bangla pokkho

কৌশিক মাইতি: বাংলার চারিদিকে আলোড়ন, চারিদিকে আলোচনা৷ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বাঙালির অধিকার আদায়ের জাতীয় সংগঠন বাংলা পক্ষ। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে-যাওয়া ভারতের বাঙালি আশায় বুক বাঁধছে সে সংগঠনকে ঘিরে, তার নাম বাংলা পক্ষ। বাঙালির মেরুদণ্ড সোজা করার কারিগর বাংলা পক্ষ।

কী এই বাংলা পক্ষ? কেনই বা বাংলা পক্ষ? বাংলা পক্ষ ভারতের বাঙালির অধিকার আদায়ের অদলীয় রাজনৈতিক সংগঠন৷ অর্থাৎ, বাংলা পক্ষ এমন একটি সংগঠন, যারা বাংলা ও বাঙালির অধিকার নিয়ে রাজনীতি করে, কিন্তু ভোটে লড়ে না। বাংলায় রাজনীতি করা যে কোনও ধর্মীয় অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সদস্যরা বাংলা পক্ষে যোগদান করতে পারেন৷ ধর্মবিশ্বাস সবার ব্যক্তিগত, ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে একটা মৌলিক পরিচয় আছে আমাদের, আমরা জাতিতে বাঙালি, আমাদের মাতৃভাষা বাংলা।
সুতরাং, হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সব ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বাঙালি হিসাবে এক হয়ে নিজেদের অধিকার বুঝে নেওয়ার সংগঠন বাংলা পক্ষ। বাংলা পক্ষ একটা নীতিতে বিশ্বাস করে, ‘দলের উপর জাতি’। দল আসবে-যাবে, কিন্তু বাঙালি থাকবে, অধিকারের লড়াই থাকবে। বাংলা পক্ষর ঘোষিত বন্ধু নেই, কিন্তু যারা বাঙালিকে ধর্ম ও জাতপাতের ভিত্তিতে ভাগ করে, বাঙালির অধিকার কাড়ে তারা বাংলা পক্ষর ঘোষিত শত্রু।

ভারতের হিন্দি সাম্রাজ্যবাদই একনম্বর শত্রু বাঙালির। ভারত একটু যুক্তরাষ্ট্র, ফেডেরাল ব্যবস্থাই ভারতের ঐক্যের ভিত্তি। ‘বিবিধের মাঝে মিলন মহান’, অর্থাৎ বহুত্ববাদই ভারত রাষ্ট্রের মূলধারণা। কিন্তু ক্রমাগত রাজ্যের ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ চলছে। বিভিন্ন বিভাগে রাজ্যের অধিকার কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ফেডেরাল ব্যবস্থা সংকটে, বিপদে বহুত্ববাদ।

স্বাধীনতার আগে এবং স্বাধীনতার পর থেকে বাঙালি বঞ্চিত এই ভারতে৷ স্বাধীনতার পরপরই বাংলা থেকে সমস্ত কোম্পানি বা ব্যাংকের হেড অফিস অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হয়৷ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় বাংলাকে সর্বদাই আর্থিকভাবে তীব্র বঞ্চনা করে কেন্দ্র সরকার। মাশুল সমীকরণ করে সোনার বাংলার শিল্প-সম্ভাবনাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। ১৯৫১-র সেরা রাজ্য বাংলা ১৯৬৫-তে গিয়ে ধুঁকতে থাকে, কারণ কেন্দ্রীয় নীতি। বাংলার অর্থনীতির চাবিকাঠি দ্রুত গুজরাতি ও মাড়োয়ারিদের কুক্ষিগত হয়৷ যেই মাড়োয়ারিরা ১৯৪৩-এর দুর্ভিক্ষে চালের কালোবাজারি করে ৪০-৫০ লক্ষ বাঙালিকে না-খাইয়ে খুন করেছে।

