kolkata news

Highlights

  • বনধে সকাল থেকেই দফায় দফায় অবরোধ-বিক্ষোভে জেরবার হতে হয়েছে রাজ্যবাসীকে
  •  রেললাইনে বসে, ওভারহেড তারে কলাপাতা ফেলে বহু জায়াগায় থামিয়ে দেওয়া হয় ট্রেন
  • বারাসতে রেল লাইনের পাশ থেকে উদ্ধার হয় বোমা


নিজস্ব প্রতিনিধি:
নাগরিকপঞ্জি, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন-সহ বেশ কয়েকটি ইস্যুতে বাম ও বিরোধীদের ডাকা ভারত বনধে সকাল থেকেই দফায় দফায় অবরোধ-বিক্ষোভে জেরবার হতে হয়েছে রাজ্যবাসীকে। রেললাইনে বসে, ওভারহেড তারে কলাপাতা ফেলে বহু জায়াগায় থামিয়ে দেওয়া হয় ট্রেন। আটকে পড়ে যাত্রীরা। বারাসতে রেল লাইনের পাশ থেকে উদ্ধার হয় বোমা। কোথাও কোথাও বাস ও বিভিন্ন গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। সব মিলিয়ে বেশ ভাল রকম প্রভাব পরে এই বনধে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক গোটা রাজ্যের বনধের খণ্ডচিত্র।

উত্তর ২৪ পরগনা: বারাসতে জোড়া বোমাতঙ্ক৷ বারাসতের নিবেদিতা পল্লইর পাশাপাশি হৃদয়পুর স্টেশনের কাছে রেললাইনের ওপর তিনটি তাজা বোমা রাখা হয়। বনগাঁ-শিয়ালদা ডাউন লাইনের বারাসতের নিবেদিতাপল্লি সংলগ্ন রেললাইনের ওপর থেকে কৌটোবোমা উদ্ধার করে পুলিশ৷ স্থানীয়দের দাবি, মঙ্গলবার গভীর রাতেই কেউ বা কারা এসে রেললাইনের ওপর কৌটোবোমা রেখে দিয়ে যায়৷ তাদের আরও অভিযোগ, সম্ভবত বনধ সমর্থকরাই একাজ করেছে মানুষকে আতঙ্কিত করার জন্য।

district news

মালদা: অবরোধকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও অবরোধকারীদের মধ্যে বচসা বাধে মালদার সুজাপুরে। পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। পুলিশের চারটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় অবরোধকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে পুলিশ।

পূর্ব বর্ধমান: বনধ সমর্থনকারীরা এদিন সকাল থেকেই জোর করে বনধ সফল করার রাস্তায় নামেন। এদিন সকালে বামেদের মিছিল থেকে বীরহাটা এলাকায় পরপর গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। বেশ কিছু দোকানকে জোর করে বন্ধ করার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় ধস্তাধস্তি হয়। জায়গায় রাস্তা অবরোধ করে বনধকে সফল করার চেষ্টা করলে পুলিশ গিয়ে অবরোধকারীদের হঠিয়ে দেয়। বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল বয়েজ স্কুলের সামনে বনধ সমর্থনকারীদের সঙ্গে বনধ বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক বচসা বাধে। মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে পুলিশ আটকও করে। অপরদিকে, বাসে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগে এদিন বর্ধমান শহরের দুই বাসস্ট্যান্ড থেকেই বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। যদিও এদিন সরকারি বাস কিছু চললেও তা ছিল এদিন প্রয়োজনের তুলনায় কম। এরই পাশাপাশি এদিন বর্ধমান আদালতে বিচারকরা ঢুকতে গেলে বামপন্থী আইনজীবীরা তাঁদের আদালতের কাজ না করার জন্য আবেদনও জানান। অন্যদিকে, এদিন বাজার দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা ছিল কম।

kolkata news

নদিয়া: কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় গেটের সামনে ধর্মঘটে বসেন বাম সংগঠনের সদস্যরা। এদিন কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষ ছিল। বিজেপি-র অভিযোগ, বাম সংগঠন ফেস্টুন দিয়ে পরীক্ষা বাতিল করে। কিন্তু সেই অভিযোগ অস্বীকার করেন বাম সমর্থকরা। বিজেপির অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়ে তাঁরা জানান, বাম সংগঠন শান্তিপূর্ণ ভাবে ধর্মঘট করছে। পরীক্ষা বাতিলের কোনও ফেস্টুন লাগানো হয়নি। সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। পরীক্ষা হবে।

উত্তর দিনাজপুর: সরকারি বাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটল রায়গঞ্জে। সকালে একটি বেসরকারি বাসের পর এবার সরকারি বাসে ভাঙচুর চালান বনধ কর্মী-সমর্থকেরা। ঘটনাটি ঘটেছে রায়গঞ্জ থানার বারদুয়ারি এলাকার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে। প্রথমে বেসরকারি ও পরে সরকারি বাস ভাঙচুরের ঘটনায় আতঙ্কিত বাস চালক থেকে যাত্রীরা। এদিন চাঁচল-শিলিগুড়িগামী একটি সরকারি বাস রায়গঞ্জ থানার বারদুয়ারি এলাকার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে পৌঁছলে আচমকায় ওই সরকারি বাসটিকে লক্ষ্য করে বনধ কর্মী সমর্থকরা ইঁট ছুড়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাস চালক থেকে বাসযাত্রীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ।

