নিজস্ব প্রতিবেদক,মেদিনীপুর: অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের কাছে ভুয়ো পরিচয় দিয়ে ফোন করে দুই প্রতারক। ফোনে কথা বলার সময় এটিএমের পিন নম্বর জেনে নেয় তারা। তারপরেই ঘটে বিপত্তি, প্রতারকরা অ্যাকাউন্ট থেকে সাবাড় করে দেয় প্রায় সব টাকা। এই বিষয় পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হলে, তদন্তে নেমে পুলিশ গ্রেফতার করে ওই দুই প্রতারক সঞ্জু কুম্ভকার এবং সুরজিৎ সেনকে। উদ্ধার করা হয় চুরি হওয়া টাকাও।

পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশনের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সনত অধিকারীর কাছে গত ১ অক্টোবরে ব্যাংক ম্যানেজারের পরিচয় দিয়ে একটি ফোন আসে তার মোবাইলে। সেই সময় ফোনে প্রতারকরা নানান অছিলায় তাকে জানায় তার এটিএম কার্ড বন্ধ হয়ে যাবে পিন নাম্বার না বললে। তখন তিনি কিছু বুঝতে না পেরেই তিনি কার্ডের পিন নম্বরটি বলে দেন তাদের। ওই দিনই ফোনে কথা বলার কিছু সময় পরই মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় তারা শিক্ষকের একাউন্ট থেকে। বিষয়টি তিনি পরে বুঝতে পারেন, যে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। বুঝতে পেরেই ওই শিক্ষক কতোয়ালী থানার পুলিশের কাছে দ্বারস্থ হন। গোটা বিষয়টি তিনি পরিস্কার করে পুলিশকে জানান। শেষে পুলিশ ঘটনাটিতে তদন্তে নেমে প্রতারকদের ফেলে রাখা বেশ কিছু ক্লু হাতে পায়। সেই তথ্য ধরেই পুলিশ জানতে পারে, প্রতারকরা বর্ধমান এলাকার বাসিন্দা। এরপরই বর্ধমান জেলার সালানপুর থানার পুলিশের সহযোগিতায় রবিবার সঞ্জু কুম্ভকারকে কালাদবাড় গ্রাম এবং সুরজিৎ সেনকে সিধাবারি গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার পর পুলিশের জেরায় প্রতারকরা কিভাবে চুরি করেছিল এবং কোথায় রেখেছে ওই টাকা সব কিছুই জানায়। যার ফলে সনত বাবু ফিরে পায় তার চুরি হওয়া পুরো টাকাটাই। প্রতারণা মামলায় সোমবার দুই প্রতারককে মেদিনীপুর জেলা আদালতে তোলা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here