ডেস্ক: আগেই জানিয়ে ছিলেন, সেইমতো বৃহস্পতিবার নতুন রাজনৈতিক দলের নাম ঘোষণা করলেন বাইচুং ভুটিয়া। এদিন দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নয়া দল ঘোষণা করেন বাইচুং। প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের নতুন দলের নাম ‘হামরো সিকিম পার্টি’। দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষদের সঙ্গে নিয়ে রাজনীতির লড়াইয়ে নামবেন বলে জানান বাইচুং। ২০১৯-এ সিকিম বিধানসভা নির্বাচন৷ সেই নির্বাচনে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে সংসদীয় রাজনীতি আত্মপ্রকাশ ঘটবে পাহাড়ি বিছের দলের।

উল্লেখ্য, আগেই তৃণমূল ছেড়েছিলেন বাইচুং৷ অবসরের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে রাজনীতির ময়দানে পা রাখেন৷ ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে দার্জিলিং আসন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে ভোটে দাঁড়িয়ে ছিলেন৷ লড়াই দিলেও শেষরক্ষা হয়নি৷ হারতে হয়েছিল মোর্চা সমর্থিত বিজেপি প্রার্থী সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়ার কাছে৷ এরপর দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে দার্জিলিং জেলায় সংগঠনের মাথায় বসিয়ে ছিলেন৷ ২০১৬ সালে শিলিগুড়ি থেকে বিধানসভা নির্বাচনে জোড়াফুল প্রতীকে দাঁড়িয়ে ছিলেন৷ কিন্তু সেবারও খালি হাতে ফিরতে হয় বাইচুংকে৷ তৃণমূলের ভরা জোয়ারেও শিলিগুড়িতে সিপিএম প্রার্থী অশোক ভট্টাচার্যের কাছে হারতে হয় তাঁকে৷ তখন থেকেই দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে৷ অবশেষে স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়েন বাইচুং৷ দল ছাড়ার পর বাইচুং ট্যুইটে লিখেছিলেন, ‘আজ থেকে আমি সরকারিভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যপদ ও সমস্ত পদ থেকে পদত্যাগ করলাম। আমি আর কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য নই। কিংবা কোনও দলের সঙ্গে যুক্ত নই।’

তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বেড়িয়ে যাওয়ার পর অবশ্য বাইচুং কোনও দলবিরোধী বক্তব্য বা মন্তব্য করেনি৷ কোনও বিতর্কিতমূলক কথাও বলেননি৷ দল ছাড়ার প্রকৃত কারণও প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা করেননি বাইচুং৷ তৃণমূলের পক্ষ থেকেও বাইচুংয়ের দলত্যাগ নিয়ে কোনও অংশ থেকে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি৷

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি, ইস্টবেঙ্গলের লাল-হলুদ জার্সি গায়ে কলকাতা ফুটবলে তাঁর আর্বিভাব৷ ১৯৯৭ সালে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ফেডারেশন কাপ সেমিফাইনালে মোহনবাগানকে নাস্তানাবুদ করেছিল ইস্টবেঙ্গল৷ জয়ের নায়ক ছিলেন বাইচুং ভুটিয়া৷ তাঁর বর্ণময় ফুটবল কেরিয়ারে বাকিটা ইতিহাস৷ ভারতের প্রায় সবকটি বড় টুর্নামেন্টের ট্রফি জয়ের স্বাদ পেয়েছেন বাইচুং৷ খেলেছেন বিদেশের নামি ক্লাবেও৷ ভারতীয় দলের হয়ে অধিনায়কত্ব করেছিলেন বাইচুং৷ তাঁর হাত ধরেই প্রথমবারের জন্য নেহরু কাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছিল ভারত৷ এতো নয় গেল ফুটবলার বাইচুংয়ের সাফল্যের ইতিবৃত্ত৷ ফুটবল কেরিয়ারের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে সিকিম ইউনাইটেড নামে নিজের মালিকানাধীন ক্লাব তৈরি করেছিলেন পাহাড়ি বিছে বাইচুং৷ হোটেল ব্যবসাও করেছেন তিনি৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here