একদিকে অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়া, অন্যদিকে বিহার-উত্তরপ্রদেশ-ঝাড়খণ্ড থেকে কর্মসূত্রে হিন্দি-উর্দুভাষীদের লাখে লাখে কলকাতায় আসা– এই দুইয়ের মাঝে বাঙালি অসহায় হয়ে পড়ে। কলকাতা সহ বাংলার নানা প্রান্তে দ্রুত জনবিন্যাস বদলায়৷ আসানসোল, খড়গপুর, ব্যারাকপুর, হাওড়া– সব শিল্পাঞ্চলই দখল হয়ে যায় বহিরাগতদের দ্বারা। ফুটপাত থেকে বড়বাজার, সবই বহিরাগতদের দখলে। নিজের মাটিতেই পরবাসী হয়ে যায় বাঙালি। কাজে বঞ্চিত হয়। এমনকী নানা এলাকায় সমাজ ও রাজনীতির দখল নেয় বহিরাগতরা। বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ক্রমাগত বিপদে পড়ে৷ হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ বাঙালিকে ধ্বংস করতে উদ্যত হয়ে পড়ে৷ উত্তর ভারতীয়রা বাংলার নিয়ন্ত্রক হয়ে যায়।

কেন্দ্র সরকারি অধিকাংশ চাকরির পরীক্ষা বাংলায় হয় না। সুভাষচন্দ্র বসু, বাঘাযতীনের জাতি বাঙালির জন্য বাংলা রেজিমেন্ট নেই ভারতীয় সেনাবাহিনীতে৷ কিন্তু ব্রিটিশের হয়ে ভাড়া-খাটা গোর্খা রেজেমেন্ট আছে। বিহার রেজিমেন্ট বা অসম রাইফেলসও আছে। রেলের চাকরি বাঙালিকে দেওয়া হয় না। আবার, কেন্দ্র সরকার সর্বদাই বাংলাকে আর্থিকভাবে অবহেলা করে। বাংলায় মাটির নিচে এত খনিজ থাকলেও বাংলা তার ভাগ পায় না। গুজরাতে বন্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়, ব্রাত্য থাকে বাংলা।

ভারতের অন্যান্য রাজ্যে বাধ্যতামূলকভাবে সে রাজ্যের মূল সরকারি ভাষায় চাকরির পরীক্ষা নেওয়া হয়৷ যেমন বিহার, ইউপি-তে হিন্দি, গুজরাতে গুজরাতি, তামিলনাড়ুতে তামিল ও মহারাষ্ট্রে মারাঠি বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাংলায় অধিকাংশ রাজ্য সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বাংলা বাধ্যতামূলক না৷ ফলে অন্য রাজ্য থেকে এসে এখানে চাকরি দখল করে। অন্যান্য রাজ্যে বাঙালি সে সু্যোগ পায় না৷ অন্য রাজ্যে কেন্দ্র সরকারি চাকরিতে যোগ দিতে গিয়ে বহুবার বাঙালি আক্রান্ত হয়ে ফিরেছে। রাজ্য সরকারি কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বহিরাগতদের ভিড় বাড়ছে৷ ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিক্যাল সর্বত্রই বহিরাগতদের রমরমা– কারণ আমাদের রাজ্যে সঠিক ডোমিসাইল নীতি নেই।

বাঙালি মেয়েরা নিরাপদ নন হিন্দি-উর্দুভাষী এলাকাগুলোয়। সুরক্ষিত নয় বাঙালি জাতি৷ বাইরে থেকে এসে মাস্তান, পঞ্চায়েত প্রধান, কাউন্সিলার, বিধায়ক বা সাংসদ সবই হচ্ছে অনেক বাঙালি-বিদ্বেষী। কিন্তু অন্য রাজ্যে বাঙালি এসব পদে আছে বা গুন্ডামি করছে ভাবাই যায় না। ব্যাংক, রেল, ডাকঘর, জীবন বিমা– ইত্যাদি ও অন্যান্য নানা জরুরি পরিষেবা বাংলায় পাওয়া যায় না। বাঙালি কি দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক? বাংলায় ব্যবসা করা নানা কোম্পানিও বাংলায় পরিষেবা দেয় না।

