বিদায় প্রথম মোদী সরকারে ট্রাবলশ্যুটার, রাজনীতির নক্ষত্রপতন

0

মহানগর ওয়েবডেস্ক: কিডনি আগেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল৷ শরীরে ক্যানসার থাবা বসিয়েছিল৷ সব লড়াই শেষ করে আজ দুপুর ১২টা ০৭ মিনিটে চলে গেলেন প্রথম মোদী সরকারের অন্যতম ট্রাবলশ্যুটার অরুণ জেটলি৷ ভারতীয় রাজনীতিতে নক্ষত্রপতন৷ শারীরিক অবস্থার প্রবল অবনতি হওয়ায় ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে রাজি হননি অরুণ জেটলি। অসুস্থতার জেরে মোদীর মন্ত্রিসভায় মন্ত্রকের দায়িত্ব নিতেও চাননি তিনি। মোদী-১ ক্যাবিনেটে তিনি অর্থমন্ত্রী থাকার সময়ই জিএসটি ও নোটবন্দির মতো বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। মোদী সরকারের নানা সমস্যার সমাধানের নাম জেটলি৷ ক্যাবিনেটের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন৷ সুষমা স্বরাজের মৃত্যুর ঘা এখনও কাটিয়ে ওঠেনি দেশ৷ তার আগেই প্রয়াত হলেন অরুণ জেটলি।

দীর্ঘ দিন ধরেই অসুস্থ অরুণ জেটলি। ডায়াবিটিসের রোগী তিনি। অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন গতবছর কিডনি প্রতিস্থাপনও হয় তাঁর। যে কারণে ফেব্রুয়ারি মাসে অন্তর্বর্তী বাজেটের সময় সংসদে উপস্থিত থাকতে পারেননি। শারীরিক অসুস্থতার জেরে মে মাসেও এক বার এইমসে ভর্তি হন জেটলি। সেই থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে সে ভাবে আর দেখা যায়নি তাঁকে।
এমনকি এ বছর লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদী দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় ফিরলেও, মন্ত্রিত্ব নিতে রাজি হননি জেটলি। সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে গেলেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় বরাবরই সক্রিয় অরুণ জেটলি। মোদী সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের পক্ষে নিয়মিত সওয়ালও করেন তিনি।

ছাত্র জীবনেই রাজনীতিতে হাতেখোড়ি হয় জেটলির। সত্তরের দশকে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজেপির ছাত্র সংগঠন এবিভিপির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। জাতীয় জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে পথে নেমে ২ দফায় জেলে যেতে হয়েছিল অরুণ জেটলিকে। এক সময় এবিভিপির দিল্লি শাখার সভাপতি এবং পরে সংগঠনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হন। সেই সূত্র ধরে পরে যুব মোর্চা এবং পরে সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া। ১৯৯১ সাল থেকে বিজেপির জাতীয় কার্যনির্বাহীর সদস্য জেটলি।

১৯৫২ সালের ২৮ ডিসেম্বর অরুণ জেটলির জন্ম। বাবা মহারাজ কিষেণ জেটলি ছিলেন পেশায় আইনজীবী। শ্রীরাম কলেজ থেকে বাণিজ্যে স্নাতক হয়েও পরে এলএলবি করেন। পরে আইন ব্যবসায় যোগ দেন। সুপ্রিম কোর্টের দুঁদে আইনজীবীদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। বিভিন্ন সময়ে অর্থ, প্রতিরক্ষা, কপোর্রেট অ্যাফেয়ার্স, শিল্প ও বাণিজ্য এবং আইনের মতো কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটের গুরুত্বপূর্ণ পোর্টফোলিও তাঁর হাতে ছিল৷ একাধিক রোগের বিদ্রোহের কাছে হার মানলেন এই দক্ষ রাজনীতিক৷ বিদায় জেটলি৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here