national news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: দেশে দীর্ঘদিন ধরে লকডাউন। সমাজের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত অংশ এর ফলে প্রভুত সমস্যায়। রোজগার নেই, সঞ্চয়ও শেষ। সকলেরই নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর অবস্থা। এমতাবস্থায় দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। একই ভাবে রমজান মাসে বৈষ্ণ দেবী মন্দিরের পক্ষ থেকে স্থানীয় গরিব মুসলিমদের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল সেহরি ও ইফতারির। সেই ঘটনা প্রশংসা কুড়িয়ে নিয়েছিল সারা দেশের।

কিন্তু অদ্ভুত ভাবে এই ঘটনায় রেগে আগুন বজরং দল। কেন অন্য ধর্মের মানুষদের সেবা করা হল, সেই প্রশ্ন তুলে বৈষ্ণ দেবী মন্দিরের বোর্ডের সিইও’র পদত্যাগ দাবি করল বজরং দল। সংবাদ সংস্থা টাইমস নাও’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বজরং দলের রাজ্য সভাপতি নবীন সুদান বলেন, ‘ইফতারি-সেহরি আয়োজন করে মন্দির বোর্ডের সিইও রমেশ কুমার হিন্দুদের ভাবাবেগে আঘাত করেছেন। আমরা এই ঘটনার নিন্দা করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওনার ক্ষমাপ্রার্থনা বা পদত্যাগ দাবি করছি।’

বজরং দলের রাজ্য সভাপতির দাবি, বৈষ্ণ দেবীতে হিন্দুরা অর্থ দান করেন। তাই শুধুমাত্র হিন্দুদেরই এই অর্থের মাধ্যমে সাহায্য করা উচিত। কিন্তু যখন তাঁকে পাল্টা বলা হয় বৈষ্ণ দেবী মন্দিরে অন্য ধর্মের প্রচুর মানুষ দান দেন, তখন অবশ্য আর কিছু বলার মুখ হয়নি বজরং দলের ওই নেতার।

তবে ওই বজরং দলের নেতার দাবি শুনে হতবাক স্থানীয় মানুষজন। অনেকেই বলছেন এই ধরণের চিন্তাভাবনা ভারতের ঐক্যের ধারণার পরিপন্থী। ‘আমরা এখানে সবসময় বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যকে সম্মান করি। কিন্তু কিছু মানুষ ভারতের এই বিশ্বাসের মূলে কুঠারাঘাত করতে চাইছেন’, বলেন এক স্থানীয়। আরেক ব্যক্তি জানান, ‘এই ধরণের মত আসলে ভারত বিরোধী। এরাই আসলে দেশদ্রোহী। এনারা এইধরণের মন্তব্য করে দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির হাত মজবুত করছেন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here