বাংলায় অনেক রাজনৈতিক দল আছে। কিন্তু বাঙালির ইস্যুগুলো নিয়ে প্রায় সব দলই নির্বিকার। বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি, বাঙালির অর্থনৈতিক ক্ষমতা– কোনও কিছু নিয়েই ভাবিত না অধিকাংশ দল৷ অর্থাৎ বাংলায় রাজনীতি করা কোনও দলই বাঙালির দল হয়ে ওঠেনি। অন্যদিকে ক্রমশ সংখ্যায় বাড়া বহিরাগতদের তোষণ চলেছে। কোনও কোনও দল তো তাদেরই, তারা বাঙালির শত্রু৷ বাংলায় তারা বাঙালিকে ভাঙার, ধ্বংস করার রাজনীতি করছে। এই প্রেক্ষাপটেই বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগঠন হিসাবে আত্মপ্রকাশ বাংলা পক্ষর। বাংলা পক্ষর একমাত্র লক্ষ্য, ভারতে বাঙালির সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা করা৷ চাকরি-বাজার-পুঁজি সবকিছুতেই বাঙালি এগোবে– এই স্বপ্ন নিয়ে পথচলা বাংলা পক্ষর৷ এই বাংলার সব কিছুতেই প্রথম অধিকার বাঙালি সহ অন্যান্য ভূমিজ জাতির, তারপর বহিরাগতদের, এখন যা উলটো।
স্বাধীন ভারতে আবারও বাঙালিকে রাষ্ট্রহীন করা হচ্ছে, নেমে এসেছে এনআরসি নামের বিভীষিকা। এই এনআরসি রুখে দিতেই লড়ছে বাংলা পক্ষ। এই বাংলার কোনও বাঙালিকে যাতে ডিটেনশন ক্যাম্পে না যেতে হয়– সেজন্য শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করবে বাংলা পক্ষ৷ ভারতের এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলা পক্ষ সময়ের দাবি।

বাংলা পক্ষর লক্ষ্য: ১. ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে মজবুত করা এবং রাজ্য হিসাবে বাংলার প্রাপ্য অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া।
২. বাংলার সব রাজ্য সরকারি চাকরিতে বাংলা বাধ্যতামূলক হোক। এবং রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা হলে তবেই যেন চাকরি পায়। অর্থাৎ বাঙালির চাকরি বাড়বে। বাংলা পক্ষ সরকারিতে ১০০% এবং বেসরকারি সব চাকরিতে কমপক্ষে ৯০% ডোমিসাইল চায়। ৩. সকল কেন্দ্র সরকারি চাকরির পরীক্ষা (লিখিত+মৌখিক) বাংলাভাষায় দেওয়ার সুযোগ থাকতে হবে।
৪. রাজ্য সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপক্ষে ৯০% ডোমিসাইল চাই অর্থাৎ রাজ্যে পড়াশোনায় বাঙালির অগ্রাধিকার চাই। ৫. বাংলা পক্ষ এমন বাংলা চায়, যাতে বহিরাগত অবাঙালিরা বাঙালিকে ধমকাতে-চমকাতে বা মারধর করতে না পারে। বহিরাগতদের থেকে বাঙালি নারী সহ বাঙালি জাতির নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা অন্যতম লক্ষ্য।
৬. এনআরসির নামে বাঙালিকে ধ্বংস করা যাবে না। অসমে ও বাংলায় বাঙালির মৃত্যুমিছিল চলছে। বাংলায় এনআরসি চলবে না।
৭. বাংলাভাগ করে গোর্খাল্যান্ড বা গ্রেটার কোচবিহার বানানো চলবে না।
৮. ব্যাংক, পোস্ট অফিস, জীবন বিমা সহ সব ফর্মে বাংলা চাই। বাংলায় ব্যবসা করা সব কোম্পানির পরিষেবা বাংলায় চাই। ৯. রাজ্যের প্রতিটা স্কুলে একটা বিষয় হিসাবে বাংলা বাধ্যতামূলক করতে হবে। রাজ্যে থাকা কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়গুলোয় দ্বিতীয় ভাষা বাংলা নেওয়ার সুযোগ চাই।

