বাবুল সুপ্রিয়কে ‘পরিযায়ী পাখি’-র সঙ্গে তুলনা ফিরহাদের

0
232

নিজস্ব প্রতিবেদক, আসানসোল: তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি আসলে একটি ‘ভ্রান্ত কর্মসূচি’। শুক্রবার রানিগঞ্জে দলীয় কার্যালয়ের উদ্বোধনে এসে এমনই মন্তব্য করলেন আসানসোলের বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। তৃণমূলের জনসংযোগ কর্মসূচিতে মানুষের আদৌ কোনও উপকার হয় না দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পুরোটাই মজার বিষয় হয়ে গিয়েছে। মানুষ ফোন করলে প্রথমে জানতে চাওয়া হচ্ছে, তিনি কোন দলের সমর্থক। এই কর্মসূচিতে মানুষ উপকৃত হচ্ছে না।’ ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি ‘হরি বোল’ হয়ে গিয়েছে বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। যদিও এই কটাক্ষের পাল্টা জবাব দিয়ে বাবুলকে ‘পরিযায়ী পাখি’-র সঙ্গে তুলনা করলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূলের পর্যবেক্ষক ফিরহাদ হাকিম। একইসঙ্গে বিজেপির ‘দাদাকে বলো’ কর্মসূচি তৃণমূলের কর্মসূচির অনুকরণ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।

জানা গিয়েছে, এদিন সকাল থেকেই বিজেপি-তৃণমূল বাকযুদ্ধে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আসানসোল মহকুমা। এদিন সকালে প্রথমে রানিগঞ্জের আমরাসোত মোড় এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের উদ্বোধনে এসে তৃণমূলের জনসংযোগ কর্মসূচি নিয়ে তোপ দাগেন বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচিকে ‘ভ্রান্ত কর্মসূচি’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের কাজকর্মকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে বোমা বাধার কাজ হয় না।’ পাশাপাশি এই স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি তাঁর বার্তা, ‘গান যেমন লয়-ছন্দ দিয়ে বাধা থাকে, তেমনই দলীয় কার্যালয়ের কাজকর্মও যাতে লয়-ছন্দ নিয়ে হয়, সেদিকে সকলকে নজর রাখতে হবে।’ তৃণমূলের লয়-ছন্দ হারিয়েছে বলেও তোপ দাগেন বাবুল। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি. চিদম্বরমকে গ্রেফতার করা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যেরও সমালোচনা করেছেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই চিদম্বরমকে গ্রেফতার করা হয়েছে দাবি জানিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোর প্রতি বিজেপি সাংসদের পাল্টা প্রশ্ন, ‘দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) বলছেন, চিদম্বরমকে গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি মানা হয়নি। যারা দুর্নীতিতে জড়িত তাদের কীভাবে গ্রেফতার করা হবে? সেটা দিদিই বলে দিক।’

দলীয় কর্মসূচি ও দলনেত্রী সম্পর্কে বাবুলের কটাক্ষ অবশ্য মেনে নেয়নি তৃণমূল। এদিন বিকালেই আসানসোলের অগ্নিকন্যা ভবনে দলীয় কর্মীসভায় যোগ দিতে এসে ফিরহাদ হাকিম দিদিকে বলো কর্মসূচি নিয়ে বাবুলের কটাক্ষের জবাব দেন। বলেন, ‘বাবুল সুপ্রিয় একজন পরিযায়ী রাজনীতিবিদ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই, আন্দোলন করে উঠে আসার ইতিহাস সম্বন্ধে তাঁর কোনও উপলব্ধি নেই। দিদিকে বলো কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মানুষ খুশি হয়েছে।’ এপ্রসঙ্গে বিজেপির ‘দাদাকে বলো’ কর্মসূচিকেও কটাক্ষ করেন তিনি। বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ যা করেন, অনান্য রাজনৈতিক নেতারা কাল তাঁকে অনুসরণ করেন। তবে এসব করে ওদের কোনো লাভ হবে না।’ বিজেপিকে ‘ফাটকাবাজদের দল’ বলে কটাক্ষ করেন ফিরহাদ। একইসঙ্গে গত বৃহস্পতিবার পাণ্ডবেশ্বরে রেলের টিকিট কাউন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এলাকার বিধায়ক মলয় ঘটক ও জীতেন্দ্র তিওয়াড়ির অনুপস্থিতি নিয়ে বাবুল যে কটাক্ষ করেছিলেন, তারও জবাব দেন কলকাতার মেয়র। তাঁর কথায়, ‘বাবুল সুপ্রিয় হচ্ছে পরিযায়ী পাখী। যে সুখের সময় আসে আর দুঃখের সময় দেখা যায় না। অন্যদিকে, মলয় ঘটক ও জীতেন্দ্র তিওয়াড়ি হচ্ছেন ভূমিপূত্র। এঁরা আসানসোল শিল্পাঞ্চলের জনগণের সুখে-দুঃখে সবসময় কাছে থাকে। কোথাও কোনও অসুবিধা হলে তাঁদের পীড়িতদের পাশে থেকে সবরকম সাহায্য করতে দেখা গিয়েছে। বর্তমানে তাঁরা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে জনসংযোগও বাড়াচ্ছেন।’ একইসঙ্গে জনসংযোগ যাত্রা ও দিদিকে বলো কর্মসূচির সুফল পাওয়া যাচ্ছে জানিয়ে দলের সমস্ত নেতা-কর্মীদের ইগো ভুলে দলের স্বার্থে জনসংযোগ বাড়ানোর নির্দেশও দেন পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল পর্যবেক্ষক।

এদিন অগ্নিকন্যা ভবনে তৃণমূলের কর্মীসভায় একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী মলয় ঘটক, পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তথা মহানাগরিক জীতেন্দ্র তিওয়াড়ি, কুলটির বিধায়ক উজ্জ্বল চ্যাটার্জী, বারাবনির বিধায়ক বিধান উপাধ্যায়,পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা চেয়ারম্যান ভি শিবদাসন দাসু, আসানসোল পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র তাবাস্সুম আারা, চেয়ারম্যান অমরনাথ চ্যাটার্জী সহ তৃনমূল কাউন্সিলররা।
কর্মীসভার পর আসানসোল পৌরনিগমে কাউন্সিলরদের নিয়ে আলাদা বৈঠকও করেন ফিরহাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here