ডেস্ক: প্রত্যাশামতোই পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার পঞ্চম আসনে জয়ী হলেন কংগ্রেস প্রার্থী অভিষেক মনু সিংভি৷ তিনি মোট ৪৭টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন৷ কংগ্রেসের দলছুট বিধায়কদের বাদ দিয়ে যে ৩২ টি ভোট ছিল তার পুরোটাই এবং তৃণমূল অবশিষ্ট ও গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বিধায়কদের ভোট মিলিয়ে এই সংখ্যক ভোট পেয়েছেন সিংভি৷ অন্যদিকে, তাঁর প্রতিপক্ষ বাম সমর্থিত সিপিএম প্রার্থী রবীন দেব পেয়েছেন ৩০টি ভোট৷ অর্থাৎ, বাম বিধায়কদের সব ভোটই তিনি পেয়েছেন৷ বাকি চারটি আসন সরাসরি জিতে নিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস৷ তৃণমূল প্রার্থী নাদিমূল হক ও আবির ঘোষ পেয়েছেন ৫২টি করে ভোট৷ শুভাশিস চক্রবর্তী পেয়েছেন ৫৪টি ভোট৷ এবং শান্তনু সেন ৫১টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন৷ সুতরাং, এই রাজ্যের রাজ্যসভার ফলাফলে স্পষ্ট কোনওরকম ক্রস ভোটিং কোনও দলের পক্ষ থেকেই হয়নি৷ তবে বিজেপির বিধায়করা এবার রাজ্যসভার ভোট থেকে নিজেদের সরিয়ে রেখেছিলেন৷

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ২৩ মার্চ ছিল রাজ্যসভা নির্বাচন ও ফলপ্রকাশ। ২১৩ জন বিধায়ক নিয়ে এই নির্বাচনে তৃণমূলের জয় এক প্রকার নিশ্চিতই ছিল। তৃণমূলের চার প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করার পর বাকি পড়ে থাকা ভোট দিয়ে কংগ্রেস প্রার্থী তথা বিখ্যাত আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভিকে পঞ্চম আসনে সমর্থন করার ঘোষণা করেছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কংগ্রেসের ৩২ টি ভোট ছাড়া তৃণমূলের থেকে ১৫ টি ভোট নিয়ে রাজ্যসভায় জয়ী হলেন অভিষেক মনু সিংভি। তার এই জয় নিশ্চিত ভাবে রাজ্য রাজনীতিতে কংগ্রেস ও বাম জোটের অন্দরমহলে ঝড় তুলতে বাধ্য। অন্যদিকে, এদিন তৃণমূলের ৩ বিধায়কের ভোট বাতিল হওয়ায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই তিন জনের মধ্যে রয়েছেন মুর্শিদাবাদের তৃণমূল বিধায়ক জাকির হোসেন সহ গোবিন্দ নস্কর ও হাজি নুরুল। এতবার করে প্রত্যেককে শিখিয়ে দেওয়ার পরও কেন এমনটা হল তা জিজ্ঞেস করেন মমতা। তবে এই ভোট বাতিল কোনও রকমভাবে প্রভাব ফেলেনি রাজ্যসভার ফলাফলে। তৃণমূলের চার প্রার্থী নাদিমুল হক সহ শুভাশিস চক্রবর্তী, আবির বিশ্বাস ও শান্তনু সেন জয়ী হন নির্বাচনে। অন্যদিকে, তৃণমূলের সমর্থনে পঞ্চম আসনের দখল নিলেন অভিষেক মনু সিংভি।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের রাজ্যসভা নির্বাচনেও রাজ্য তৃণমূল, কংগ্রেস প্রার্থী প্রদীপ ভট্টাচার্য্যকে সমর্থন করেছিল। তৃনমূল নেত্রীর এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে একটি মাস্টার স্ট্রোক বলেই স্বীকার করে নিচ্ছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। রাজ্যে বিরোধ থাকলেও কেন্দ্রে হাত হাত মিলিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল। একইসঙ্গে বাম-কংগ্রেস জোটের ফাটলে তৃণমূলী জল ঢোকায় সেই ফাটল যে আরও দীর্ঘ হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here