kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, আসানসোল: সরকারি অনুষ্ঠান শেষে জঙ্গলের পথ ধরে ফেরার সময় খবর পেয়েছিলেন জঙ্গলের অন্দরে চলছে বেআইনি কয়লা ডিপো। সেই খবরের ভিত্তিতেই সোজা গাড়ি নিয়ে চলে গেলেন সেই ডিপোর সামনে। পৌঁছে দেখেন সেখানে বেশ কয়েকটি লরি দাঁড়িয়ে আছে কয়লা পাচারের জন্য। সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে নেমে সেই লরিতে উঠে খুলে নিলেন তার ইঞ্জিনের চাবি। সেই ঘটনার ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়ের এহেন কীর্তির ভিডিও বেশ ভালই ভাইরাল হল সোশ্যাল মিডিয়াতে।

রবিবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার সালানপুরের সিধাবাড়ি গ্রামে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। সেখানে প্রশিক্ষণ দিয়ে ৬৬ জন মৃৎ শিল্পীদের হাতে বৈদ্যুতিক মেশিন ও শংসাপত্র তুলে দেওযা হয়। ওই গ্রামে গত দশ দিনে মৃৎ শিল্পীদের নতুন বৈদ্যুতিক মেশিন দিয়ে মাটির জিনিসপত্র তৈরি করা শেখানো হয়েছে। এই মেশিন ও শংসাপত্র পেয়ে খুশি মৃৎশিল্পীরা। আসানসোল লোকসভা আসনটি জেতার পর বাবুল এই গ্রামটি দত্তক নিয়েছিলেন। রবিবার এই গ্রামে এসেই নিজের গলায় গান শোনান বাবুল। যদিও বিরোধী অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির বক্তব্য ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়া মাত্রই বাবুল নিজের ভোট প্রচার শুরু করেছেন। গানের সুরে জানান দিতে চেয়েছেন যে এই গ্রামের মানুষের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর সম্পর্ক। এই অনুষ্ঠান শেষে আরও একটি সভা যাওয়ার পথেই বাবুল জঙ্গলের ভেতরে বেআইনি কয়লা ডিপো চলার খবর পান।

 

পাণ্ডবেশ্বর ও রানিগঞ্জ থানা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মাফিয়া ও পুলিশের যোগসাজশে বেআইনি কয়লার কয়লার কারবার চলছে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় রানিগঞ্জের চেলোদ এলাকায় বিজেপির একটি দলীয় অনুষ্ঠান ছিল। তাতে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। কালিপাহাড়ি জঙ্গলের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তার কাছে খবর আসে, জঙ্গলের ভিতরে বেআইনি কয়লার ডিপো চলছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জঙ্গলের ভিতরে যান বাবুল। কিছুদূর যেতে বেআইনি কয়লার ডিপোটি দেখতে পান। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর গাড়ি দেখে বেআইনি কারবারিরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থানে গিয়ে নিজেই কয়লার গাড়িতে উঠে লরির চাবি খুলে নেন বাবুল। সেই ঘটনার ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পরে দলীয় সভায় গিয়ে বাবুল বলেন, ‘লরিটিকে ধরে চাবি নিয়ে চলে এসেছি। চিন্তা করবেন না সব বন্ধ করব। চাবি আমার পকেটে রয়েছে। কারোর হিম্মত থাকলে চাবি নিয়ে যাক।’ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কয়েক মাস আগে দুর্গাপুরে একটি প্রশাসনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রী বেআইনি কয়লার লাগাম টানতে সিসিটিভি লাগাতে বলেছিলেন পুলিশ প্রশাসনকে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায় যে কোন কাজ তেমন হয়নি তার প্রমাণ মিলল রবিবারের এই ঘটনায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here