sports news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কথাই শেষ পর্যন্ত সত্যি প্রমাণিত হল। করোনার কোপে ভেস্তে গেল চলতি বছরের এশিয়া কাপ। টুইট করে এই সিদ্ধান্ত জানাল এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)।

বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট কিছুদিন আগে ইনস্টাগ্রাম লাইভে এসে বলেছিলন, “করোনা ভাইরাসের জেরে সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপ হচ্ছে না।” এসিসি ঠিক সেই কথা জানিয়েই টুইট করে।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে এবারের এশিয়া কাপ ৫০ ওভারের পরিবর্তে ২০ ওভারের ফরম্যাটে হওয়ার কথা ছিল।

এশিয়া কাপের আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু পাকিস্তানে গিয়ে ভারত খেলবে না বলেই জানিয়ে দিয়েছিল বিসিসিআই। ফলে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি কিংবা শ্রীলঙ্কায় এবারের এশিয়া কাপ আয়োজন নিয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে টুর্নামেন্ট আয়োজনের কোনও ঝুঁকি নিতে চাইল না এসিসি।

আপাতত যা পরিকল্পনা আছে তাতে করে ২০২১ সালে শ্রীলঙ্কায় হবে এবারের স্থগিত হয়ে যাওয়া এশিয়া কাপ আর ২০২২ সালের এশিয়া কাপের আয়োজক হবে পাকিস্তান।

সৌরভের মুখে আগাম এশিয়া কাপ বাতিলের ঘোষণা শুনে তেলে-বেগুন জ্বলে উঠেছিল এশিয়া কাপের আয়োজক দেশ পাকিস্তান। সৌরভের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের মিডিয়া ডিরেক্টর সামিমুল হাসান সৌরভের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তিনি বলেন, “সৌরভের কথার কোনও ওজন নেই। উনি প্রতি সপ্তাহে একটা করে মন্তব্য করলেই তার ভিত্তি থাকে না।”
এর সঙ্গে হাসান জুড়ে দিয়েছেন, “এশিয়া কাপ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত এসিসি নেবে। একমাত্র এসিসি-র প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান এশিয়া কাপ নিয়ে ঘোষণা করতে পারেন। আমি যতদূর জানি এসিসি-র পরের বৈঠক কবে সেটাই এখনও পর্যন্ত ঠিক হয়নি।”

পিসিবি প্রধান এহসান মানি যদিও সুর নরম করেই এক প্রকার সৌরভের মন্তব্যকে সমর্থন করেছিলেন। সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, “এসিসি চেষ্টা করছে পরের বছর এশিয়া কাপ আয়োজন করার। এই বছর আয়োজন করা অত্যন্ত ভয়ানক হতে পারে। আমরা এশিয়া কাপ আয়োজনের দায়িত্ব শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছি। এখানে কোনও রাজনীতির প্রশ্ন নেই, একেবারে ক্রিকেটীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত আমাদের।”

বর্ষীয়ান প্রশাসক মনির বক্তব্য ছিল যে, তারা কোভিড পরিস্থিতি দেখে যা বুঝেছেন তাতে করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, পাকিস্তান ও অন্যান্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা শ্রেয় নয়। সেক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কা অনেক এগিয়ে।

অন্যদিকে পাক সাংবাদিক সাজ সাদিক মানিকে উদ্ধৃত করে লিখেছেন, “আমরা এখনও এসিসি-র পক্ষ থেকে এশিয়া কাপ বাতিলের ব্যাপারে কিছু জানতে পারিনি। আমরা অপেক্ষা করছি। হয়তো সৌরভ কিছু জানেন, সেটা আমি জানি না। তবে এসিসি-র থেকে কিছু শুনিনি।”

এশিয়া কাপ না হওয়ায় আইপিএলের রাস্তা আরও প্রশস্ত হলো। কারণ আসন্ন অক্টোবর-নভেম্বর মাসে টি ২০ বিশ্বকাপ হওয়াও যে আর সম্ভব নয়, তা মোটামুটি নিশ্চিত ভাবে বলা যায়। দেখতে গেলে ডিসেম্বরের আগে আর কোনও টুর্নামেন্ট থাকছে না। সেক্ষেত্রে বিসিসিআইয়ের তরফে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে আইপিএলের আয়োজন করা যেতেই পারে। তবে সেটা দেশের মাটিতে নয়। বিদেশের মাটিতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here