বাংলা পক্ষ, নানা কুৎসা ও তার জবাব
বাংলা পক্ষ নিয়ে নানা কুৎসা রটে। বাংলা পক্ষ নাকি জাতি-বিদ্বেষী। বাংলা পক্ষ জাতিসাম্যে বিশ্বাস করে৷ উত্তরপ্রদেশে একজন হিন্দিভাষীর যা অধিকার, এই ভারতে একজন বাঙালির একই অধিকার চাই। অন্যান্য রাজ্যে বাঙালি আক্রান্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বাঙালি-বিদ্বেষ সর্বত্র। বাংলা পক্ষ সুশীল সংগঠন না, ‘যেমন দেখাবে, তেমন দেখবে’ নীতিতে বিশ্বাসী।

বাংলা পক্ষ নাকি জামাতের টাকায় চলে!
যারা অভিযোগ করেন, তারা জানেনই না আসলে জামাত কী। বাংলা পক্ষ ঘোরতর ভাবে জামাত-এ-ইসলামী বিরোধী। জামাত-এ-ইসলামী বাঙালির বড় শত্রু। জামাতের টাকা নেওয়ার প্রসঙ্গ তো আসেই না, বরং তাদের ধ্বংস করার স্বপ্ন দেখে বাংলা পক্ষ। যারা অহেতুক অভিযোগ করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়, বাংলা পক্ষ তাদের অভিযোগ প্রমাণ করতে বারবার খোলা চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে, কিন্তু প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বাংলা পক্ষ নাকি গ্রেটার বাংলাদেশ বানাতে চায়!
বাংলা পক্ষ ভারতের অখণ্ডতায় বিশ্বাস করে। ভারতীয় সংবিধানে বিশ্বাস রেখে ভারতে বাঙালির সমানাধিকারের লড়াই লড়ছে। বাংলা পক্ষ ভারতের বাঙালির সংগঠন। বাংলা পক্ষ বারবার বাংলাদেশে হিন্দু বাঙালিকে নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে।

বাংলা পক্ষ উর্দুর বিরোধিতা করে না!
বাংলার মাটিতে হিন্দি-উর্দু দুটোই বহিরাগত ভাষা এবং দুটো ভাষাই সাম্রাজ্যবাদী। বাংলায় হিন্দি ও উর্দু আধিপত্যকে ধ্বংস করাই লক্ষ্য বাংলা পক্ষর। বাংলা পক্ষ হিন্দি ও উর্দু দুটো ভাষাকেই সমান চোখে দেখে। বাংলার কিছু জায়গায় উর্দু আগ্রাসনের তীব্র বিরোধিতা করেছে বাংলা পক্ষ।

বাংলা পক্ষর মূল টার্গেট গরিব বিহারিরা!

যে বাঙালির সাথে শত্রুতা করে না, যে বাঙালি-বিদ্বেষী না, সে বাংলা পক্ষর শত্রু না। বিহার বা অন্যান্য জায়গায় বাঙালিকে যেভাবে দেখা হয়, বাংলা পক্ষ বিহারিদেরও সে-চোখেই দেখে। গরিব বিহারিরাই তো গরিব বাঙালির কাজ ও চাকরি কাড়ছে। বাংলা পক্ষ কারওর বিরোধিতা না করে এখানকার সব কাজে বাঙালি সহ ভূমিপুত্রদের অগ্রাধিকার চায়। সোজা কথা! বাংলার হাসপাতলে আগে বেড পাবে ভূমিপুত্ররা, ফুটপাতের দখল ভূমিপুত্রদের। বাঙালির কাজ দখল না করলে, গুন্ডামি না করলে, বাঙালি নারীদের ‘বেশ্যা’ মনে না করলে, এলাকা দখল না করলে– গরিব বিহারীদের কোনও সমস্যা নেই।

