ডেস্ক: গোটা উত্তর-পূর্ব ভারত নাগরিকত্ব বিল নিয়ে রাজনৈতিক দিক থেকে অস্থির হয়ে উঠেছে। বিজেপির জোট সঙ্গীরা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সেই বিল নিয়ে সোচ্চার হয়ে উঠেছে বিগত কয়েকদিন ধরেই। প্রাথমিকভাবে কিছুটা রক্ষণাত্বক হলেও শুক্রবার নাগরিকত্ব বিলের স্বপক্ষে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় মত ব্যক্ত করলেন অসমের অর্থমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা। অসমকে দ্বিতীয় কাশ্মীর হওয়ার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য নাগরিকত্ব বিলের প্রয়োজন বলে তিনি জানান। সংশোধনী বিলটি শুধু অসমের জন্য নয় গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতের কাছে এক সুবর্ণসুযোগ বলে তিনি দাবি করেন। উল্লেখ্য গত ৮ জানুয়ারি লোকসভায় সংশোধনী বিলটি পাশ হয়ে গেলেও শীতকালীন অধিবেশন শেষ হয়ে যাওয়ায় রাজ্যসভার অনুমোদন পায়নি। এরপর থেকেই নাগরিকত্ব বিল নিয়ে গোটা উত্তর-পূর্ব ভারত উত্তাল হয়ে ওঠে এবং জনমত অনেকটাই বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ’র বিরুদ্ধে যায়। এই বিলকে কেন্দ্র করে অসম সহ উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন রাজ্যে কিছু হিংসাত্বক ঘটনা ঘটে এবং অসম গণপরিষদ এনডিএ জোট থেকে বেরিয়ে যায়।

বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের একটি ‘টক শো’তে হেমন্ত বিশ্ব শর্মা বিল নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে বলেন, অসমের মানুষদের বোঝা উচিত যে এই বিল শুধুমাত্র অসমের জন্যই প্রযোজ্য নয় এবং শরণার্থীদের বোঝা শুধু অসমকে বইতে হবে না সমগ্র দেশই সেই শরণার্থীদের ভার ভাগ করে নেবে। বস্তুত অসমের ১৭ টি বিধানসভা কেন্দ্র বিশেষভাবে সুরক্ষিত থাকবে অন্যথায় এই ১৭ টি কেন্দ্র বদরুদ্দিন আজমলের নেতৃত্বাধীন অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের হাতে চলে যাবে। ”নাগরিকত্ব প্রতিষ্ঠা করার যুদ্ধে আমাদের জিততে হবে কারণ যেভাবে কাশ্মীরে আত্মসমর্পণ করা হয়েছে সেভাবে আমরা অসমে আত্মসমর্পণ করতে পারি না।’ উত্তর-পূর্ব ভারতে এনডিএ’র আহ্বায়ক কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বলেন, যে তাঁরা নাগরিকত্ব বিল নিয়ে অসমের মানুষকে বিপথে চালিত করছে। তিনি আরও জানান, এনআরসিতে নাম না থাকা ৪০ লক্ষ মানুষের মধ্যে ইতিমধ্যেই ২০ লক্ষ লোককে নথিভুক্ত করা হয়েছে যারা প্রত্যেকেই হিন্দু।

বহু মুসলিম শরণার্থী অসাধু উপায়ে কাগজপত্র তৈরি করে নিজেদের নাম এনআরসিতে নথিভুক্ত করেছে বলে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী দাবি করেন। একইসঙ্গে তিনি এও বলেন এই সুযোগ হিন্দু বাঙালিরা পায়নি। রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকের বোঝা উচিত এই হিন্দু শরণার্থীরা কেন ভারতে আসতে বাধ্য হয়েছে।’ প্রসঙ্গত উল্লেখ্য নাগরিকত্ব বিলের সাহায্যে আফগানিস্থান, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান থেকে আগত হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, পার্সি, জৈন এবং খ্রিষ্টান ধর্মালম্বীর মানুষেরা ছয় বছর ভারতে বসবাস করলে যথাযথ কাগজপত্র না থাকলেও তারা ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here