মহানগর ওয়েবডেস্ক: কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির ‘’বিক্ষুব্ধ ২৩’’ এর একজন হলেন গুলাম নবি আজাদ। সোনিয়া গান্ধীকে তাদের আভিমত প্রকাশ করে চিঠি দেওযার জন্য ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে প্রায় চক্রব্যূহ রচনা করে তাদের ওপর যে আক্রমণ চালানো হয়েছে তা প্রায় নজিরবিহীন। যদিও দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা করে আজাদ এবং কপিল সিবাল সভার বাইরে এসে সেদিন তাদের ক্ষোভের কোনও বহিঃপ্রকাশ দেখাননি। কিন্তু এত সহজে যে এই পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদরা লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে যাবেন না সেটা বৈঠকের চারদিনের মধ্যেই আবার প্রমাণ হয়ে গেল।

৭১ বছর বয়সি প্রবীণ নেতা গুলাম নবি আজাদ সংবাদ সংস্থাকে এদিন জানিয়েছেন ‘’বিক্ষুব্ধ ২৩’’ নেতাকে আক্রমণ করে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে যারা সবথেকে বেশি সরব হয়েছিলেন, দলীয় নির্বাচন হলে তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, ‘’যে সব পদাধিকারীরা বা প্রদেশ সভাপতি জেলা ও ব্লক স্তরের সভাপতি আমাদের প্রস্তাবকে আক্রমণ করেছেন, তারা জানেন নির্বাচন হলে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।‘’  একই সঙ্গে তিনি বলেন যারা প্রকৃত কংগ্রেসি তারা সকলেই এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানাবেন।

চিঠির বিষয়বস্তু সম্পর্কে আজাদ বলেন, প্রস্তাবে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা সহ জেলা প্রেসিডেন্ট, ব্লক প্রেসিডেন্ট এবং ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যদের নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। কারণ হিসেবে রাজ্যসভার সদস্য বলেন, ‘’নির্বাচনের সুবিধা হল, আপনি যখন নির্বাচনে জিতবেন তখন আপনার পেছনে দলের অন্তত ৫১ শতাংশ সদস্য থাকবেন। এই মুহূর্তে যিনি সভাপতি হচ্ছেন তার পেছনে সম্ভবত ১ শতাংশও সমর্থন নেই। যদি কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা নির্বাচনের মাধ্যমে আসেন তাহলে তাদের সরানো যাবে না। তাহলে সমস্যাটা কোথায়?’’

সোনিয়া গান্ধীকে লেখা ২৩ জন নেতার এই চিঠিকে অনেকেই প্রকারন্তরে রাহুল গান্ধীর ওপর আক্রমণ বলে মনে করছেন। গত বছর লোকসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির দায় কাঁধে নিয়ে সভাপতির পদ থেকে সরে গেলেও নেপথ্যে তিনিই দলকে পরিচালনা করছেন এমন একটি অভিযোগ বিক্ষুব্ধদের মধ্যে রয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন। বিগত কয়েক মাস দলের প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে রাহুলের ‘একান্ত’ টিমের সংঘাত তীব্র হয়ে উঠেছে বলে দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রের খবর। এই চিঠি তারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন অনেকেই।

ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সোনিয়া অনুগতরা প্রবল আক্রমণ করেন চিঠির স্বাক্ষরকারীদের। অম্বিকা সোনি বা মল্লিকার্জুন খাগড়ের মতো নেতারা প্রস্তাবকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। ‘’অসৎ উদ্দেশ্যের মানুষ’’ ফলে আজাদদের কথা বলতেই দেওয়া উচিত নয় বলে অধীর রঞ্জন চৌধুরী সোনিয়া গান্ধীর কাছে ধমক খান। অবশেষে এআইসিসি অধিবেশন না হওযা পর্যন্ত আগামী ছ’মাসের জন্য সোনিয়া গান্ধীকেই সভাপতি রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here