ডেস্ক: দ্বিতীয় এবং চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জির তালিকার উপর ঝুলে রয়েছে প্রায় দেড় কোটি অসমবাসীর ভাগ্য। সোমবার বেলা ১২টা বাজলেই প্রকাশিত হবে এনআরসি তথা জাতীয় নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা। আদৌ তারা অসমে বসবাস করতে পারবেন কিনা, বলা ভাল ভারতেই বসবাস করতে পারবেন কিনা তা সাফ হয়ে যাবে এদিন। চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জি নিয়ে বিশেষ করে শঙ্কায় রয়েছেন অসমের বাঙালি প্রজাতি। কারণ গত বছরের শেষ দিন নাগরিকপঞ্জির যে প্রথম তালিকা প্রকাশ হয়েছি, তাতে প্রায় ৭০ শতাংশ বাঙালির নামই ছিল না।

অসমে নাগরিকপঞ্জির বিরোধীতা প্রথম থেকেই করে এসেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মূলত বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ আটকাতেই চালু করা হয়েছিল এই নাগরিকপঞ্জি । কিন্তু নাগরিকত্বের যথেষ্ট প্রমাণ দেওয়ার পরেও তালিকায় নাম ওঠেনি, এমন অভিযোগও বারবার উঠে এসেছিল। এই আইনে ১৯৭১ সালের পর যারা ভারতে এসেছেন, তাদের ভারতীয় গণ্য করা হবে না বলে জানা গিয়েছে। এই কারণেই নাগরিকপঞ্জি ইস্যুতে অসমে বৃদ্ধি হয়েছে বিক্ষোভের। উল্লেখ্য, ১৯৫১ সালে প্রথম তৈরি হয় নাগরিকপঞ্জির খসড়া। কিন্তু, সে সময় তা প্রকাশ পায়নি। বর্তমান সরকার ফের তালিকা তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর নাগরিকপঞ্জির প্রথম তালিকা প্রকাশ পাওয়ার পরই উদ্বেগ চরমে ওঠে। কারণ আবেদনকারী ৩ কোটি ২৯ লক্ষ জনগণের মধ্যে অধিকাংশের নামই বাদ পড়ে যার মধ্যে সিংহভাগ ছিলেন বাঙালি। প্রথম তালিকা প্রকাশের পরই বিক্ষোভ ও অসন্তোষের ঝড় ওঠে অসমে। আজ দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশের পরই স্পষ্ট হয়ে যাবে প্রচুর অসমবাসীর ভবিষ্যৎ। অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনেয়াল অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন যাদের নাম তালিকায় আসবে না তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই। আগামী সময়ে ফের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন জানাতে পারবেন তারা।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here