ডেস্ক: তাঁর উদাহরণ দিয়ে দিন দুয়েক আগেই আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়কে কটাক্ষ করেছিলেন প্রকাশ রাজ। সংস্কৃতির সংজ্ঞা ওই ইমামের কাছ থেকে বাবুলকে শিখতে বলেছিলেন দক্ষিণের এই অভিনেতা। আসানসোলে সাম্প্রদায়িক অশান্তির জেরে নিজের ছেলে হারিয়ে এখনও শান্ত ইমাম মহম্মদ ইম্মাদুল্লাহ। রামনবমীর দিন থেকে শুরু হওয়া অশান্তির জেরে নিজের ১৬ বছরের ছেলে সিবঘাতুল্লা এখন চিরনিদ্রায়। কিন্তু ইমাম যেন এখনও ভাবলেশহীন। অশান্তির আগুন যাতে আর না ছড়ায় সেই প্রার্থনা করে সবাইকে একছাদের তলায় রাখতে চাইছেন তিনি।

আসানসোলের মসজিদের ঘরে রবিবার তাঁকে বলছে শোনা যায়, আমি ইমাম। হিন্দু-মুসলিম-শিখ সবাই আমার সন্তানের মতো। আমাদের দেশের সংস্কৃতি হল সম্প্রীতি। যতদিন বেঁচে আছি ততদিন মানুষের জন্য কাজ করব, ভালোবাসার জন্য কাজ করব। নিজে ইমাম হলেও কৃষ্টে আর খ্রিষ্টে কোনও তফাত করেন না ইম্মাদুল্লাহ। শুধু কোরান নয়, রামায়ণও পড়েছেন তিনি। সেই প্রসঙ্গ টেনে ইমাম বলেন, আমিও রামায়ণ জানি। যারা হানাহানি করে তারা রামকেও জানে না, ধর্মও বোঝে না। তারা ভ্রান্ত।’

ইমাম ছেলেকে হারিয়েও নিজেকে বৃহৎ স্বার্থে নিজেকে সামলে রেখেছেন। কিন্তু ইম্মাদুল্লাহর বিবি খাদিজাতুলকুব্রা পুত্রশোকে এখনও বিহ্বল। সিবঘাতুল্লার মায়ের কথা টেনে দুঃখ প্রকাশ করে ইমাম বলেন, ওঁর মায়ের দিকে তাকানো যাচ্ছেনা। কেঁদে কেঁদে শরীর খারাপ হয়ে গিয়েছে।

হিন্দু-মুসলিম মিলিয়েই ইমামদের প্রতিবেশী। অশান্ত পরিস্থিতিতে সবাইকে ফেলে পালাতে চান নি। তাই থেকে গিয়েছে আসানসোলেই। ইম্মাদুল্লাহ বলছেন, ‘আসানসোলএর সঙ্গে আমার নাড়ির টান। কেউ চেষ্টা করলেও তা ছিঁড়তে পারবে না।’ স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে তাই পুলিশ প্রশাসনের ভরসায় না থেকে নিজে থেকেই এগিয়ে এসেছেন। হাত জোর করে তাই সকলকে ইমামের নিবেদন, আমরা যদি সকলে দায়িত্ব নেই তাহলে আর গোলমাল হবে না।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here