশ্চিমবঙ্গে করোনার যা অবস্থা তার থেকেও খারাপ অবস্থা বাংলাদেশের। এখন সেখান থেকে প্রায় ৩ হাজারের কাছাকাছি মানুষ এ রাজ্যে প্রবেশ করলে সংক্রমণ ব্যাপক আকার নিতে বাধ্য। সেই কথা মাথায় রেখেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে স্থলবন্দর বা চেকপোস্টের মাধ্যমে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার ছাড় দিলেও নাগরিকদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here