ডেস্ক: অসমে নাগরিকপঞ্জী নিয়ে বিতর্কের কোনও শেষ নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের এনআরসি-র ফলে রাতারাতি উদ্বাস্তু হয়ে যান ৪০ লক্ষ মানুষ। এই এনআরসি ইস্যু নিয়ে বারবার বিরোধীদের তোপের মুখে পরতে হয়েছে। এবার জাতীয় নাগরিকপঞ্জী সংশোধনী বিল ২০১৬-র বিরোধিতা করে গোটা অসমজুড়ে মঙ্গলবার ১২ ঘন্টার বনধের ডাক দিয়েছে ৪৪টি সংগঠন। এই বনধের নেতৃত্বে রয়েছে কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতি বা কেএমএসএস এবং অসম জাতীয়বাদী যুব ছাত্র পরিষদ। এদিন কেএমএসএস-এর নেতা অখিল গগৈ বলেন, বিজেপি শাসিত সরকারের আমলে রাজ্যের সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করার জন্যই এই বনধ ডাকা হয়েছে। গোটা রাজ্যজুড়ে বনধের ভালো প্রভাব চোখে পড়ছে।

অন্যদিকে, তালিকায় নাম না থাকায় আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক! সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে অসমের মঙ্গলদই জেলায়। জানা যাচ্ছে, অসমে হওয়া এনআরসি তালিকায় নাম ছিল না নিরোধ কুমার দাসের (৭৪)। ৩৪ বছর শিক্ষকতা করার পর অবসর নিয়ে ওকালতি করতেন তিনি। এনআরসি হওয়ার পরে পরিবার এমনকি আত্মীয় পরিজনের সকলের নাম তালিকাভুক্ত হলেও বাদ পড়ে তার নাম। নিজের দেশে থেকে রাতারাতি পরিচয় হারিয়ে ফেলার কষ্ট ঘিরে ফেলেছিল তাকে। উদ্বাস্তু হয়ে যাওয়ার মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার প্রাতঃভ্রমণ করে বাড়ি ফেরার পর নিজেকে ঘরবন্দি করে ফেলেন নিরোধ বাবু। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর সাড়া না মেলায় ভাঙা হয় দরজা। দেখা যায়, গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছেন তিনি। তার পাশ থেকে উদ্ধার হয় একটি সুইসাইড নোট, যাতে এনআরসিতে নাম না থাকার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here