বাংলা পক্ষ তৃণমূলের বি টিম!
বাংলা পক্ষর শত্রু বিজেপি, আরএসএস, বজরং দল, মিম, জামাত, জমিয়তে-উলেমা-হিন্দ ইত্যাদি। কিন্তু তৃণমূল-সিপিএম ও অন্যান্য দলগুলো বাংলা পক্ষর শত্রু না। বাঙালির অধিকারহনন করলে বাংলা পক্ষ সব রাজনৈতিক দলেরই বিরোধিতা করে এবং করবেও। বাংলা পক্ষ কোনও দলের বি টিম না, বাংলা পক্ষ বাঙালি জাতির এ টিম।

বাংলা পক্ষর সংগঠকরা বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের সাথে দেখা করেছেন বা টাকা নেন!
এই দাবি আজকাল কেউ কেউ ক্ষুদ্রস্বার্থে করছেন। অযৌক্তিক এই দাবির সপক্ষে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাওয়া যাবেও না, খোলা চ্যালেঞ্জ বাংলা পক্ষর। বাংলা পক্ষ বাঙালির টাকায় চলে, বাঙালির শত্রু কোনও রাজনৈতিক দল বা তাদের নেতার টাকায় না। বাংলা পক্ষর সদস্য ও সমর্থকদের আশীর্বাদে বাংলা পক্ষ এগিয়ে চলেছে। তাই অভিযোগ যারা করছেন, তাদের থেকে প্রমাণ চান।

বাংলা পক্ষর উল্লেখযোগ্য সাফল্য: ১. বাংলা পক্ষর আন্দোলনের ফলে বাংলায় পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরীক্ষা বাধ্যতামূলক বাংলা/ নেপালিতে হয়েছে। এটা বাংলা পক্ষর লড়াইয়ের জয়। এর ফলে বহু বাঙালি পুলিশ কনস্টেবলে চাকরি পাবেন। ২. যাদবপুরে ইঞ্জিনিয়ারিং-এ আমাদের করের টাকায় আসন দখল করছিলেন বাইরের রাজ্য থেকে আসা ছাত্রছাত্রীরা। অন্য রাজ্যে রাজ্য সরকারি কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সুযোগ পান না বাংলার ছেলেমেয়েরা। কারণ সব রাজ্যেই ডোমিসাইল আছে। ফলে বঞ্চিত হচ্ছিলেন আমাদের ছেলেমেয়েরা। বাংলা পক্ষ যাদবপুরে ভর্তিতে ডোমিসাইল ফিরিয়ে আনতে লড়াই-আন্দোলন শুরু করে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তিতে ৯০% ডোমিসাইল এসেছে। এর ফলে গ্রামবাংলা কিংবা কলকাতার ছেলেমেয়েরা যাদবপুরে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেন। ৩. নীটের মাধ্যমে রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজে রাজ্যের ছেলেমেয়েদের জন্য ৮৫% সংরক্ষিত আসনে ডোমিসাইল বি ফর্ম পূরণের মাধ্যমে বাইরের রাজ্যের ছেলেমেয়েরা ভর্তি হচ্ছেন। অন্য কোনও রাজ্যে ডোমিসাইল বি নেই, শুধুমাত্র ডোমিসাইল এ ফর্ম পূরণের মাধ্যমে ভর্তি হয় রাজ্য কোটায়। মেডিক্যালে ভর্তিতে ডোমিসাইল বি বাতিলের দাবিতে লড়াই করছে বাংলা পক্ষ। গত জুন মাসে মেডিক্যালে ভর্তিতে ডোমিসাইল বি ফর্ম বাতিলের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু এখনও ডোমিসাইল বি বাতিল হয়নি সরকারিভাবে। আংশিক সাফল্য এসেছে। লড়াই চলছে। আগামী শিক্ষাবর্ষেই যাতে ডোমিসাইল বি বাতিল হয়, সেজন্য লড়াই চলছে। ৪. রেলের টিকিটে বাংলা নেই৷ বাংলা পক্ষর আন্দোলনে রেল আমাদের দাবি মেনে নেয়। রেলের টিকিটে বাংলা ফিরছে। ৫. কলকাতা মেট্রো রেলের স্মার্ট কার্ডে বাংলা ছিল না। মেট্রো রেলের স্মার্ট কার্ডে বাংলা এসেছে বাংলা পক্ষর লড়াইয়ের ফলে। ৬. বাংলায় থাকা অধিকাংশ ব্যাংকের পরিষেবা বাংলায় পাওয়া যায় না। কিন্তু রিজার্ভ ব্যাংকের নিয়ম অনুসারে বাংলায় থাকা সব ব্যাংক বাংলায় পরিষেবা দিতে বাধ্য। বাংলা পক্ষ এই ইস্যুতে বাংলাব্যাপী লড়াই করছে। আমাদের লড়াইয়ের ফলে নানা ব্যাংকের ফর্ম ও এটিএমে বাংলা এসেছে/ আসছে। ৭. কোনও বাঙালি বিপদে পড়লে বা বহিরাগতদের দ্বারা আক্রান্ত হলে বাংলা পক্ষ সর্বদা ঝাঁপিয়ে পড়েছে।

