Bangla Pokkho

কৌশিক মাইতি: বাংলায় এত রাজনৈতিক দল আছে, কিন্তু বাংলা পক্ষ কোন ইস্যুতে কী করছে– তা আস্তে আস্তে বাঙালির কাছে মুখ্য হয়ে যাচ্ছে। এই ইস্যুতে বাংলা পক্ষ কী করল, ওই ইস্যুতে বাংলা পক্ষ কী করল– ধেয়ে আসছে অসংখ্য প্রশ্ন। বাংলা পক্ষর নির্দিষ্ট কর্মপরিধি আছে, নির্দিষ্ট লক্ষ্য আছে। বাংলা পক্ষ ভোটে লড়া কোনও দল না, কারওর কাছে ভোট চায় না। তার পরও সকলের এত প্রশ্নর মানে কী? কেনই বা সবাই এত প্রশ্ন করে, বাংলা পক্ষ কী করছে জানতে চায়?

বাংলায় বাঙালি-কেন্দ্রিক রাজনীতির অনুপস্থিতি, বাঙালিকে ভারতে যে ঐতিহাসিক বঞ্চনা, বাঙালির সংকটময় বাস্তবতা– এই শূন্যস্থান পূরণ করতে কোনও দলই এগিয়ে আসেনি। এই শূন্যস্থানেই বাংলা পক্ষ ঝড় হয়েছে। এত দ্রুত বাঙালির আশা-ভরসার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে বাংলা পক্ষ। এর পিছনে কতিপয় ছেলেমেয়ের অক্লান্ত ও অমানুষিক পরিশ্রম আছে। বাংলা পক্ষর বাঙালি ছাড়া কারওর কাছে দায়বদ্ধতা নেই, এত আপোষ নেই। এটাই বাংলা পক্ষর সাফল্যের মূলকারণ।

বাংলা পক্ষ বাংলায় আগামীর রাজনীতি সবার আগে বোঝে৷ অসমে এনআরসির খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই৷ বাংলা পক্ষ তার আগেই ৩০ জুন এনআরসি-বিরোধী কর্মসূচি নিয়েছিল একাডেমি অব ফাইন আর্টসের সামনে রানুছায়া মঞ্চে। ২২ জুলাই কলকাতায় অসম ভবন ঘেরাও করেছিল বাংলা পক্ষ। তারপর থেকে লাগাতার প্রচার চালিয়েছে বাংলা পক্ষ, এই বাংলায় কোনায় কোনায় এনআরসি-বিরোধী আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠেছে বাংলা পক্ষ।

বাংলা পক্ষই প্রথম সংগঠন স্বাধীন ভারতে, যারা অসম ও বাংলার বাঙালির যোগসূত্র হিসাবে কাজ করেছে। বাংলার মানুষ এনআরসির বীভৎসতা বুঝছে, এটাই বাংলা পক্ষর সাফল্য। নানা দলের এনআরসি ইস্যুতে অবস্থানের অভিমুখ ঠিক করেছে বাংলা পক্ষ। ক’দিন আগেই কেন্দ্র সরকার ঘোষণা করেছে, সর্বভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ট্রান্স মেইন বাংলা সহ ১১টি ভাষায় হবে আগামী বছর থেকে। এর আগে বাংলা ও অন্যান্য অহিন্দি ভাষায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ না থাকায় বাংলা সহ ভারতের নানা দল প্রতিবাদে সামিল হয়েছিল। বাংলা পক্ষ এই ইস্যুতে ২০১৮ সাল থেকেই সরব। বাংলা পক্ষ এটাকে বাংলায় একটা রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়েছে, এটাই বাংলা পক্ষর সাফল্য। বাংলা পক্ষ প্রতিটা কেন্দ্র সরকারি পরীক্ষা বাংলায় দেওয়ার সুযোগ চায়।

নবনির্বাচিত মহারাষ্ট্র সরকারের প্রথম ঘোষণা তী? চাকরিতে ভূমিপুত্রদের ৮০ শতাংশ সংরক্ষণ। এটাই এখন ভারতের নানা রাজ্যে হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে স্থানীয়দের ৭৫ শতাংশ সংরক্ষণের জন্য অন্ধ্রপ্রদেশে বিল পাশ হয়েছে। বিজেপি-শাসিত গুজরাত ঘোষণা করেছে, হরিয়ানা করেছে, গোয়াও একই পথে হেঁটেছে৷ এদিকে কংগ্রেস শাসিত মধ্যপ্রদেশও চাকরিতে স্থানীয়দের সংরক্ষণের ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ দল-নির্বিশেষে নানা রাজ্য সরকার এই ঘোষণা করছে৷

পড়াশোনা ও চাকরিতে ভূমিপুত্র সংরক্ষণ চাই, এগুলো বাংলা পক্ষর দাবি সনদে আছে, যা দু’বছর আগে লেখা হয়েছে। পড়াশোনায় সঠিক ডোমিসাইল নীতির দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে বাংলা পক্ষ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাফল্যও পেয়েছে। মেডিক্যালে ভর্তিতে ডোমিসাইল বি বাতিলের দাবিতে বাংলা পক্ষ আবারও আন্দোলনে নামছে। আগামী কয়েক দিনেই চাকরিতে ভূমিপুত্রদের সংরক্ষণের জন্য রাস্তায় নামবে বাংলা পক্ষ এবং এই চাকরিতে সংরক্ষণকে কেন্দ্র করেই আগামীতে বাংলার রাজনীতি আবর্তিত হবে। এটাই বাংলার ভবিষ্যৎ রাজনীতি।

বাংলা পক্ষ বাংলা ও বাঙালির ভালর কথা সবার আগে বোঝে, স্পষ্ট করে বোঝে। বাঙালির সমস্যাই বাংলা পক্ষর একমাত্র সমস্যা। বাংলা পক্ষ ভারতের বাঙালির আশা-ভরসা৷ বাংলা পক্ষ বাংলায় রাজনীতির দিক-নির্ণায়ক। বাংলা পক্ষ ভারতের বাঙালির মুখপাত্র।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here