ডেস্ক: প্রাথমিক গন্থব্যে সে পৌঁছেই গিয়েছিল। নামার কথা ছিল রানওয়েতেই। কিন্তু যান্ত্রিক গোলযোগে তা ঠিকঠাক তো নামতে পারলই না উল্টে তা রানওয়ে থেকে স্কিড করে গিয়ে পড়ল পাশের ফুটবল মাঠে। সেখানেই দুটুকরো হয়ে পড়ে থাকা মিনিট দশ-পনেরো। তারপরেই বিস্ফোরণ দু-দুবার এবং হঠাৎ করে দাউদাউ করে জ্বলে উঠল আগুন। দ্রুত তা গ্রাস করে নিল তার গোটা দেহ। ঘটনাস্থলে দমকল পৌঁছানোর আগেই অবশ্য তার দেহের অনেকটাই ভস্মীভূত হয়ে যায়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু হলেও তার দেহের ভেতরে থাকা অনেকেই ততক্ষণে ঢলে পড়েছেন মৃত্যুর কোলে। সোমবার দুপুরে নেপালের কাঠমান্ডু ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এভাবেই দুর্ঘটনার মুখে পড়ল বাংলাদেশ বিমানের যাত্রীবাহী একটি বিমান। মারা গেলেন প্রায় ৫০ জন যাত্রী।

বাংলাদেশের ঢাকা থেকে ৬৭ জন যাত্রী ও ৪ জন বিমানকর্মী নিয়ে ভারতীয় সময় বেলা ১২টা ৫০ মিনিটে রওনা দেওয়া বিমান বাংলাদেশের এই বিমানটির কাঠমান্ডু হয়ে মার্কিন মুলুকে পাড়ি জমাবার কথা ছিল। বেসরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, বিমানের সামনের দিকে বা নোসহুইলে সমস্যা হওয়ায় বিমানের পাইলট কাঠমান্ড এটিসির সঙ্গে যোগাযোগ করে। বিমানটির পাইলট জরুরী অবতরন করতে চেয়েছিলেন বলেও জানা যায়। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো ছবি। ভারতীয় সময়ে দুপুর ২টো ২০ মিনিট নাগাদ প্রায় টলতে টলতে এসে বিমানটি আছড়ে পড়ল রানওয়েতে। তারপর স্কিড করে তা গিয়ে পড়ল পাশের ফুটবল মাঠে। সেখানে প্রায় ১০-১৫ মিনিট দাঁড়িয়ে রইল বিমানটি। অথচ সেই মূল্যবান সময়ে কাঠমান্ডু বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপই নিতে পারল না। ছুটে গেল না উদ্ধারকারী দল। আর সেই চূড়ান্ত অপেশাদারিত্বের মাশুল গুনলেন বিমানের যাত্রীরা। আবার ওই মূল্যবান সময়টিতে বিমানের ভেতর থেকেও কোন দরজা জানলা খুলে কাউকে বের হয়ে আসতে দেখা গেল না। কেন এই ধরণের ঘটনা ঘটল সেটাও একটা রহস্য।

বিমানটিতে বিস্ফোরনের জেরে আগুন ধরার পর দমকল এলেও সবাইকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকারী দল ১৭জন যাত্রীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও মারা গেলেন প্রায় ৫০ জন যাত্রী ও ৪ জন বিমানকর্মী। উদ্ধার হওয়া ১৭জনকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা হলেও মৃতের সংখ্যা যে বাড়বে না সেটা জোর দিয়ে কেউই বলতে পারছে না। তবে গোটা দুর্ঘটনা ঘিরে বেশ কিছু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যে বিমানটি দুর্ঘটনায় পড়েছে সেটি ১৭ বছরের পুরাতন। তারপরেও কেন দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে বিমানটিকে ব্যবহার করা হচ্ছিল তার সদুত্তর মেলেনি। তারপর কাঠমান্ডু বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অপেশাদারিত্ব গয়াংগচ্ছ মনোভাব। যে ১০-১৫ মিনিট সময়ে বিমানটি ফুটবল মাঠে দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল সেই ‘গোল্ডেন আওয়ার’এ কেন কাঠমান্ডু বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ কোন যুদ্ধকালীন পদক্ষেপ নিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করতে পারল না সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। ওই মূল্যবান সময়টিতে উদ্ধার কাজ শুরু হলে হয়ত বিমানের সকল যাত্রীকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হত। দুর্ঘটনার পর কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে সব রকম বিমানের ওঠানামা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বেশ কিছু বিমান বাতিল হয়, কিছু বিমানকে কলকাতা সহ অনান্য বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।পাশাপাশি শোকের ছায়া নেমে এসেছে ঢাকা বিমানবন্দরে। সেখানে ভিড় করেছেন দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটির যাত্রীদের নিকট পরিজনেরা। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কাঠমান্ডু বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ কোন হতাহতের তালিকা প্রকাশ করেনি। তাই উদ্বিগ্নতা ক্রমশ বাড়ছে ঢাকা-কাঠমান্ডু আবর্তে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here