kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, বনগাঁ: বিরোধীদের একের পর এক অভিযোগের জেরে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বেশ কিছু জেলা থেকে জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারদের বদলিও ঘটানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপের জেরে বিরোধী দলগুলি খুশি হলেও তা নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। আর সেই ক্ষুব্ধতার জেরেই এবার নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী তথা উত্তর ২৪ পরগনা জেলার তৃণমূল সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। বুধবার বিকালে জেলার বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মমতাবালা ঠাকুরের সমর্থনে স্বরূপনগর বিধানসভা কেন্দ্রীক কর্মীদেরকে নিয়ে একটি বৈঠকে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সেই ক্ষোভকেই উগরে দিলেন জ্যোতিপ্রিয়বাবু।

এদিন তিনি বলেন, ‘আমরা যখন যাই অভিযোগ জানাই না কেন তা নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথা ঘামাচ্ছে না কমিশন। অথচ বিরোধীরা যে যাই অভিযোগ করুক না কেন সেটা সঙ্গে সঙ্গে মেনে নিচ্ছে কমিশন। তাই বলতে বাধ্য হচ্ছি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ধোঁয়াশা আছে। বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে খুন করার কথা বলেছে। আমরা নির্বাচন কমিশনে সেই বক্তব্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালেও ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নেয়নি কমিশন। অথচ কোন এক বিজেপি নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে পুলিশ সুপারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিলেন আর রাতারাতি তাকে সরিয়েও দেওয়া হল। এটা আর যাই হোক স্বচ্ছতার নিদর্শন নয়। বিজেপির সব নেতারা পাগল। ওদের মাথার চিকিৎসা করানোর দরকার। নির্বাচনের নামে এ রাজ্যে অশান্তি করছে বিজেপি। বিজেপি নেতারা যাই করুক না কেন এ রাজ্য থেকে বিজেপিকে শূন্য হাতেই ফিরতে হবে। কারন আমাদের সকলের প্রিয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোটা রাজ্যে যেভাবে উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তাতে মুখ্যমন্ত্রী মডেল হিসেবেই চিহ্নিত হয়েছেন মানুষের মনে। মুখ্যমন্ত্রীর সব মস্তিষ্কপ্রসূত প্রকল্পগুলি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নকল করছেন।’

জ্যোতিপ্রিয়বাবুকে এদিন সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন তৃনমূলের সঙ্গে জামাতের সম্পর্ক নিয়েও। সেই প্রশ্নের উত্তরে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘মানুষ যখন হেরে যায় তখন তারা উল্টোপাল্টা বলে। জামাতের সঙ্গে তৃণমূলের কোন সম্পর্কই নেই। বিজেপি এ দেশে ১৬০টির বেশি আসন কখনই পাবে না।’ এদিন স্বরূপনগরের এই কর্মী বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিনা মন্ডল, বিধায়ক নির্মল ঘোষ ও স্বরূপনগর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, কর্মাধক্ষ্যরা থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here