আগামীর কিছু কথা: গত কয়েকদিন আগেই ছট পুজোয় বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য দেখেছে বাংলা, নিজের মাটিতে শঙ্কিত হয়েছে বাঙালি। বহিরাগতরা এই বাংলায় আইনের শাসন মানে না। তাই আগামীতে বাঙালিকে আত্মবিশ্বাস ও সুরক্ষা দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বাংলা পক্ষ। এনআরসি-বিরোধী লড়াই আরও সর্বাত্মক আকার নেবে। বাংলার প্রতিটা বাঙালিকে এনআরসি-বিরোধী লড়াইয়ে সামিল করাই লক্ষ্য বাংলা পক্ষর। আসানসোল শিল্পাঞ্চলে স্থানীয়দের কাজের দাবিতে রাস্তায় নামছে বাংলা পক্ষ। এবং সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে ভূমিপুত্রদের সংরক্ষণের লড়াই বাংলাব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে। এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম কয়লা খনি হবে বীরভূমের পাঁচামি এলাকায়। এই কয়লাখনির কাজ, চাকরি, টেন্ডারে ভূমিপুত্রদের অগ্রাধিকার চাই। এবং খনির মালিকানায় রাজ্যের ভাগ চাই। রাজ্যে মেডিক্যালে ভর্তিতে ডোমিসাইল বি বাতিলের দাবিতে আবারও দ্রুত আন্দোলনে নামবে বাংলা পক্ষ।

বাংলা তথা ভারতের প্রত্যেক বাঙালির কাছে আবেদন, বাংলা পক্ষে ভরসা রাখুন৷ বাংলা পক্ষ নিজেকে বাঙালি ভাবা প্রত্যেক বাঙালির নিজস্ব সংগঠন। বাঙালি জাতির দুর্দিনে বাঙালির স্বার্থে অক্লান্ত বাংলা পক্ষ, তাই আপনাদের নিকট আবেদন বাংলা পক্ষকে শক্তিশালী করুন৷ ভারতে নিপীড়িত বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের এই ঐতিহাসিক আন্দোলনের শরিক হোন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here