নিজস্ব প্রতিবেদক, বালুরঘাট: নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে শিশুকে বাঁচিয়ে অনন্য নজির গড়লো দক্ষিন দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট জেলা হাসপাতাল। প্রসঙ্গত গত ১০ই সেপ্টেম্বর জেলার গঙ্গারামপুর মহকুমার তপন ব্লকের মহাদেবপুর গ্রামের দুই বছর ছয় মাসের সাকিব সরকার নামে এক শিশুকে সাপে কাটে। প্রাথমিক অবস্থায় শিশুটির বাড়ির লোকজন বুঝতেই পারেনি যে শিশুটিকে সাপে কামড়েছে। রাত গড়াতেই সাকিবের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে দেখে তার বাবা রুবেল সরকার ছেলেকে নিয়ে তড়িঘড়ি তপন গ্রামীণ হাসপাতালে যান। শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে বালুরঘাট হাসপাতালে রেফার করে দেন।

গত ১১ই সেপ্টেম্বর শিশুটিকে সকাল সাড়ে নয়টা নাগাদ বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন শিশুটির পরিবার। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডঃ সমীরণ পুরোকাইত জানান, শিশুটিকে যখন হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তখন সে মৃতপ্রায়, শ্বাস প্রস্বাস প্রায় বন্ধ, এমনকি শিশুটির ভেইন এও বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ায় তাকে বাঁচানো একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। তারপর উপর সমস্যা হয়ে দেখা দেয় বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে শিশুদের কৃত্তিম ভেন্টিলেশানের কোন ব্যবস্থা না থাকায়। এমনকি আশেপাশের জেলাগুলিতেও সে ব্যবস্থা নেই। এমন এক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আমাদের চেষ্টা করা ছাড়া আর দ্বিতীয় কোন পথ ছিল না। হাসপাতালে কর্তব্যরত নার্স ও অন্যান্য কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শুরু হয়েছিল এক হার না মানা লড়াই। প্রত্যেকের মধ্যে একটা জেদ চলে আসে যে, যে করেই হোক শিশুটিকে বাঁচিয়ে তুলবই। টানা ৭ঘন্টা ধরে একনাগাড়ে চলে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে জীবন ফিরিয়ে দেওয়ার লড়াই। কৃত্তিম ভাবে ফুসফুসে অক্সিজেন পাঠিয়ে শিশুটির চিকিৎসা শুরু হয়। শিশুটিকে বাঁচাতে গিয়ে অন্য কোথাও যেতেও পারেন নি ডঃ সমীরণ পুরোকাইত এর নেতৃত্বাধীন মেডিক্যাল টিম।

অবশেষে শিশুটির স্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাস চালু হয় এবং চিকিৎসায় সারা দেওয়া শুরু করে। বাঁধনহারা উচ্ছ্বাস দেখা যায় পুরো টিমের চোখে মুখে। শিশুটিকে অবশ্য শনিবার পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসকদের নজরদারিতেই রেখে দেওয়া হয়। রবিবার তাকে সুস্থ শরীরে রিলিজ করে দেওয়া হয়। এর পরেই শিশুটির বাবা রুবেল সরকার জানান,’ডাক্তার যে ভগবানের রূপ তা শুনেছিলাম, আজ চাক্ষুস করলাম। ডাক্তারবাবু আমার ছেলেকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে তুলেছেন। তাকে কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার কাছে নেই।’ বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের সুপার তপন বিশ্বাস জানিয়েছেন,’আমাদের হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের অদম্য জেদ আর হার না মানা মানসিকতার কাছে হার মানলো মৃত্যু। আমরা সকলেই গর্বিত।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here