kolkata news

কোচবিহার:বনধের সমর্থনে সমস্ত শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কোচবিহার শহরে মিছিল বের করা হলে সেই মিছিলকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। তবে সেই মিছিল কোচবিহার শহর পরিক্রমা করে। বনধ সমর্থনকারীরা মিছিল থেকে বাস চলতে বাধা দেয়। শহরের হরিশপুর এলাকায় বাসগুলোকে আটকে দেয় তারা। তারপরে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন কোতোয়ালি থানার আইসি সৌমজিৎ রায় ও ডিএসপি সমীর পাল। তাদের সঙ্গে বচসা বাধে বনধ সমর্থনকারীদের। বনধ সমর্থনকারীদের সঙ্গে পুলিশের হাতাহাতি হয়। লাঠিচার্জ করে পুলিশ। বনধ সমর্থনকারীরা মিছিল বের করে শহরের কাচারি মোড় এলাকায় যখন আসে, সেই সময় উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণের যাত্রিবাহী গাড়িতে আটকে দেয় তারা। ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ। সেই সময় পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে সমর্থনকারীরা। এর পরেই লাঠিচার্জ করে পুলিশ।

জলপাইগুড়ি: বনধে এখনও পর্যন্ত মিশ্র প্রতিক্রিয়া জলপাইগুড়িতে। যদিও লিন পিরিয়ড এখন। তবুও চা বাগানগুলিতে বনধ উপেক্ষা করে শ্রমিকদের আসা শুরু হয়েছে। এখনও দোকানপাট বন্ধ। সরকারি বাস চললেও তাতে যাত্রী কম। হেলমেট পরে সরকারি বাস চালানোয় বনধ সমর্থনকারীদের সঙ্গে বাস চালকদের বচসা নিয়ে জলপাইগুড়ি ডিপোতে সামান্য উত্তেজনা হয়। চলছে বেসরকারি পরিবহণ। চলছে ট্রেন। কিন্তু চলছে না বেসরকারি বাস। তেমন কোনও অশান্তির খবর নেই।

রাজারহাট: দমদম রেল স্টেশনে বুকিং কাউন্টার বন্ধ করে দিল সিপিএম। রেল ও কলকাতা পুলিশের সামনেই গায়ের জোরে বন্ধ করে দেয় ধর্মঘটীরা। মেট্রো ও সাধারণ ট্রেনের সমস্ত বুকিং কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েন যাত্রীরা। পুলিশ কার্যত দর্শক। কণীনিকা ঘোষ ও দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে, রাজারহাটে চিনার পার্কে দোকানপাট গায়ের জোরে বন্ধ করে দিলেন কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা। এদিন সকাল বেলায় দোকানপাট খোলা দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়েন বনধের সমর্থনকারী কংগ্রেস কর্মীরা। স্থানীয় কংগ্রেস নেতা শেখ নিজামউদ্দিনের নেতৃত্বে দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাগুইআটি থানার পুলিশের সামনেই দোকানপাট বন্ধ কর্মসূচি নেয় কংগ্রেস। পরে অবশ্য পুলিশ শান্তিপূর্ণ ভাবে দোকানদারদের পুনরায় দোকান খোলার জন্য আহ্বান জানায়।

পুরুলিয়া: বনধের সমর্থনে পথে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসকে দেখা গেলেও বনধের বিরোধিতায় তৃণমূলকে দেখা যায়নি। তবে বনধ সমর্থক বামফ্রন্ট নেতা বদ্যনাথ কৈবর্ত গ্রেফতার হলে বামফ্রন্ট নেতা-কর্মীরা প্রশাসনকে হুমকি দেন তাকে নিঃস্বার্থ মুক্তি না দিলে থানা ঘেরাও করা হবে। তাই কিছুক্ষণ পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে জানান ফরওয়ার্ড ব্লক জেলা কমিটির নেতা মুকেশ দাস। সিপিএমের ঝালদা এরিয়া কমিটির সম্পাদক উজ্জ্বল চট্টরাজ জানান, এই বনধ সর্বাত্মক।

kolkata news

বীরভূম: সিউড়ি সহ জেলার অন্যান্য অংশ সকাল থেকেই সবকিছু ছিল স্বাভাবিক। বাজার হাটখোলা, স্কুল ছিল খোলা সমস্ত অফিসেই হাজিরা স্বাভাবিক। বেসরকারি বাস না চললেও সরকারি বাস এদিন ছিল রাস্তায় প্রচুর। ফলে নিত্যযাত্রীদের কোনও অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়নি। সকাল থেকেই শহর জুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা। বাম কর্মী-সমর্থকরা ধর্মঘটের সমর্থনে সকাল থেকে রাস্তায় নামেন। শহরের বিভিন্ন এলাকা জুড়ে মিছিল করেন। বাম কর্মীরা সিউড়ি বাস স্ট্যান্ডে সকালবেলায় রাস্তায় বসে পড়ে প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে। ফলে সেই সময়ের জন্য বাস চলাচল বিঘ্ন হয়। পরে পুলিশ সমর্থনকারীদের হটিয়ে দেয় ঘটনাস্থল থেকে।

পশ্চিম মেদিনীপুর: বনধের মাঝে সাতসকালে বাস ভাঙচুর ঘাটালে। মনসুকা থেকে হাওড়াগামী বাসটি ঘাটালের বসন্ত কুমার বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় উল্টো দিক থেকে আসা সিপিএমের মিছিল থেকে ওই বাসে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। বাস মালিকের দাবি, পরিবহণ মন্ত্রীর আশ্বাসে ধর্মঘটের মধ্যেও বাস নামিয়ে ছিলাম রাস্তায়। কিন্তু এভাবে বাস ভাঙচুর হওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে। ঘটনার পরই এলাকায় পৌঁছয় পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here